Published : 27 Nov 2025, 10:56 PM
রঙ বদলাল বারবার। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচের ভাগ্য গড়াল শেষ ওভারে। সেখানেও নাটক কম হলো না। শেষ পর্যন্ত হাসল শ্রীলঙ্কা। শুরু আর শেষে দুশমান্থা চামিরার দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিল লঙ্কানরা।
প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয় ৬ রানে।
রাওয়ালপিন্ডিতে বৃহস্পতিবার ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা করে ১৮৪ রান। জবাবে একপর্যায়ে ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। সেখান থেকে পরপর দুটি পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে সম্ভাবনা জাগায় স্বাগতিকরা।
শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১০ রান। চমৎকার বোলিংয়ে স্রেফ ৩ রান দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে জেতান চামিরা। পাকিস্তান যেতে পারে ১৭৮ পর্যন্ত।
পাওয়ার প্লেতে ২ ওভারে স্রেফ ৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কার সুরটাও বেঁধে দেন চামিরা। ৪ ওভারে ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা তিনিই।
প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর, টানা দুটি বাঁচা-মরার ম্যাচ জিতে শিরোপার মঞ্চে জায়গা করে নিল শ্রীলঙ্কা। বিদায় নিল জিম্বাবুয়ে।
আগামী শনিবার ফাইনালে আবার মুখোমুখি হবে এই ম্যাচের দুই দল।
ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার হয়ে ৪৮ বলে ৭৬ রান করেন কামিল মিশারা। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় গড়া এই ওপেনারের ইনিংসটি। তিন নম্বরে ৬ চার ও এক ছক্কায় ২৩ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন কুসাল মেন্ডিস।
পাকিস্তানের হয়ে ফিফটি করেন অধিনায়ক সালমান আলি আগা। তবে ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংসে দলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
রান তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। প্রথম তিন ওভারে তারা করে ২৮ রান, পরের ওভারে খায় জোড়া ধাক্কা। প্রথমবার আক্রমণে এসে সাহিবজাদা ফারহান ও বাবর আজমকে ফিরিয়ে দেন চামিরা। বাবর ফেরেন শূন্য রানে।
ভালো শুরু পেয়ে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি সাইম আইয়ুব (১৮ বলে ২৭)। ফাখার জামান টিকতে পারেন কেবল তিন বল। তাকে ফিরিয়ে তৃতীয় শিকার ধরেন চামিরা।
একপর্যায়ে বিনা উইকেটে ২৯ থেকে পাকিস্তানের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৪৩।
পঞ্চম উইকেটে ৪২ বলে ৫৬ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সালমান আলি ও উসমান খান। ২টি করে চার ও ছক্কায় ২৩ বলে ৩৩ রান করা উসমানকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।
তখনও পাকিস্তানের দরকার ছিল ৪৬ বলে ৮৬ রান। সালমান ও মোহাম্মদ নাওয়াজের দারুণ জুটিতে ব্যবধান কমিয়ে আনে তারা।
শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ২২ রান। ১৯তম ওভারে ইশান মালিঙ্গার প্রথম বলে ছক্কার পরের বলে আউট হয়ে যান নাওয়াজ (১৬ বলে ২৭), ভাঙে ৩৬ বলে ৭০ রানের বিস্ফোরক জুটি। পরে ফাহিম আশরাফের বাউন্ডারি মিলিয়ে এই ওভারে আসে ১২ রান।
শেষ ওভারে চামিরার প্রথম বলে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি সালমান। পরের বলে তিনি নিতে পারেন এক রান। তৃতীয় বলে এক রানের বেশি হতো না, কিন্তু লং অনে জানিথ লিয়ানাগের বাজে ফিল্ডিংয়ে ফাহিম নেন দুই রান।
চতুর্থ বলে চামিরার ইয়র্কারে ফাহিমকে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান রিভিউ নেওয়ার পর দেখা যায়, আগে ব্যাটে লেগেছিল বল। পাল্টায় মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।
ওই বলে দুই ব্যাটসম্যান প্রান্তও বদল করেছিলেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এক রান গোনায় ধরা হয়নি, আম্পায়ার আউট দেওয়ার পরই যে ‘ডেড’ হয়ে যায় বল!
ডাগআউটে অসন্তুষ্ট দেখা যায় পাকিস্তান কোচ মাইক হেসনকে।
পঞ্চম বলে লং অনে দাসুন শানাকার হাতে ধরা পড়েন ফাহিম। শেষ বলে চামিরার আরেকটি ইয়র্কার শুধু ঠেকিয়ে দিতে পারেন মোহাম্মদ ওয়াসিম।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলঙ্কা। আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ৯৮ রানের ইনিংস খেলা পাথুম নিসাঙ্কা এবার শুরু করেন প্রথম বলে চার মেরে। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি (৭ বলে ৮)।
দ্বিতীয় উইকেটে ৩৬ বলে ৬৬ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন মিশারা ও কুসাল মেন্ডিস। মেন্ডিসের বিদায়ে জুটি ভাঙার পর কুসাল পেরেরা টিকতে পারেননি।
মিশারা ফিফটি করেন ৩৪ বলে। চতুর্থ উইকেটে তিনি আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ (৩৭ বলে ৫৭) জুটি গড়েন জানিথ লিয়ানাগের সঙ্গে।
সপ্তদশ ওভারে মিশারার দারুণ ইনিংস থামান লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। লিয়ানাগে (২৪ বলে ২৪*) ও শানাকার (১০ বলে ১৭) নৈপুণ্যে ১৮৪ পর্যন্ত যেতে পারে শ্রীলঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৮৪/৫ (নিসাঙ্কা ৮, মিশারা ৭৬, কুসাল মেন্ডিস ৪০, পেরেরা ৬, লিয়ানাগে ২৪*, শানাকা ১৭, সালমান মির্জা ৪-০-২৯-১, ওয়াসিম ৪-০-৩৯-০, ফাহিম ৩-০-৩০-০, আবরার ৪-০-২৮-২, নাওয়াজ ২-০-২৬-০, সালমান আলি ১-০-৮-০, সাইম ২-০-১৯-১)
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৭৮/৭ (সাহিবজাদা ৯, সাইম ২৭, বাবর ০, সালমান আলি ৬৩*, ফাখার ১, উসমান ৩৩, নাওয়াজ ২৭, ফাহিম ৭, ওয়াসিম ০*; থিকশানা ৪-০-৪২-০, শানাকা ৪-০-৩২-০, চামিরা ৪-০-২০-৪, মালিঙ্গা ৪-০-৫৪-২, হাসারাঙ্গা ৪-০-২৭-১)
ফল: শ্রীলঙ্কা ৬ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: দুশমান্থা চামিরা