Published : 01 Mar 2025, 10:15 AM
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় আফগানিস্তানের জন্য ভালো হলো নাকি খারাপ, বলা কঠিন। তবে ম্যাচের যা অবস্থা ছিল, তাতে খেলা না হওয়ায় আফগানদের অখুশি থাকার কথা নয়। ম্যাচটি জিততে পারলে তাদের সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত হতো বটে। তবে হেরে গেলেই বাদ পড়তে হতো। হাশমাতউল্লাহ শাহিদির দল হারার পথেই ছিল অনেকটা।
রান তাড়ায় ১২.৫ ওভারেই ১০৯ রান তুলে ফেলেছি অস্ট্রেলিয়া। যদিও ক্রিকেটে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না, তবে ২০ ওভার খেলা হলে কিংবা পুরো খেলা হলেও অস্ট্রেলিয়ানদের জয়ের সম্ভাবনাই ছিল বেশি। বৃষ্টির কারণে খেলা না হওয়ায় আফগানদের শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা টিকে আছে এখনও। তবে সেই সমীকরণও আসলে অনেকটাই গাণিতিক, বাস্তবে যা ভীষণ কঠিন
চার পয়েন্ট পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত হয়েই গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের পয়েন্ট তিন। নেট রান রেটে প্রোটিয়ারা (২.১৪০) অনেক এগিয়ে আফগানদের (-০.৯৯০) চেয়ে।
আফগানিস্তান এখন তাকিয়ে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের দিকে। করাচিতে শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যদি আগে ব্যাট করে ইংলিশরা, যদি পুরো ম্যাচ হয়, তাদেরকে জিততে হবে ২০৭ রানের ব্যবধানে।
কাজটা খুবই অনেক কঠিন। তবে অসম্ভব যে নয়, তা ইংল্যান্ড আগে দেখিয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০৭ রানের চেয়ে বড় ব্যবধানে জয় তিনটি আছে তাদের। ২০১৫ সালে নিউ জিল্যান্ডকে তারা হারিয়েছিল ২১০ রানে, ২০২২ সালে ৪৯৮ রানের রেকর্ড পুঁজি নিয়ে তারা নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিল ২৩২ রানে। শেষ নয় সেখানেই, ২০১৮ সালে সেই সময়ের রেকর্ড ৪৮১ রান তুলে তারা ২৪২ রানে পর্যদুস্ত করেছিল অস্ট্রেলিয়াকে।
তবে বড় প্রশ্ন এখানেই, সেই ইংল্যান্ড পারলেও পথ হারিয়ে ফেলা এই ইংল্যান্ড কি পারবে এমন কিছু?
করাচিতে দক্ষিণ আফ্রিকা যদি আগে ব্যাট করে, তাহলে তাদের সেমি-ফাইনালে যাওয়া একরকম নিশ্চিতই হয়ে যাবে। খুব বাজে ব্যাটিং না করলে তখন আর তাদের নেট রান রেট আফগানদের চেয়ে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এমনকি খুব বাজে ব্যাটিং করলেও ইংল্যান্ডকে সেই রান তাড়া করতে হবে ঝড়ের বেগে।
প্রশ্ন হতে পারে, খুব বাজে ব্যাটিং মানে আসলে কতটা?
ধরে নেওয়া যাক, দক্ষিণ আফ্রিকা যদি ৫০ রানে অলআউট হয়, ইংল্যান্ডকে সেই রান তাড়া করতে হবে ৫.৪ ওভারে। প্রোটিয়ারা ৭৫ রান করলে ইংলিশদের সেটি তাড়া করতে হবে ৭.৬ ওভারে, ১০০ করলে ৯.৬ ওভারে, ১২৫ করলে ১১.৫ ওভারে।
ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষে জানা যাবে সুনির্দিষ্ট সমীকরণ।
বাস্তব যা চিত্র, আফগানদের বিদায়কে এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা কিংবা সময়ের অপেক্ষাই বলা যায়। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার পর আফগান অধিনায়ক শাহিদির কণ্ঠে ছিল আশার সুর।
“কেউ জানে না কী হবে। আমাদের এখনও আশা আছে। টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচের দিকে আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকব আমরা এবং চাইব ইংল্যান্ড যেন বড় ব্যবধানে জিতে যায়।”