Published : 09 Jan 2026, 08:28 AM
অধিনায়কেরা মাঠে নানা সময়েই ভুল করে থাকেন। বোলিং পরিবর্তন, ব্যাটিং পজিশন, মাঠ সাজানোয় অনেক কিছুই অনেক সময় পক্ষে আসে না। কোনো কোনো অধিনায়ক এসব পাত্তা দেন না, কেউ বা আক্ষেপ করেন পরে। এই যেমন মোহাম্মদ মিঠুন। স্রেফ আক্ষেপই নয়, নিজের একটি সিদ্ধান্ত প্রবলভাবে পোড়াচ্ছে তাকে। ঢাকা ক্যাপিটালস অধিনায়কের সেই ভুল কাজে লাগিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে উচ্ছ্বসিত সিলেট টাইটান্সের মইন আলি।
সিলেটে বৃহস্পতিবার ম্যাচের ১৯তম ওভার নিয়েই এত আলোচনা। ঢাকার আফগান পেসার জিয়াউর রহমান তখন মাত্রই ওভারে দুই রান দিয়ে আউট করে দিয়েছেন দুই বিপজ্জনক ব্যাটসম্যানকে। সিলেটের রান তখন ১৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৫।
মইন তখন মাত্রই ক্রিজে গিয়েছেন। ১৯তম ওভারে অফ স্পিনার নাসির হোসেনের হাত বল তুলে দেন ঢাকার অধিনায়ক মিঠুন।
এরপর যা হলো, সেটিকে বলায় যায় তাণ্ডব। তিনটি ছক্কা দুটি চার ও একটি ডাবল। ওভার থেকে মোট ২৮ রান নেন মইন। এবারের বিপিএলের সবচেয়ে খরুচে ওভার।
সেই ওভারটিই ম্যাচে গড়ে দেয় ব্যবধান। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে অকপটেই নিজের দায় মেনে নেন মিঠুন।
“এটা আসলে… আমি বলব যে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। সত্যি বলতে, এর আগে নাসির তিন ওভারে সাত রান দিয়েছে মাত্র, ওর ওপরে আমার আস্থা ছিল। যেহেতু মইন ভাই উইকেটে আসে তখন, আমার মনে হয়েছিল, তখনও বল গ্রিপ করবে বা ওর (নাসিরের) ওই সামর্থ্য আছে যে মইন ভাইকে আটকতে পারবে। বাকি পেস বোলারদের ওভারে ওই সময়ে ১০-১২ রান করে হয়ে যাচ্ছিল।”
“এটা (নাসিরকে আনা) সফল হলে তো অবশ্যই ভালো হতো। পাশাপাশি এটাও বলতে হবে, ওই সময়ে নাসিরকে বোলিংয়ে আনাটা আমার ঠিক হয়নি। আমার অনেক বড় ভুল হয়েছে। আমার হাতে যেহেতু বিকল্প ছিল, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে পারতাম।”
আগের তিন ওভারে একটি মেডেনসহ সাত রান দিয়েছিলেন নাসির। তবে তার সেই তিন ওভার শেষ হয় ১১ ওভারের মধ্যেই। টি-টোয়েন্টিতে শেষের আগের ওভারে সাধারণত স্পিন আনা হয় না। রহস্য স্পিনার কিংবা লেগ স্পিনারদের কখনও কখনও শেষের দিকে বোলিংয় আনা হলেও অফ স্পিনারদের ওপর ভরসা রাখার ব্যাপারটি বিরল।
ঢাকার দুই অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের একটি করে ওভার তখনও বাকি ছিল।
নাসিরের ২৮ রানের ওভারের পর জিয়াউরের করা শেষ ওভার থেকে আসে আরও ১৭ রান। যে দলের দেড়শ নিয়ে ছিল টানাটানি, সেই দলই শেষ দুই ওভারে ৪৫ রান তুলে পৌঁছে যায় ১৮০ রানে।
মিঠুনের পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে মইন বললেন, ওই সময়ে নাসিরকে বোলিংয়ে দেখে আকাশ থেকে পড়েননি তিনি।
“নাহ (অবাক হইনি), কারণ সে তিন ওভার বোলিং করেছিল আগে এবং আমার মনে হচ্ছিল, আমি ক্রিজে গেলে হয়তো বাকি ওভারটি করাতে পারে। তবে আমি অবশ্যই খুশির চেয়েও বেশি কিছু ছিলাম ওই সময়ে অফ স্পিনার পেয়ে, বা যে কোনো স্পিনারই হোক… কারণ, তখন শট খেলা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। আমি চেষ্টা করেছি, দিনটি আমার ছিল।”
১৮০ রানের পুঁজি নিয়ে সিলেট শেষ পর্যন্ত ৬০ রানে জিতে যায়। ৮ বলে ২৮ রান করার পর বল হাতে দুটি উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ মইন।