উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপ
Published : 13 Oct 2025, 10:57 PM
হাতছাড়া হলো কয়েকটি ক্যাচ, নষ্ট হলো রান আউটের একাধিক সুযোগ। সেসবের চড়া মূল্যই দিতে হলো বাংলাদেশকে। স্বর্ণা আক্তারের রেকর্ড গড়া ফিফটিতে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে অল্পে রানে দক্ষিণ আফ্রিকার পাঁচ উইকেট নিয়েও পারল না নিগার সুলতানার দল।
উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপে সোমবার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৩৩ রানের লক্ষ্য তিন বল হাতে রেখে পেরিয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভিশাখাপাত্নামে মন্থর উইকেটে একপর্যায়ে ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের ওপর সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। ষষ্ঠ উইকেটে ৮৫ রানের জুটিতে ম্যাচ অনেকটা বের করে নেন মারিজান ক্যাপ ও ক্লোয়ি ট্রায়ন। পরে দুটি ত্রিশোর্ধ জুটিতে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যায় তারা।
শেষ দিকেও সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন যখন ৮ বলে ৯ রান, লং-অফে নেডিন ডে ক্লার্কের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন দলের সেরা ফিল্ডারদের একজন স্বর্ণা। সেই ডি ক্লার্ক শেষ ওভারে ৮ রানের সমীকরণে নাহিদা আক্তারের প্রথম তিন বলে একটি করে চার ও ছক্কায় শেষ করে দেন ম্যাচ। ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ২৯ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
৬ চার ও এক ছক্কায় ৬৯ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান ট্রায়ন।
জয়ে আসর শুরুর পর টানা তৃতীয় হারের তেতো স্বাদ পেল বাংলাদেশ। উল্টো অভিজ্ঞতা দক্ষিণ আফ্রিকার। হারে শুরুর পর টানা তিন ম্যাচ জিতল তারা রান তাড়া করে। আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষেও ৩ উইকেটে জিতেছিল লরা উলভার্টের দল।
ক্যাচ ফেলে স্বর্ণার শেষটা বিষাদের হলেও ব্যাট হাতে দারুণ এক দিন কাটে তার। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়ে ৩৫ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি ৩টি করে চার ও ছক্কায়। তিনিসহ বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ ব্যাটারই স্পর্শ করেন অন্তত ২৫ রান। ৭৭ বলে ৫০ রান করেন শারমিন আক্তার।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ফারজানা হক ও রুবাইয়া হায়দারের ৫৩ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। ৫২ বলে ২৫ রান করে ফেরেন রুবাইয়া। দুই ম্যাচ পর ফেরা ফারজানা ৩০ রান করতে বল খেলেন ৭৬টি।
তৃতীয় উইকেটে ৯১ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন শারমিন ও নিগার। ৫ চারে ৪২ বলে ৩২ রান করে ফেরেন অধিনায়ক। ফিফটির পরপরই রান আউটে কাটা পড়েন শারমিন।
সোবহানা মোস্তারি ও রাবেয়া খান টিকতে পারেননি। দলকে এগিয়ে নেন মূলত পাঁচ নম্বরে নামা স্বর্ণা। রিতুর সঙ্গে তার ১৮ বলে ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেট জুটিতে ২৩২ পর্যন্ত যায় বাংলাদেশ।
শেষ ওভারে স্বর্ণা ফিফটি করেন ৩৪ বলে। বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল এতদিন নিগারের, ৩৯ বলে।
৩টি চারে ৮ বলে ১৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন রিতু।
বোলিংয়েও বাংলাদেশের শুরুটা হয় দারুণ। দ্বিতীয় ওভারে নিজের প্রথম বলেই তাজমিন ব্রিটসকে ফিরতি ক্যাচে ফেরান বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা। পাঁচ ইনিংসের মধ্যে চার সেঞ্চুরির পর টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানে ফিরলেন ব্রিটস।
আরেক ওপেনার লরা ভলভার্টকেও ফেরানো যেত দ্রুতই। চতুর্থ ওভারে তার ফিরতি ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। ১১ রানে জীবন পান দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক।
ভলভার্ট ও আনেকা বশের ৫৫ রানের জুটি এগিয়ে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। অবশ্য তিন বলের মধ্যে থিতু দুই ব্যাটারকেই ফিরিয়ে দেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় রানের চেষ্টায় ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন ভলভার্ট (৫৬ বলে ৩১)। রিতুকে চার মারার পরের বলে সোবহানার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বশ (৩৫ বলে ২৮)।
ডার্কসেনকে দ্রুতই ফেরান রাবেয়া। একটু পর সিনালো জ্যাফটাকে ফাহিমা বিদায় করে দিলে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগে-পরে মিলিয়ে ৪২ বলে কোনো বাউন্ডারি পায়নি তারা।
শিশিরের কারণে বল গ্রিপ করতে সমস্যা হচ্ছিল বোলারদের। কিছু আলগা বল করেন তারা। তাতে আলগা হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার চাপ, বড় জুটি গড়েন ক্যাপ ও ট্রায়ন।
স্বর্ণার ক্যাচে ক্যাপকে (৭১ বলে ৫৬) ফিরিয়ে জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন নাহিদা। ৪৬ রানে ট্রায়নকে ফেরানোরও সুযোগ এসেছিল, কিন্তু মিড উইকেটে ক্যাচ নিতে পারেননি বদলি ফিল্ডার সুমাইয়া। সেই বলে বাউন্ডারিতে ট্রায়ন ফিফটি পূর্ণ করেন ৬৪ বলে।
জীবন পেয়ে পরের বলেই রাবেয়াকে ছক্কায় ওড়ান ট্রায়ন, তিন বল পর মারেন চার। পরের ওভারে রান আউটে তাকে থামাতে পারে বাংলাদেশ। কিন্তু রান আউটের সুযোগ নষ্ট আর ডে ক্লার্কের ক্যাচ ফেলে আরেকবার স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় মাঠ ছাড়তে হয় নিগারদের।
চলতি আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৩২/৬ (ফারজানা ৩০, রুবাইয়া ২৫, শারমিন ৫০, নিগার ৩২, স্বর্ণা ৫১, সোবহানা ৯, রাবেয়া ০, রিতু ১৯*; ক্যাপ ৬-০-২৭-০, ক্লাস ৬-০-২২-০, ডে ক্লার্ক ৯-০-৩৯-১, ট্রায়ন ১০-০-৪১-১, সেখুখুনে ৯-০-৫৭-০, এমলাবা ১০-০-৪২-২)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৯.৩ ওভারে ২৩৫/৭ (ভলভার্ট ৩১, ব্রিটস ০, বশ ২৮, ডার্কসেন ২, ক্যাপ ৫৬, জ্যাফটা ৪, ট্রায়ন ৬২, ডি ক্লার্ক ৩৭*, ক্লাস ১০*; মারুফা ৪-০-২৭-০, নাহিদা ৯.৩-০-৪৪-২, রাবেয়া ১০-০-৪৮-১, ফাহিমা ১০-০-৫১-১, রিতু ১০-১-২৯-১, স্বর্ণা ৪-০-২৫-০, সোবহানা ২-০-৯-০)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: ক্লোয়ি ট্রায়ন