এসএ টোয়েন্টি
Published : 25 Jan 2026, 11:52 PM
প্রায় একার চেষ্টায় প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছিলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। তার সতীর্থদের শুরুর বোলিংয়ে মনে হচ্ছিল, এই রানই যথেষ্ট। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে শতরানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ব্যবধান গড়ে দিলেন ম্যাথু ব্রিটস্কি ও ট্রিস্টান স্টাবস। তাদের ব্যাটে এসএ টোয়েন্টিতে তৃতীয় শিরোপা জিতল সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ।
কেপ টাউনে রোববার ফাইনালে ৬ উইকেটে জিতেছে ইস্টার্ন কেপ। প্রিটোরিয়ার ১৫৮ রান চার বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেছে তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে চার আসরেই ফাইনালে খেলা ইস্টার্ন কেপ গতবার একপেশে ফাইনালে হেরেছিল এমআই কেপ টাউনের বিপক্ষে। এবার শিরোপা পুনরুদ্ধার করল তারা।
২০২৩ সালের ফাইনালে ২ রানে হেরেছিল প্রিটোরিয়া। এবার ব্রেভিসের সেঞ্চুরিতে আশা জাগিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারল না তারা। পঞ্চম উইকেটে ৬৫ বলে ১১৪ রানের জুটিতে ইস্টার্ন কেপকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেলেন ব্রিটস্কি ও অধিনায়ক স্টাবস।
৭ ছক্কা ও ৮ চারে ৫৬ বলে ১০১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ফাইনালের সেরা অবশ্য ব্রেভিসই।
নিউল্যান্ডসে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানে কনর এস্টেজেনকে হারায় প্রিটোরিয়া। ১ রান করে ফেরেন শেই হোপ।
প্রথম ৭ বলে ১ রানে ২ উইকেট হারানো প্রিটোরিয়া এগিয়ে যায় ব্রেভিসের ব্যাটে। তৃতীয় উইকেটে ব্রাইস পারসন্সের সঙ্গে ৬৬ বলে তিনি গড়েন ৯৮ রানের জুটি।
১২ ওভারে প্রিটোরিয়ার রান ছিল ২ উইকেটে ৯৮। সেখান থেকে পরের ৮ ওভারে কেবল ৬০ রান যোগ করতে পারে দলটি।
৩০ বলে ৩০ রান করে পারসন্স রান আউট হলে ভাঙে বিপজ্জনক জুটি। এর আর কেউ তেমন একটা সঙ্গ দিতে পারেননি ব্রেভিসকে। প্রায় একার চেষ্টায় দলকে দেড়শ রানে নিয়ে যান তিনি।
৫৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ব্রেভিস। টি-টোয়েন্টিতে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। দুই ছক্কায় ১১ বলে ১৭ রান করেন শেরফেন রাদারফোর্ড।
৪ ওভারে কেবল ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ইস্টার্ন কেপের অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেন। গতিময় পেসার আনরিখ নরকিয়া ১ উইকেট নেন ১৯ রানে।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারে উইকেট হারায় ইস্টান কেপও। শূন্য রানে বিদায় নেন জনি বেয়ারস্টো। দ্বিতীয় উইকেটে কুইন্টন ডি কক ও ব্রিটস্কির জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেয় দলটি।
পাওয়ার প্লের শেষ বলে ডি কক আউট হলে ভাঙে ৩৪ রানের জুটি। দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারালে চাপে পড়ে যায় ইস্টার্ন কেপ।
৪৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে টানেন ব্রিটস্কি ও স্টাবস। তাদের লড়াইয়ের পরও সমীকরণ ছিল বেশ কঠিন। শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪২ রান।
গিডয়ন পিটার্সের করা ১৮তম ওভারে ২১ রান নিয়ে সমীকরণ অনেকটাই সহজ করে ফেলেন দুই ব্যাটসম্যান।
লুঙ্গি এনগিডির পরের ওভারে আসে ১২ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। পারসন্সের প্রথম দুই বল ছক্কায় উড়িয়ে ম্যাচের ইতি টেনে দেন স্টাবস। ৪১ বলে ৪ ছক্কা ও ২ চারে ৬৩ রান করেন তিনি। ৪৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রান করেন ব্রিটস্কি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৫৮/৭ (এস্টেজেন ০, পারসন্স ৩০, হোপ ১, ব্রেভিস ১০১, কক্স ৩, রাদারফোর্ড ১৭, চেইস ৪*, মহারাজ ০, উইলিয়ামস ০*; ইয়ানসেন ৪-১-১০-৩, সিপামলা ৪-০-৩৭-১, নরকিয়া ৪-০-১৯-১, কোলস ২-০-৩১-০, মুথুসামি ৪-০-৩৩-০, গ্রিন ২-০-২৮-০)
সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ: ১৯.২ ওভারে ১৬২/৪ (ডি কক ১৮, বেয়ারস্টো ০, ব্রিটস্কি ৬৮*, হার্মান ৩, কোলস ১, স্টাবস ৬৩*; এনগিডি ৪-০-৩০-১, চেইস ৪-০-২৭-১, উইলিয়ামস ৪-০-২৬-১, পিটার্স ২-০-২৭-০, মহারাজ ৪-০-২৩-১, পারসন্স ১.২-০-২৩-০)
ফল: সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ ৬ উইকেটে জয়ী ও চ্যাম্পিয়ন
ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেওয়াল্ড ব্রেভিস