Published : 30 May 2026, 04:02 PM
প্রথম ওভারে যেমন-তেমন, পরের ওভারে স্রেফ তুলাধুনা হলেন রাশিদ খান। বল ফেলার জায়গাই যেন পাচ্ছিলেন না তিনি। তার চেহারায় নেমে এসেছিল আঁধার। সেখানেই ফুটে উঠছিল পারফরম্যান্সের প্রতিচ্ছবি। এই ম্যাচে যে অভিজ্ঞতা হলো, ৫৩৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এত তেতো স্বাদ তিনি পাননি।
আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে শুক্রবার রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ২ ওভারে ৪৫ রান দেন গুজরাট টাইটান্সের এই লেগ স্পিনার। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ২২.৫ করে। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ওভারপ্রতি রান এত বেশি খরচের নজির তার নেই আর।
একসময় তার বোলিংয়ে বড় শট খেলার চেয়ে কঠিন কাজ ক্রিকেটে কমই ছিল। দুনিয়ার সব উইকেট, সব কন্ডিশনে, সব ব্যাটসম্যানের সামনে দিনের পর পর আঁটসাঁট বোলিং করেছেন তিনি। প্রতিপক্ষের জন্য তিনি ছিলেন আতঙ্ক। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তার সেই আগের ধার ততটা দেখা যায় না ইদানিং। মাঝেমধ্যে দারুণ বোলিং করেন বটে। কিন্তু আগের সেই ধারাল ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে না অনেক দিন ধরেই।
এবারের আসরেই গত ১৬ মে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে গুনেছেন ৫৭ রান। তার আইপিএল ক্যারিয়ারেই যা সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিং।
গোটা টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এর চেয়ে বেশি রান দিয়েছেন তিনি আর একবারই। গত বছর দা হান্ড্রেড-এ ওভাল ইনভিন্সিবলসের হয়ে বার্মিংহাম ফিনিক্সের বিপক্ষে দিয়েছিলেন ৫৯ রান।
আইপিএলে তার আগের সবচেয়ে খরুচে বোলিং ছিল গত আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৪ ওভারে ৫৪ রান।
পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার, সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই এত বেশি রান বিলিয়ে দিচ্ছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১০ ম্যাচে পঞ্চাশ বা এর বেশি রান দিয়েছেন তিনি। এর ছয়টিই গত তিন বছরে।
তার খরুচের বোলিংয়ের ঘটনা তাই এখন আর ততটা বিস্ময়কর নয়। তার পরও তার ২ ওভারে ৪৫ রান অনেকটা অভাবনীয়ই।
নিউ চান্ডিগাড়ে এ দিন রাশিদকে বোলিংয়ে আনা হয় নবম ওভারে। প্রথম দুই বলেই চার ও ছক্কা হজম করেন তিনি রিয়ান পারাগের ব্যাটে। এরপর একটি সিঙ্গল। চতুর্থ বলে তাকে ছক্কায় ওড়ান বৈভাব সুরিয়াভানশি। ওই ওভার থেকে আসে ১৮ রান।
এরপর আর বোলিংই পাচ্ছিলেন না রেকর্ড ৭২১ উইকেট শিকারি বোলার। সুরিয়াভানশির বিদায়ের পর তাকে আবার বোলিংয়ে আনা হয় ইনিংসের শেষ ওভারে। এবার তাকে স্রেফ কচুকাটা করেন ডোনোভান ফেরেইরা। প্রথম বলে রাভিন্দ্রা জাদেজার সিঙ্গলের পর বাকি পাঁচ বলের চারটিতেই ছক্কা মারেন দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার, একটিতে নেন দুই রান। ওভার থেকে আসে ২৭ রান।
ক্যারিয়ারে এর চেয়ে খরুচে ওভার তার আছে আর একটি। সেই ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার ওভারে চার ছক্কা ও এক চারসহ ২৯ রান নিয়েছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। তবে তিনি তখনও নবীন, সত্যিকারের রাশিদ খান হয়ে ওঠেননি। ১০ বছর পর আবার একইরকম অভিজ্ঞতা হলো তার।
ওভারপ্রতি রানে এই ম্যাচের আগে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন তিনি এবারের আসরের এক ম্যাচেই। চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে এক ওভার বোলিং করে রান দিয়েছিলেন ২১।
একাধিক ওভার বোলিং করা ম্যাচগুলোর মধ্যে এবারের আগে ওভারপ্রতি রান সবচেয়ে বেশি দিয়েছিলেন গত আইপিএলে। লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে দুই ওভারে দিয়েছিলেন ৩৬ রান। ওভারপ্রতি রান ছিল ১৮।
এবার অবশ্য গোটা আসর মিলিয়ে খুব খারাপ করেননি রাশিদ। বিশেষ করে গত দুই আসরে বিবর্ণতা কিছুটা ঝেরে ফেলেছেন। গত আইপিএলে ১৫ ম্যাচে মাত্র ৯ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি ওভারপ্রতি সাড়ে ৯ করে রান দিয়ে। ২০২৪ আসরে ১২ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১০ উইকেট।
এবারের আসরে এখনও পর্যন্ত ১৬ ম্যাচে রাশিদের প্রাপ্তি ১৯ উইকেট। ওভারপ্রতি রানে (৯.২৯) অবশ্য এবারও প্রবল ব্যয়বহুল তিনি।