Published : 20 Feb 2026, 04:46 PM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট নিয়ে সদ্যবিদায়ী যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল চরম মিথ্যাচার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের এমন ‘ইউ-টার্ন’ মানতেই পারছেন না বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ। আসিফ নজরুলের কথা শুনে দুজন ক্রিকেটার একরকম কোমায় চলে গিয়েছিলেন বলেও জানালেন এই কোচ।
বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে ১৯ দিনের ব্যবধানে দুইরকম দাবি করেন আসিফ নজরুল। শুরুতে তিনি বলেছিলেন, সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র বাংলাদেশ সরকারের। তবে পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আসিফ নজরুলের এমন অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল দেশের ক্রিকেট আঙিনায়। সময়ের সঙ্গে তা স্তিমিত হয়েও আসে। জাতীয় নির্বাচনের পর আসিফ নজরুল এখন আর উপদেষ্টার দায়িত্বে নেই।
এবার সেই প্রসঙ্গই আবার উজ্জীবিত করলেন সালাউদ্দিন। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেশের ক্রিকেটের সফল এই কোচ বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আসিফ নজরুলকে নিয়ে।
“উনি একেবারে মানে এমন মিথ্যা কথা বলেছেন, আমার আমি তো নিজেও শিক্ষক মানুষ, শিক্ষকরা তো একটু মিথ্যা কম বলে। কারণ উনি খাড়ার ওপর এরকম মিথ্যা কথা বলবে, এটা আসলে আমি ভাবতেই পারছি না। আমি কীভাবে ছেলেদের সামনে আসলে মুখ দেখাব! ছেলেরা উনি এভাবে ইউ-টার্ন নেবেন!
“উনি একটা শিক্ষক মানুষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উনি। মানে আমার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন মানুষ, উনি এভাবে মিথ্যা কথা বলবেন, এটা আসলে আমরা মানতে পারছি না। মানাটা আসলে… মানে কীভাবে মানব এটা…আসলে আমার বলার মতো নয় যে, উনি কী বলে আসলেন আর এসে কীভাবে ইউ-টার্ন নিলেন।”
গত ২২ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছিলেন, “আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা—এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কি না, সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারও বিবেচনার স্কোপ নেই।”
বাংলাদেশের চাওয়া ছিল ভারত থেকে সরিয়ে ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়। কিন্তু বেশ কিছুদিনের টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় আইসিসি।
তবে গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কার্যদিবসে তিনি বলেন অন্য কথা। বিশ্বকাপ না খেলায় কোনো আক্ষেপ আছে কি না, এই প্রশ্নে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, “কোনো রিগ্রেট? প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের ক্রিকেট… আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে, দেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে, আমার মনে হয়, এটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
তার এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর অবশ্য তিনি সামাজিক মাধ্যমে বলেছিলেন, তার কথার “প্রেক্ষিত ও অন্তর্গত বার্তাকে উপলব্ধি না করে উপস্থাপিত হওয়ার কারণে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সিদ্ধান্তটি সরকারের ছিল বলেই আবার জানান তিনি। তবে ক্রিকেটারদের মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েই গেছে, তা সালাউদ্দিনের কথাতেই স্পষ্ট।
বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় ক্রিকেটারদের হতাশার ব্যাপারটিও গত কিছুদিনে নানা জনের কথাতে উঠে এসেছে। এবার সালাউদ্দিন বললেন সেই ধাক্কা কতটা তীব্র ছিল কিছু ক্রিকেটারের জন্য।
“একটা ছেলে যখন বিশ্বকাপ খেলবে… সে তার ২৭ বছরের স্বপ্ন এখানে নিয়ে এসেছে। স্বপ্নটা আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দেবেন! ঠিক আছে দেশের সিদ্ধান্ত যদি দেশের কারণে হয় তখন সেটা তারা ত্যাগ (স্বীকার) করবে। কিন্তু যদি বলেন ক্ষতির কথা… ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা আমি বলব… একটা ছেলের, একটা মানুষের স্বপ্ন আমি সম্পূর্ণ শেষ করে দিচ্ছি।”
“আমি তো জানি আমার দুইটা ক্রিকেটার কোমাতে চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল। তাকে যে আমরা ওই যে টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি, ওইটাই বেশি। আমার মনে হয় এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার কোচিং জীবনে যে, সে মাঠে এসে আবার রান করেছে।”
বিশ্বকাপ খেলতে না পারারা হতাশা থেকে বের হয়ে আসা ক্রিকেটারদের জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করেন সালাউদ্দিন। তবে পেশাদারিত্বের দাবি মিটিয়ে তাদেরকে সামনে তাকানোর তাগিদ দিলেন তিনি।
“স্রেফ চিন্তা করেন, বিশ্বকাপে খেলব আমরা, এক বছর আগে থেকেই আমরা স্বপ্ন দেখছি। আমি নাহয় কোচিং স্টাফ, আমি কোনো ফ্যাক্টর না। ঠিক আছে। কিন্তু যে ক্রিকেটার, যে অধিনায়ক…এক-দেড় বছর ধরে সে কিন্তু বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার জন্য এটা আসলে কতটা বেদনাদায়ক, সেটা সে-ই ভালো জানে। আমরা যতই তাকে সান্ত্বনা দেই, যতই অনুপ্রেরণা দেই, যতই বকাঝকা করি, আসলে দিনশেষে তার জন্য তো এটা অনেক বড় ক্ষতি।”
“তবে আমার মনে হয় যে, এটাও আসলে ওভারকাম করতে হবে। এটাও কাটিয়ে ওটা তাদের শিখতে হবে। মাঝে মাঝে আপনাকে চরম সত্যি থেকে আসলে বাধ্য হবে। মেনে নিতে হবে, একটু মেনে নিতে হবে।”