Published : 22 Apr 2026, 08:56 PM
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হেসেই চলেছে প্রিতম কুমারের ব্যাট। এই সংস্করণে আরেকটি সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেয়েছেন আকবার আলিও। পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে অপরাজিত অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম।
বিসিএলের প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন শেষে ১৫১ রানে অপরাজিত আছেন উত্তরাঞ্চলের প্রিতম। দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে ১৮৪ বলের ইনিংসে দুটি ছক্কা ও ১৬টি চার মেরেছেন তিনি।
লাল বলের ক্রিকেটে পাঁচ ম্যাচে তৃতীয় সেঞ্চুরি করলেন প্রিতম। গত নভেম্বরে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচে রাজশাহী বিভাগের হয়ে ১৩৬ ও ১৪৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে এনিয়ে পঞ্চমবার শতকের স্বাদ পেলেন ২৪ বছর বয়সী প্রিতম। এই সংস্করণে তৃতীয় সেঞ্চুরিতে তার সতীর্থ আকবর দুটি ছক্কা ও ১৫টি চারে ১২১ রানের ইনিংস খেলেন।
সিলেট একাডেমি মাঠে তাদের নৈপুণ্যে ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছে উত্তরাঞ্চল। প্রথম ইনিংসে ৩১৪ রান করা দক্ষিণাঞ্চল থেকে ৬৫ রানে এগিয়ে তারা।
আগের দিন সম্ভাবনা জাগানো মধ্যাঞ্চলের আবু হায়দার রনি ও আশিকুর রহমান শিবলি কেউই সেঞ্চুরির করতে পারেননি। তাদের প্রতিপক্ষ পূর্বাঞ্চলকে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলে টানছেন অমিত হাসান ও মুশফিক।
১৬ রান ও সবকটি উইকেট হাতে নিয়ে নতুন দিনের খেলা শুরু করা উত্তরাঞ্চল দ্রুত হারিয়ে ফেলে টপ অর্ডারের তিনজনকে। ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে পথে রাখেন প্রিতম ও আকবর।
রিজান হোসেনের ওভারে চারটি চার মারেন প্রিতম। সফর আলিকে দুই ওভারে তিনটি চার হাঁকান আকবর। তাদের ব্যাটে দ্রুত আসতে থাকে রান। ৫২ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন প্রিতম। আকবরের পঞ্চাশ আসে ৬৪ বলে, সফরকে চার মেরে। ফিফটি ছোঁয়ার পরের দুই বলেও বাউন্ডারি হাঁকান তিনি।
আশরাফুল হাসানকে টানা দুটি ছক্কায় ওড়ান আকবর। পরে মইন খানকে টানা দুটি ছক্কা মারেন প্রিতম। ১২৩ বলে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে পা রাখেন আকবর। কিছুক্ষণ পর ১০৭ বলে শতক পূর্ণ করেন প্রিতমও।
উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক আকবরকে ফিরিয়ে ২২৩ রানের চমৎকার জুটিতে ফাটল ধরান সামিউন বাশির। মেহরব হাসানকেও টিকতে দেননি ১৯ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার। আশরাফুল হাসান দ্রুত বিদায় করেন তানবীর হায়দারকে।
আরেক প্রান্তে নিজের মতো খেলে যান প্রিতম। সফরকে চার মেরে দেড়শ স্পর্শ করেন তিনি, ১৮০ বলে। তাকে সঙ্গ দেওয়া সানজামুল অপরাজিত আছেন ২২ রানে। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিটি ৪৯ রানের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৩১৪
উত্তরাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৮২ ওভারে ৩৭৯/৬ (আগের দিন ১৬/০) (মামুন ১৫, সাব্বির ১৮, ইকবাল ৯, প্রিতম ১৫১*, আকবর ১২১, মেহরব ২, তানবীর ১৯, সানজামুল ২২*; আবু জায়েদ ১৩-০-৫৮-১, সফর ১২-০-৭৩-২, মইন ১৩-১-৬০-০, রিজান ৩-১-১৮-০, সামিউন ১৪-১-৫০-২, আশরাফুল ২৫-৩-৯২-১, ফজলে মাহমুদ ১-০-৪-০, মিঠুন ১-০-৫-০)
আবু হায়দার ও শিবলির আক্ষেপ, সেঞ্চুরির দুয়ারে অমিত
আগের দিনের ৯০ রানের সঙ্গে একটি রানও যোগ করতে পারলেন না আবু হায়দার। আশির ঘরে গিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরলেন শিবলিও। তাদের আক্ষেপের দিনে চমৎকার ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেন অমিত।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মধ্যাঞ্চলের প্রথম ইনিংস ৩০৭ রানে গুটিয়ে ব্যাটিং করছে পূর্বাঞ্চল। দ্বিতীয় দিন শেষে তাদের রান ৩ উইকেটে ২৪৩। এখনও ৬৪ রানে পিছিয়ে আছে তারা।
পূর্বাঞ্চলের ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় একটি ছক্কা ও ১০টি চারে ৬৪ রান করেছেন। ১২ চারে ৮৮ রান করে অপরাজিত আছেন অমিত। একটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ৫৯ রানে খেলছেন মুশফিক।
৬ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে খেলতে নেমে দিনের দ্বিতীয় ওভারেই আবু হায়দারকে হারায় মধ্যাঞ্চল। খালেদ আহমেদের বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি। কিছুক্ষণ পর রকিবুল হাসানকে বিদায় করেন ইবাদত হোসেন। ৭৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা শিবলিকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে দেন এই পেসার। এক ছক্কা ও নয়টি চারে ৮৬ রান করেন শিবলি।
জবাব দিতে নেমে দ্রুত জাকির হাসানকে হারিয়ে ফেলে পূর্বাঞ্চল। অভিজ্ঞ মুমিনুল হকও পারেননি বেশিক্ষণ টিকতে। দুই ব্যাটসম্যানই মোহাম্মদ এনামুল হকের শিকার।
অমিতের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটিতে দলকে পথে রাখেন জয়। ৭২ বলে ফিফটি করা জয় ইনিংস আর বেশি বড় করতে পারেননি। দিনের বাকি সময়ে দলকে আর উইকেট হারাতে দেননি অমিত ও মুশফিক।
৮২ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন অমিত। দ্রুত রান বাড়িয়ে মুশফিক ফিফটিতে পা রাখেন ৬৫ বলে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মধ্যাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৯১.৪ ওভারে ৩০৭ (আগের দিন ২৭২/৬) (শিবলি ৮৬, আবু হায়দার ৯০, রাকিবুল ৮, এনামুল ১০, ইকবাল ০*; খালেদ ২৩-৪-৭৯-১, ইবাদত ১৯.৪-৬-৫৪-৪, তোফায়েল ১৮-৬-৩১-৩, নাঈম ১৩-১-৪৬-১, মুরাদ ১৬-১-৬৫-১, মুমিনুল ২-০-২১-০)
পূর্বাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৬৪ ওভারে ২৪৩/৩ (জয় ৬৪, জাকির ১৩, মুমিনুল ১৫, অমিত ৮৮*, মুশফিক ৫৯*; আবু হায়দার ১৩-১-৪৬-০, ইকবাল ১৩-২-৪০-০, এনামুল ১৩-১-৫৬-২, মোসাদ্দেক ৭-০-২৯-০, রকিবুল ১৮-২-৬৯-১)