Published : 24 Dec 2025, 11:16 AM
‘সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি!’ ভারতীয় নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই প্রবাদই যেন মনে পড়ছে মোহাম্মাদ কাইফের। শুবমান গিলকে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ফেরানো এবং বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নির্বাচকদের চরম ভুল দেখছেন সাবেক এই ব্যাটসম্যান। তার মতে, ক্ষতিটা হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের।
গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের আগে অনেকটা হুট করেই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ১৩ মাস পর ফেরানো হয় গিলকে। অনেক প্রশ্ন উঠেছিল তখনই। পরে সময়ের সঙ্গে প্রশ্নগুলি আরও উচ্চকিত হয়ে ওঠে গিলের পারফরম্যান্সের কারণে। এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া সফর ও দেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ, কোথাও তিনি ভালো করতে পারেননি। ফেরার পর ১৫ টি-টোয়েন্টিতে খেলে কোনো ফিফটি তিনি করতে পারেননি।
তাকে ফেরানোর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অন্যদের ওপরও। সাঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং পজিশন বদলাতে হয়েছে, দলে জায়গা নড়বড়ে হয়েছে, তাকে বাদও পড়তে হয় এক পর্যায়ে। অথচ গত বছর পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এই সংস্করণে তাকে দারুণ কার্যকর মনে করা হয়। ইয়াসাসভি জয়সওয়ালের মতো আগ্রাসী ব্যাটসম্যান দারুণ রেকর্ডের পরও সুযোগ পাচ্ছেন না।
টানা সমালোচনার পর অবশেষে ভারতের বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়নি গিলকে। এই সিদ্ধান্তটিকে সঠিকই মনে করেন কাইফ, তবে তার আপত্তি সময়টা নিয়ে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সাবেক ব্যাটসম্যান বললেন, নির্বাচকদের পরিকল্পনাহীনতাই ফুটে উঠেছে এখানে।
“গিলকে আপনারা বয়ে নিলেন এবং শেষ মুহূর্তে বাদ দিলেন। আমার মতে, সিদ্ধান্তটি সঠিক, কিন্তু অনেক দেরিতে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি ঠিক, কিন্তু পরিকল্পনা শূন্য। কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। পরিকল্পনার নামে সময় নষ্ট করা হয়েছে। এখন এমন ক্রিকেটারদের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে, যে তৈরি নয়। অথচ আগেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া যেত। তার (গিলের) চেয়ে ভালো ব্যাটার তো ছিলই।”
কাইফের মতে, শেষ সময়ে বাধ্য হয়েই গিলকে বাদ দিতে হয়েছে। এতে ভারতীয় ক্রিকেটকেই ভুগতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
“এখন এমন অবস্থা, তাকে বাদ না দিয়ে উপায় ছিল না। ১৭-১৮ ইনিংসে (১৫ ইনিংস) রান না পাওয়ার পর আর কোনো পথ খোলা ছিল না। আর কত সুযোগ দেওয়া যায়! চাপ বাড়ছিল। তাকে তারা বাদ দিতে চায়নি কিন্তু আর উপায় ছিল না। আমার মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের সময় নষ্ট হয়েছে এতে।”
“তারা জানত যে, আরও ভালো ব্যাটার আছে। টি-টোয়েন্টিতে গিলের চেয়ে ভালো ব্যাটার আছে। এখানে ভুলটা নির্বাচকদের এবং তাদের ভুলে ভারতীয় ক্রিকেট পেছনের দিকে গেছে। এই দুই-তিন মাসে জয়সওয়াল, স্যামসন, জিতেশের মতো ব্যাটারদের ওপর বিনিয়োগ করা যেত।”
শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, কাইফ ভুল দেখছেন নেতৃত্বের জায়গাতেও। গিলকে ফেরানোর পর তাকে সহ-অধিনায়কও করা হয়েছিল দলের। সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল আকসার প্যাটেলকে। এখন গিল বাদ পড়ায় আবার আকসার পেয়েছেন সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব। কাইফ বলছেন, এখানেও অন্যায় করা হয়েছে আকসারের প্রতি, তাতে ক্ষতিটা হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটেরই।
“সহ-অধিনায়ক হিসেবে আকসার প্যাটেলের ক্ষতি হয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেটেরও ক্ষতি হয়েছে। স্কোয়াড যদিও খুব ভালো এখনও, সেটা নিয়ে সংশয় নেই। তবে আকসার যদি সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে যেত, টিম মিটিংগুলোতে সে থাকত, নেতৃত্ব নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেত।”
“ধরুন যদি সুরিয়া (অধিনায়ক সুরিয়াকুমার) যদি চোট-টোট পেয়ে যায়, আকসারকে তো অধিনায়কত্ব করতে হবে। সে যদি ওই দুই-তিন মাসে সহ-অধিনায়ক থাকত, দলকে ও সতীর্থদেরকে আরও ভালোভাবে জানতে পারত। কোনো প্রয়োজনে অধিনায়কত্ব করতে হলে সে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকত। সেই সুযোগ তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হয়েছে।”