Published : 31 May 2026, 12:30 AM
দুই দলের একাদশেই বিশেষজ্ঞ পেসার কেবল দুই জন করে। উইকেট নিয়ে ধারণা পাওয়া যায় এখান থেকেই। স্পিন সহায়ক উইকেটে ওয়ানডে অভিষেকের উপলক্ষ পাঁচ উইকেট নিয়ে, ইতিহাস গড়ে রাঙালেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাস। অস্ট্রেলিয়াকে অল্পে গুটিয়ে বাবর আজম ও ঘাজি ঘোরির ফিফটিতে অনায়াসে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে শাহিন শাহ আফ্রিদির দলের জয় ৫ উইকেটে।
রাওয়ালপিন্ডিতে শনিবার ম্যাথু শর্ট ও ম্যাট রেনশর ফিফটির পরও অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২০০ রানে।
সফরকারীদের ১০ উইকেটের প্রথম আটটিই নেন পাকিস্তানের স্পিনাররা। ১০ ওভারে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী মিনহাস। ওয়ানডে অভিষেকে পাঁচ উইকেট শিকারি পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার তিনি।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় পঞ্চাশের আগে দুই ওপেনারকে হারালেও, বাবর ও ঘোরির শতরানের জুটির নৈপুণ্যে ৪৫ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৯৪ বলে ৬৯ রান করেন বাবর। গত মার্চে বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে অভিষিক্ত কিপার-ব্যাটসম্যান ঘোরি দ্বিতীয় ম্যাচে আট চারে ৯২ বলে করেন ৬৫।
বোলিংয়ে স্বপ্নময় দিন কাটানো মিনহাস ব্যাট হাতে ১৭ বলে ১৮ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন। ম্যাচ সেরার লড়াইয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ ছিল না।
এ দিন তৃতীয় দল হিসেবে হাজারতম ওয়ানডে খেলার কীর্তি গড়ে পাকিস্তান। চার স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজায় স্বাগতিকরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নতুন উদ্বোধনী জুটির শর্ট ও অ্যালেক্স কেয়ারির ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। দ্বিতীয় ওভারে হারিস রউফকে পরপর দুটি চার মারেন শর্ট। শুরুতে সাবধানী ছিলেন কেয়ারি। পরে তিনিও দুটি চার মারেন আফ্রিদিকে।
প্রথম ছয় ওভারে আসে বিনা উইকেটে ৩৩ রান। এরপর দুই প্রান্তে স্পিনাররা আক্রমণে আসতেই পাল্টে যায় চিত্র।
লেগ স্পিনার আবরার আহমেদের প্রথম ওভারে দারুণ ডেলিভারিতে স্লিপে ধরা পড়েন কেয়ারি (২৪ বলে ১৯)। নিজের চতুর্থ ওভারে তিন বলের মধ্যে জশ ইংলিস ও মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করেন মিনহাস। তার পরের ওভারে চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড হন ক্যামেরন গ্রিন।
৬৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন শর্ট ও ম্যাট রেনশ।
শর্ট ফিফটি করেন ৫৬ বলে। এরপর বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে শর্টকে (৭৬ বলে ৫৫) ফিরিয়ে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন মিনহাস।
অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে অভিষিক্ত অলিভার পিকের শুরুটা হয় ভুলে যাওয়ার মতো। ১৬ বলে ৭ রান করে ফেরেন তিনি। তাকে ফিরিয়ে একমাত্র উইকেট নেন সালমান আলি আগা।
৫২ বলে ফিফটি করে অস্ট্রেলিয়াকে টানছিলেন রেনশ। নিজের শেষ ওভারে তাকে (৬৩ বলে ৬১) বোল্ড করে দেন আবরার। মিনহাস তার শেষ ওভারে ন্যাথান এলিসকে বোল্ড করে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট।
পরের দুই ওভারে অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুটি উইকেট নেন দুই পেসার আফ্রিদি ও রউফ।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে শাদাব খানই ছিলেন শুধু ব্যতিক্রম। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা অলরাউন্ডার আট ওভারে ৫৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা ভালো ছিল না তেমন। ১৪ বলে ৮ রান করে ফেরেন মাজ সাদাকাত। ভালো শুরু পেয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি আরেক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান (৩৩ বলে ২৮)।
ওই দুটি উইকেট নেন দুই স্পিনার কুনেমান ও স্যাঙ্ঘা। আঁটসাঁট বোলিং করেন দুজন। তবে বড় জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন বাবর ও ঘোরি।
৭১ বলে ফিফটি করেন বাবর। এরপর একবার জীবন পান তিনি। পঞ্চাশ ছুঁতে ঘোরির লাগে ৭৭ বল।
এলিসের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে বাবর বোল্ড হলে ভাঙে ১২৩ রানের জুটি। এলিসের পরের ওভারে বিদায় নেন ঘোরিও।
জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে আউট হন সালমান। এক বল পরই লাবুশেনকে ছক্কায় উড়িয়ে ম্যাচের ইতি টানেন মিনহাস। এটি তো তার ম্যাচই!
লাহোরে দ্বিতীয় ম্যাচ হবে আগামী মঙ্গলবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ৪৪.১ ওভারে ২০০ (কেয়ারি ১৯, শর্ট ৫৫, ইংলিস ১৩, লাবুশেন ০, গ্রিন ০, রেনশ ৬১, পিক ৭, কুনেমান ২৪, এলিস ৮, স্যাঙ্ঘা ০, স্ট্যানলেক ০*; আফ্রিদি ৬-০-১৯-১, রউফ ৫.১-০-২৪-১, আবরার ১০-০-৪৪-২, মিনহাস ১০-১-৩২-৫, শাদাব ৮-০-৫৪-০, সালমান ৫-০-২১-১)
পাকিস্তান: ৪২.৩ ওভারে ২০২/৫ (সাহিবজাদা ২৮, সাদাকাত ৮, বাবর ৬৯, ঘোরি ৬৫, মিনহাস ১৮*, সালমান ৬ সামাদ ১*; এলিস ৭-০-৪৫-২, স্ট্যানলেক ৬-০-৩৭-০, কুনেমান ১০-১-২৯-১, স্যাঙ্ঘা ১০-৩-৩১-১, শর্ট ৩-০-১১-০, রেনশ ৫-০-৩৩-০, লাবুশেন ১.৩-০-১৫-১)
ফল: পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে পাকিস্তান
ম্যান অব দা ম্যাচ: আরাফাত মিনহাস