Published : 23 Mar 2025, 06:04 PM
প্রায় এক যুগ পর সমাপ্তি ঘটল নাইমুর রহমান ও দেবব্রত পালের অধ্যায়ের। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ‘সরে দাঁড়ালেন’ নাইমুর ও দেবব্রত। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের জন্য সেলিম শাহেদকে প্রধান বানিয়ে গঠন করা হলো ১৩ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি।
২০১৪ সালের অনানুষ্ঠানিক বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) পর থেকেই কোয়াবের দায়িত্বে ছিলেন নাইমুর ও দেবব্রত। দীর্ঘ ১১ বছর পর এবার নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে ক্রিকেটারদের অধিকার আদায়ের সংগঠনটি।
মিরপুরের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি ভবনে রোববার দেশের সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের এক বৈঠকের পর অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ম্যাচ রেফারি হিসেবে বিসিবিতে কর্মরত সেলিম শাহেদের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন মিনহাজুল আবেদিন, নিয়ামুর রশিদ রাহুল, হাবিবুল বাশার ও কোয়াবের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত।
এর সঙ্গে ৮ বিভাগের অধিনায়ক হিসেবে অ্যাডহক কমিটিতে আছেন আরাফাত সানি (ঢাকা), ইরফান শুক্কুর (চট্টগ্রাম), নাজমুল হোসেন শান্ত (রাজশাহী), নুরুল হাসান সোহান (খুলনা), মোসাদ্দেক হোসেন (ময়মনসিংহ), জাকির হাসান (সিলেট), কামরুল ইসলাম (বরিশাল) ও নাঈম ইসলাম (রংপুর)। তবে অধিনায়কদের এই তালিকায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
গত অগাস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই একরকম আত্মগোপনে আছেন নাইমুর। গত ৭-৮ মাস সময়ে দেশের ক্রিকেটে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লিগের সাবেক সংসদ সদস্যকে। এই সময়ে হওয়া কোয়াবের একাধিক সভায় অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সভাপতির পদ হারিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০১৯ সালের অক্টোবরে ১১টি ভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে বিসিবির বিরুদ্ধে করা জাতীয় ক্রিকেটারদের আন্দোলনে প্রথম দাবিই ছিল, কোয়াবের কমিটি বিলুপ্ত করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা। সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০২৩ সালে কোয়াবের বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচন করতে আগ্রহ দেখাননি কেউ। তাই দীর্ঘায়িত হয় নাইমুর-দেবব্রত অধ্যায়।
এখন সভাপতিহীন কোয়াবের অচলাবস্থা নিরসনে সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়ে বসার উদ্যোগ নেন সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন। রোববারের বৈঠকে মিনহাজুল ছাড়াও ছিলেন আকরাম খান, হাবিবুল, খালেদ মাসুদ, জাভেদ ওমর, সানোয়ার হোসেনের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অনুশীলন শেষে যোগ দেন তামিম ইকবাল, শান্ত, সোহান, ফরহাদ রেজা, নাঈম, জিয়াউর রহমানের মতো এখনও খেলে যাওয়া ক্রিকেটাররা। এর আগেও একাধিক বৈঠক করেন তারা।
বৈঠক শেষে ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের কথা জানান কোয়াব সদস্য আকরাম খান। পরে এই কমিটির কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দেন সেলিম শাহেদ।
“যে কোনো কিছুরই একটা প্রক্রিয়া আছে। আমাদের প্রথম বিষয়টা হলো (কোয়াবের) গঠনতন্ত্রকে একটা কাঠামোর মধ্যে ফেলতে হবে। সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী যেন সবকিছু চলে। তাই আমরা সিস্টেমটা তৈরি করার চেষ্টা করব, গঠনতন্ত্র আপডেটের চেষ্টা করব। কারা ভোটার, সেটাও সুষ্ঠু নীতিমালা নেই।”
“আমরা যেন একটা নীতিমালা তৈরি করতে পারি পরবর্তী নির্বাচনের জন্য। এটা করতে ৩ মাস লাগতে পারে, ৬ মাসও লাগতে পারে। যতদিনই লাগুক, আমরা যেন জিনিসটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। এরপর নির্বাচন দেওয়াই আমাদের পরিকল্পনা।”
এসময় নাইমুর ও দেবব্রতর নেতৃত্বাধীন কমিটি বিলুপ্তের প্রেক্ষাপটও জানান সেলিম শাহেদ।
“মূলত তিনি (নাইমুর) কয়েকটি সভায় ছিলেন না। যে কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি অফ হয়ে যান। আরেকটা বড় জিনিস, আমাদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগের যে কমিটি ছিল, সেটা বিলুপ্ত। আর বিলুপ্ত করে আমরা অ্যাডহক কমিটি করেছি। যেন আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারি। এজন্য প্রথম হচ্ছে, গঠনতন্ত্র ঠিক করা। দ্বিতীয়ত প্রক্রিয়া ঠিক রাখা। তৃতীয়ত নির্বাচনের যে নীতিমালা, সেটা ঠিক করে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া।”
“(কোয়াবের) গত কমিটিতে যারা ছিলেন, বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয় ছিলেন। প্রেসিডেন্ট (নাইমুর) পদত্যাগ করেছেন এবং সেক্রেটারি দেবব্রত পাল, তিনিও নিজ থেকে মেনে নিয়েছেন এই পদে থাকছেন না। তাই আমরা নতুন কমিটির মাধ্যমে নতুন করে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।”