Published : 07 Jan 2026, 10:40 PM
খেলার উত্তেজনা শেষ হয়ে গিয়েছিল ম্যাচ শেষের বেশ আগেই। সিলেট এগিয়ে যাচ্ছিল আরেকটি পরাজয়ের দিকে। তবু মাঠে রয়ে গিয়েছিলেন হাজার দুয়েক দর্শক। শেষ সময়ে তাদেরকে বিনোদনের খোরাক জোগালেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। মূলত পেসার হলেও দশ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ কিছু শট খেলে গ্যালারি মাতিয়ে তুললেন তিনি। স্থানীয় দর্শকদের প্রাপ্তি বলতে ওইটুকুই।
সিলেট টাইটান্সকে ১৪ রানে হারিয়ে আবার বিপিএলের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠল চট্টগ্রাম রয়্যালস।
শেষ পর্যন্ত ব্যবধান খুব বড় না হলেও আদতে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। শেষ দিকে খালেদ ব্যবধান কমান একটু।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার চট্টগ্রাম ২০ ওভারে তোলে ১৯৮ রান। এবারের আসরে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটি।
চট্টগ্রামের ইনিংসে ফিফটি ছিল না একটিও। সম্মিলিত ও কার্যকর ব্যাটিং পারফরম্যান্সের নজির মেলে ধরে দলটি।
মাত্র এক রানের জন্য বিপিএলে টানা চার ফিফটির অনন্য কীর্তি গড়তে পারেননি চট্টগ্রামের ইংলিশ ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন। দুর্দান্ত দুটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন মাহমুদুল হাসান জয় ও শেখ মেহেদি হাসান।
রান তাড়ায় চট্টগ্রাম আটকে যায় ১৮৪ রানে। শেষ দিকে ৩ ছক্কায় ৯ বলে ২৫ রান করেন খালেদ।
আগের তিন ম্যাচে তিনটি উইকেট নিতে পারা পেসার আমির জামাল এবার এক ম্যাচেই নেন চার উইকেট।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রামের ইনিংস শুরু হয় বাউন্ডারির স্রোতে। প্রথম চার ওভারে ছয়বার বল সীমানা ছাড়া করেন রসিংটন ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
বাঁহাতি নাঈমের জন্য মইনকে আক্রমণে আনা হয় তৃতীয় ওভারে। এই অফ স্পিনারের পরের ওভারেই কাজে লেগে যায় তা। স্লগ করে উইকেট হারান নাঈম (১৫ বলে ১৮)।

সেই ধাক্কাকে পাত্তা না দিয়ে চোখধাঁধানো সব শট খেলতে থাকেন মাহমুদুল হাসান জয়। আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ে এক ওভারে দুটি ছক্কা একটি চার মারেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে ওঠে ৬০ রান।
জয় দ্রুততায় ছুটতে থাকেন ফিফটির পথে। রুয়েল মিয়াকে দারুণ দুটি ছয় মারেন তিনি টানা দুই বলে। তবে আউট হয়ে যান পরের বলেই (২১ বলে ৪৪)।
রসিংটনের ইনিংসের গতি তখন্ পর্যন্ত খুব প্রত্যাশিত ছিল না। ৫টি বাউন্ডারি মারলেও ২৭ বল খেলে ৩২ রান ছিল তার। পরে টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন সৈয়দ খালেদ আহমেদকে। বিপিএলের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চার ম্যাচে ফিফটি করার খুব কাছাকাছ গিয়ে কাটা পড়েন তিনি (৩৮ বলে ৪৯) সেই রুয়েলের বলেই।
