Published : 15 Jul 2026, 04:53 PM
নরসিংদীতে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে দুই মাস বয়সি এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে চাচীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে নরসিংদী প্রবেশন অফিসার কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি করেন বলে বুধবার সকালে জানিয়েছেন থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
এর আগে, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে এক শিশুর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায়, একজন নারী খাটে শুইয়ে রাখা এক শিশুর পা মারাত্মকভাবে মুচড়ে দিয়ে দৌড়ে ঘর হতে বের হয়ে যান, তীব্র ব্যথায় শিশুটি কান্না করতে থাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করা ভিডিওতে দুই মাস বয়সি শিশুটির পা ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও তা ভাঙেনি বলে শিশুটির পরিবার জানিয়েছে।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, শিশুটি মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদি গ্রামের সায়েবা বেগম ও কাউসার মিয়ার সন্তান।
মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে এবং ঘটনা সম্পর্কে জানতে শিশুটির মা ও বাবার সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শিশুটির পা ভাঙেনি। পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে নির্যাতন করা হতো। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার বিষয়ে রাজি ছিলেন না তারা।“
পরে শিশুর সঙ্গে এমন নির্মমতা বন্ধে ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রবেশন অফিসার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, শিশুটির চাচী লতা বেগম (৩২), লতার স্বামী কাউসার আহমেদ (৩৩) এবং লতার বাবা আলমাছ মিয়া (৬০)কে আসামি করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, জন্মের পর থেকেই অসুস্থ থাকায় শিশুটি বিভিন্ন মেয়াদে হাসপাতালে ছিল। তবে প্রায়ই ঘরে একা থাকা অবস্থায় হঠাৎ কান্না করতো শিশুটি। বিষয়টি শিশুর মায়ের সন্দেহ হলে তিনি গোপনে ভিডিও ধারণের পন্থা অবলম্বন করেন তিনি। তাতেই চাচির নির্যাতনের ঘটনা ধরা পড়ে।
শিশুটির বাবা কাউসার মিয়া বলেন, “পারিবারিক কলহের জেরে আমার শিশু সন্তানকে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী লতা বেগম অগোচরে নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী গত ১১ জুলাই বিকালে ঘরের ভিতর গোপনে একটি মোবাইল ফোনে ভিডিও অন করে রেখে যান।
“পরে ছেলে কান্না শুরু করলে দৌড়ে এসে ভিডিওতে দেখেন ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী লতা বেগম আমার শিশুটির একটি পা সজোরে মুচড়ে দিয়েছেন। তবে আমার সন্তানের পা ভাঙ্গেনি। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করা হয়েছে।”
ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, মূল আসামি লতা বেগম পলাতক থাকলেও এর মধ্যেই অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লতা বেগমকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।