Published : 06 Jun 2026, 08:06 AM
পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বর্জন করায় ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটারদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। নিয়ম অনুযায়ী এই ক্লাবের অমনমন নিশ্চিত হয়ে গেলেও তাদের আরও কঠোর শাস্তি দাবি করছে ক্রিকেটারদের সংগঠনটি। পাশাপাশি ব্রাদার্সের কর্মকর্তা আমিন খানের আজীবন নিষেধাজ্ঞা চায় তারা।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পারিশ্রমিক না পাওয়ায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শুক্রবারের ম্যাচে খেলেনি ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা। সময়মতো মাঠে গেলেও তারা খেলতে নামেননি। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ অগ্রনী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবে জয়ী ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি।
ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা জানান, দফায় দফায় প্রতিশ্রুতি দিয়েও পারিশ্রমিক না দেওয়ায় এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে তারা বাধ্য হয়েছেন। তাদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে কোয়াব পরে বিবৃতিতে জানায়, ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের সামনে আর পথ খোলা ছিল না।
“ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) আজ বিকেএসপিতে ওয়াকওভার ঘটনার পর ব্রাদার্স ইউনিয়নের খেলোয়াড়দের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে। খেলোয়াড়দের হতাশার মাত্রা এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল যে, তারা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেনি।”
পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বর্জনের ঘটনা ঢাকা লিগের ইতিহাসে বিরল। বিব্রতকর এই অধ্যায়ের জন্য ক্লাবকেই সবটুকু দায় দিচ্ছে ক্রিকেটারদের সংগঠন।
“ঢাকা লিগ একটি পেশাদার টুর্নামেন্ট যেখানে প্রতি মৌসুমে ৭৬টি ক্লাব অংশগ্রহণ করে। ক্লাবগুলোর জন্য প্রমোশন, লিগ টেবিলে শীর্ষস্থান ও মর্যাদার মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্ব পায়। একইসঙ্গে এই লিগই দেশের ক্রিকেটারদের জীবিকার প্রধান উৎস।”
“এই প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি যে, আজকের ওয়াকওভার ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দায়। অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচের অনেক আগেই ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা উচিত ছিল তাদের। ব্রাদার্স ইউনিয়নের খেলোয়াড়রা ঈদের আগে মোট পারিশ্রমিকের অন্তত ৩০ শতাংশ পরিশোধের জন্য ক্লাব কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করেছিল। যা উভয় পক্ষের সম্মতিতে গৃহীত হয়। কিন্তু কর্মকর্তারা তাদের কথা রাখেননি। এমনকি তুচ্ছ কারণে ক্রিকেটারদের অপমান করেছেন।”
রোববারের বিসিবি নির্বাচন শেষে বোর্ডের নতুন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে আইনি কাঠামো তৈরি করতে কাজ করবে কোয়াব।
“যেহেতু আগামী ৭ই জুনের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখন ব্যস্ত সময় পার করছে, তাই সবকিছু নিষ্পত্তি হওয়ার পর আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চাই।”
“আগামীতে এই রকম ঘটনা যাতে না হয়, তার জন্য একটা আইনি কাঠামো তৈরিতে বিসিবির সাথে কোয়াব কাজ করবে, যাতে খেলোয়াড়দের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।”
ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ঠিকমতো পরিশোধ না করায় ব্রাদার্সকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে গত কয়েক মৌসুম ধরে নিয়মিতই। তবু তাদের বিরুদ্ধে খুব বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ব্রাদার্সের কর্মকর্তা আমিন খানের বিরুদ্ধেও নানা সময়েই অভিযোগ উঠেছে বারবার।
ওয়াকওভার দেওয়ায় বাইলজ অনুযায়ী প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হয়ে গেছে ব্রাদার্সের। তবে তাদের আরও বেশি শাস্তি চায় কোয়াব। পাশাপাশি আমিন খানেও কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে সংগঠনটি।
“তবে আপাতত, আমরা দাবি করছি যে, পেশাগত দায়িত্বে চরম অবহেলার জন্য ব্রাদার্স ইউনিয়নের কর্মকর্তা আমিন খানকে বিসিবির সকল কর্মকান্ড থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হোক।”
“কোয়াব আরও আশা করে, বিসিবি যেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। যদিও লিগের বাইলজ অনুযায়ী তারা অবনমিত হয়েছে, বিসিবির উচিত ব্রাদার্স ইউনিয়নকে যথাযথ শাস্তি দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।”