১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রেকর্ড আর রেকর্ড, এক ম্যাচেই এত কিছু!

বাংলাদেশকে বিব্রতকর রেকর্ড থেকে মুক্তি দেওয়াসহ এক ম্যাচেই রেকর্ডের জোয়ার বইয়ে দিল ইংল্যান্ড, অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক রেকর্ড হলো দক্ষিণ আফ্রিকার।

রেকর্ড আর রেকর্ড, এক ম্যাচেই এত কিছু!
ফিল সল্ট একাই গড়েছেন বেশ কয়েকটি রেকর্ড। ছবি: রয়টার্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Sep 2025, 06:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:17 PM

প্রথম ওভারেই ১৮ রান দিয়ে ম্যাচের শুরু। সেই আভাস পরে রূপ নিল বাস্তবতায়। ইংল্যান্ড যা করল, সেটিকে ঝড়, সাইক্লোন, তাণ্ডব বা বলা যায় যে কোনো কিছুই। ইংলিশদের রানের প্লাবনের ম্যাচে রেকর্ড বইয়েও পড়ে গেল তোলপাড়। শুক্রবার এক ম্যাচেই কত যে রেকর্ড হলো, হিসাব রাখাই কঠিন! 

তিনশর ঠিকানা

২০ ওভারে ৩০৪ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিনশ রানের তৃতীয় স্কোর এটি। তবে আইসিসি পূর্ণ সদস্য দুই দেশের লড়াইয়ে এটিই প্রথম।

গতবছর নাইরোবিতে গাম্বিয়ার বিপক্ষে ২০ ওভারে ৩৪৪ রান তুলে রেকর্ড গড়ে জিম্বাবুয়ে। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে নেপাল করেছিল ৩১৪ রান।

আন্তর্জাতিক ম্যাচের বাইরে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টির বিশ্বরেকর্ড ভারতের সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে সিকিমের বিপক্ষে গত বছর বারোদার ৩৪৯।

ইংল্যান্ডে সেরা

ইংল্যান্ডের মাঠে সব টি-টোয়েন্টি মিলিয়েই সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটি। অনেকটা পেছনে পড়ে গেছে ২০২২ সালে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে সমারসেটের ২৬৫।

বাউন্ডারির বাজার-১

চার-ছক্কা থেকেই এই ম্যাচে ২২৮ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ।

৩৪৪ রানের সেই ইনিংসে জিম্বাবুয়ে বাউন্ডারি থেকে করেছিল ২৮২ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৯৭ রানের ইনিংসে ভারত বাউন্ডারি থেকে পেয়েছিল ২৩২ রান।

বাউন্ডারির বাজার-২

এ দিন ২০ ওভারে ৩০ বার মাটি ছুঁয়ে বল সীমানা ছাড়া করেছে ইংল্যান্ড। টি-টোয়েন্টিতে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এখানে তাদের সঙ্গী জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কা।

বাউন্ডারির বাজার-৩

৩০টি চারের সঙ্গে এ দিন ১৮টি ছক্কা মেরেছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি মিলিয়ে মোট ৪৮টি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

৩০ চার ও ২৭ ছক্কা মিলিয়ে ৫৭ বাউন্ডারির বিশ্বরেকর্ড জিম্বাবুয়ের (সেই ৩৪৪ রানের ইনিংসে)।

টর্নেডোর গতি-১

পাওয়ার প্লেতে ১০০ রান তুলেছে ইংল্যান্ড, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি যা তৃতীয় সর্বোচ্চ।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে শতরানের সপ্তম নজির এটি। ২০২১ সালে সার্বিয়ার ১১৫ টপকে ৫.৪ ওভারেই ১১৬ তুলে জিতে যায় রুমানিয়া। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ১১৩ রানের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার, গত বছর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।

টর্নেডোর গতি-২

৯ ওভারে ১৫০ রান স্পর্শ করে ইংল্যান্ড, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যা দ্বিতীয় দ্রুততম। 

৮.৩ ওভারে দেড়শ ছুঁয়ে রেকর্ড বুলগেরিয়ার বিপক্ষে তুরস্কের।

টর্নেডোর গতি-৩

১০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের রান ছিল ১৬৬। বিশ্বরেকর্ড হয়নি তাদের স্রেফ ১ রানের জন্য।

প্রথম ১০ ওভারে ১৬৭ রানের রেকর্ড গত জুলাইয়ে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে তুরস্কের। 

টর্নেডোর গতি-৪

১২.১ বল খেলে দুইশ করে ফেলে ইংল্যান্ড। এখানেও ইংলিশদের ওপরে আছে কেবল তুরস্ক।

গত জুলাইয়ে সোফিয়াতে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে দুইশতে পা রাখে তারা ১১.৫ ওভারে। 

টর্নেডোর গতি-৫

দেড়শ-দুইশতে পিছিয়ে থাকলেও আড়াইশতে ঠিকই বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে ফেলে ইংল্যান্ড।

১৬.২ ওভারে পা রাখে তারা আড়াইশতে। গাম্বিয়ার বিপক্ষে ৩৪৪ রানের সেই ইনিংসে জিম্বাবুয়ের আড়াইশ হয়েছিল ১৬.২ ওভারেই।

ভূমিধস জয়

রেকর্ড রানের ম্যাচে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানেও হয়েছে রেকর্ড।