এমনিতে আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হলেও হাসান নাওয়াজের শুরুটা এ দিন ছিল মন্থর। পরে খালেদকে টানা দুটি ছক্কায় জেগে ওঠার ইঙ্গিত দিলেও আউট হয়ে যান রুয়েলের বলে (২০ বলে ২৫)। দুটি চার মেরে বিদায় নেন আরেক পাকিস্তানি আসিফ আলিও।
এরপর ইনিংসের শেষটা দুর্দান্ত করেন শেখ মেহেদি হাসান। শেষ তিন ওভারে ৩৯ রান তোলে চট্টগ্রাম, এর ৩৩ রানই আসে অধিনায়কের ব্যাট থেকে।
রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই আউট হন পারভেজ হোসেন ইমন (২)। চার নম্বরে নেমে টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালো করেছিলেন এই বাঁহাতি, কিন্ত ওপেন করে ব্যর্থ হলেন টানা দুই ম্যাচে।
তৌফিক খান তুষার ও আফিফ হোসেন চেষ্টা করেন পাল্টা আক্রমণের পাশাপাশি জুটি গড়ার। পাওয়ার প্লের নাটকীয় শেষ ওভারে বদলে যায় চিত্র। আমির জামালকে ছক্কা মারার এক বল পরে আউট হয়ে যান তৌফিক (১৯ বলে ২৩)। রনি তালুকদার গিয়ে প্রথম বলেই ছক্কা মেরে দেন হুক করে। জামালের পরের বলে আউট হয়ে যান তিনিও।
আফিফ হোসনকে মনে হচ্ছিল যেন নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন। কিন্তু আসরে প্রথম ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়ে তিনি বিদায় নেন তানভির ইসলামকে রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টায় (৩৩ বলে ৪৬)।
এরপর ভালো কিছু করতে পারেননি সিলেটের দুই অলরাউন্ডার মইন আলি ও ওমারজাইও। হাসান নাওয়াজের অফ স্পিনে ছক্কা মারার পরের বলে বোল্ড হয়ে যান মইন।
পাকিস্তানি এই ক্রিকেটার আগের ৭১ ম্যাচে মাত্র তিন ওভার বল করে রান দিয়েছিলেন ৪১। স্বীকৃত ক্রিকেটে তার প্রথম শিকার মইন।
এরপর ইথান ব্রুকস ফেনে ১০ বলে ২০ রান করে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এ দিন বোলিং করেননি, ব্যাটিংয়ে আটে নেমে করেন ১৪ বলে ১৭।
সিলেট তখন বড় পরাজয়ের মুখে। খালেদ ক্রিজে নেমে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য দেখিয়ে কমালেন ব্যবধান। বল হাতে এ দিন ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খরুচে ম্যাচ, ৪ ওভারে রান দেন ৫৫। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে পুষিয়ে দেন কিছুটা।
ছয় ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে এখন শীর্ষে চট্টগ্রাম। এক ম্যাচ কম খেলে সমান পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে দুইয়ে রংপুর রাইডার্স।
সিলেটের এটি সাত ম্যাচে চতুর্থ পরাজয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৯৮/৫ (নাঈম ১৮, রসিংটন ৪৯, জয় ৪৪, নাওয়াজ ২৫, আসিফ ১৩, শেখ মেহেদি ৩৩*, জামাল ৬*; রুয়েল ৪-০-৪১-৩, খালেদ ৪-০-৫৫-০, মইন ৪-০-২৩-১, নাসুম ৪-০-২৪-০, ওমারজাই ৪-০-৪৭-১ )।
সিলেট টাইটান্স: ১৯.৪ ওভারে ১৮৪ (তৌফিক ২৩, পারভেজ ২, আফিফ ৪৬, রনি ৬, মইন ১৩, ওমারজাই ১৮, ব্রুকস ২০, মিরাজ , নাসুম ০, খালেদ ২৫, রুয়েল ০*; শরিফুল ৪-০-৩৯-২, আবু হায়দার ৪-০-৩৫-১, শেখ মেহেদি ৪-০-৩০-০, জামাল ৪-০-৩৯-৪, নাওয়াজ ১-০-৮-০, তানভির ২.৪-০-৩৮-২)।
ফল: চট্টগাম রয়্যালস ১৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: মাহমুদুল হাসান জয়।