Published : 27 Jun 2026, 05:34 PM
মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ফিফার প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ইরান অধিনায়ক মেহদি তারেমি। তারকা ফরোয়ার্ড দাবি করলেন, তাদের মহাভোগান্তি লাঘবে কোনো ভূমিকা নেননি ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
মিশরের বিপক্ষে ড্র করে নিজেদের ভাগ্য জানার অপেক্ষায় ইরান। অন্য গ্রুপের ম্যাচের ফল পক্ষে এলে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেবে এশিয়ার দেশটি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হুট করে ইরানে আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মেরে ফেলা হয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে। বিশ্বকাপে ইরানের খেলা নিয়ে প্রবল সংশয় জাগে।
ইরান নিজেদের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। তাতে কান দেয়নি ফিফা। বরং ইরানের বেইস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের টুকসান থেকে সরিয়ে নেয় মেক্সিকোর তিহুয়ানায়।
এতে ম্যাচ খেলতে প্রতিবার মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভেন্যুতে যেতে হচ্ছে ইরান দলকে। ভ্রমণ বিধিনিষেধে পরিস্থিতি হয়েছে আরও সঙ্গীন। শুরুতে ম্যাচের আগের দিন আসার অনুমতি পেত ইরান, শেষ ম্যাচের আগে পেয়েছে দুই দিন সময়। কিন্তু ফিরে যেতে হবে ম্যাচের দিন!
এই আসা-যাওয়ায় নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে তারেমিদের। অধিনায়ক অভিযোগ করেছেন, ইরান দলকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেননি ফিফা প্রধান।
“এটা বিপত্তির বিশ্বকাপ, এটা মহাবিপত্তি। মানে, ফিফা বলেছিল তারা প্রতিটা সমস্যার সমাধান করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শুরু থেকে কোনো সমস্যার সমাধান করেনি। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর আমাদের ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন ইনফান্তিনো এবং বলেছিলেন, ‘এটা কেবল শুরু…’ কিন্তু আগামীকাল গ্রুপ পর্ব শেষ হয়ে যাবে।”
“এখানে আমাদের লজিস্টিকের লোকজন নেই- তাদের ভিসা নেই। প্রতিবার তিহুয়ানা থেকে ভ্রমণ কীভাবে সম্ভব? আমরা তিহুয়ানার মানুষদের ভালোবাসি, আমরা মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা ভদ্র, তাদের ভালোবাসি আমরা। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে একটি পেশাদার প্রতিযোগিতায় এটা ঠিক নয়।”
“এটা ন্যায্য নয়। আমাদের মত হলো, এটা ন্যায্য নয়, ফিফা, এটা কী ন্যায্য? ঠিক আছে। কিন্তু এটা ন্যায্য নয়। কে আমাদের সাহায্য করতে চায়? যদি তারা আমাদের সঙ্গে এমনটাই চায়, তো ঠিক আছে। চলো বেরিয়ে যাওয়া যাক। কিন্তু এটা ন্যায্য নয়। আমাদের রিকোভারির সুযোগ কিংবা সাহায্য করার জন্য লজিস্টিকের লোকজন নেই। আমরা সবসময়ই এটা নিয়ে অভিযোগ করছি কিন্তু একজনও আমাদের সাহায্য করেনি, কেউ না।”
মিশরের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া তারেমির কাছে নির্দিষ্ট করে জানতে চাওয়ায় হয়, ইরান দল কী এই টুর্নামেন্টে নিজেদের অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করছে কিনা।
“এখানে আমাদের সব কিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। আমি জানি না মানুষজন কী চায়। আমরা নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে যা দেখছি তাতে হ্যাঁ, ব্যাপারটা এমনই মনে হয় আমার…. এটা কীভাবে সম্ভব যে আমরা এখানে ৯০ মিনিট খেললাম আর এখনি আমাদের তিহুয়ানা ফিরে যেতে হবে?”
যদি অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার ম্যাচ ড্র হয়, উজবেকিস্তানকে হারায় ডিআর কঙ্গো এবং ঘানার সঙ্গে হার এড়ায় ক্রোয়েশিয়া তাহলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাবে ইরান।