১৪৬ রানের জয় টি-টোয়েন্টি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতেছিল তারা ১৩৭ রানে।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি সবচেয়ে বড় পরাজয়। গত বছর ভারতের কাছে হেরেছিল তারা ১৩৫ রানে।

আইসিসি পূর্ণ সদস্য দুই দলের লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের এই ব্যবধান তৃতীয় বৃহত্তম। ওপরের দুটিই ভারতের, ১৬৮ রানে জিতেছে তারা নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৬০ রানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

রান-প্রবাহ

দুই দল মিলিয়ে এই ম্যাচে রান উঠেছে ৪৬২। ইংল্যান্ডের মাঠে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যা সর্বোচ্চ। 

গত জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ইংল্যান্ডের লড়াইয়ে রান উঠেছিল ৪৫৯।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় এই ম্যাচ আছে আট নম্বরে। দক্ষিণ আফ্রিকা আরেকটু ভালো ব্যাট করলে এই অবস্থান উঠতে পারত ওপরে। 

এক টি-টোয়েন্টিতে ৫১৭ রানের বিশ্বরেকর্ড হয়েছে ২০২৩ সালে। সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৫৮ রান টপকে সাত বল বাকি রেখে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছিল ছয় উইকেটে।

সল্টের কীর্তি -১

ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডে নিজেকেই বেশ কিছুটা ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় উঠেছেন ফিল সল্ট। 

২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার ১১৯ ছিল ইংলিশদের আগের সেরা। এবার সল্ট করেছেন ৬০ বলে অপরাজিত ১৪১।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সব দল মিলিয়ে সপ্তম সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এটি। ১৭২ রানের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চের।

সল্টের কীর্তি -২ 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি হলো এখন ১৪টি। তবে বাবর আজমকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বড় ইনিংসটি এখন সল্টের। 

বাবর ৫৯ বলে ১২২ রান করেছিলেন ২০২১ সালে সেঞ্চুরিয়নে।

সল্টের কীর্তি -৩

৩৯ বলে তিন অঙ্কে পা রেখেছেন সল্ট, ইংল্যান্ডের হয়ে যা দ্রুততম শতরান। ৪২ বলে সেঞ্চুরির আগের রেকর্ড ছিল লিয়াম লিভিংস্টোনের।

সল্টের কীর্তি -৪

ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করলেন সল্ট। ৪২ ইনিংসের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেই চারটি শতরান হয়ে গেল তার। ইংল্যান্ডের অন্য সবার মিলে সেঞ্চুরি আছে আর চারটি!

সল্টের কীর্তি -৫

চারটি সেঞ্চুরিতে সলট স্পর্শ করলেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে। বিশ্বরেকর্ড ছুঁতে প্রয়োজন স্রেফ আর একটি শতরান।

রেকর্ড ৫টি সেঞ্চুরি রোহিত শার্মা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের।

সল্ট-বাটলারের বন্ধন

ফিল সল্ট ও জস বাটলারের উদ্বোধনী জুটিতে ৫০ রান আসে ২০ বলেই।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শুরুর জুটিতে এত দ্রুত ফিফটি আছে আর একটিই। সাবিয়ার বিপক্ষে ২০ বলেই ৫০ স্পর্শ করেন রুমানিয়ার তারানজিৎ সিং ও রামেশ সাথিসান। 

দক্ষিণ আফ্রিকার দুঃস্বপ্ন

কাগিসো রাবাদা চার ওভারে রান দিয়েছেন ৭০, লিজাড উইলিয়ামস তিন ওভারে ৬২ ও মার্কো ইয়ানসেন চার ওভারে ৬০। আন্তর্জাতিক-ঘরোয়া মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম একই দলের তিন বোলার এক ম্যাচে ৬০ বা এর বেশি রান দিলেন।

দুই বোলারের এমন রান দেওয়ার নজির আছে ৯টি।

রাবাদার বিভীষিকা-১

চার ওভারে ৭০ রান দিয়েছেন কাগিসো রাবাদা। ক্যারিয়ারে আগে কখনও ৫৭ রানের বেশি দেননি অভিজ্ঞ এই পেসার।

শুধু তার নিজেরই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার হয়েও এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার নজির এটি। ২০১৫ সালে চার ওভারে ৬৮ রান দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি আগে ছিল কাইল অ্যাবটের।

রাবাদার বিভীষিকা-২

নিজের প্রথম ওভারে কেবল সাত রান দিয়েছিলেন রাবাদা। পরের তিন ওভারে তিনি গুনেছেন ২০,২৩ ও ২০ রান। 

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে তিন ওভারে ২০ বা এর বেশি রান দেওয়া প্রথম বোলার তিনিই।

তুলাধুনা উইলিয়ামস

তিন ওভার বোলিং করেই এ দিন ৬২ রান দিয়েছেন লিজাড উইলিয়ামস। এর মধ্যে ৫০ রান দিয়েছেন তিনি স্রেফ ২.১ ওভারেই!

তার চেয়ে কম ডেলিভারিতে রান দেওয়ার ফিফটি করেছেন আর মাত্র দুজন বোলার। গত জুনে বেলজিয়ামের বিপক্ষে রুমানিয়ার বাসু সাইনি ৫০ রান দেন ১.৪ ওভারেই। ২০২৩ সালে নেপালের বিপক্ষে মঙ্গোলিয়ার মালগুন আল্টানখুয়াগ ৫০ হজম করেন ২ ওভারে।