Published : 15 Jul 2026, 04:54 PM
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম)।
এর আগে দেখে নেওয়া যাক কিছু পরিসংখ্যান:
মুখোমুখি লড়াই
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড কেবল দুটিতে হেরেছে, ছয়টিতে জিতেছে এবং বাকি ছয়টি ড্র হয়েছে। যদিও এই ড্রগুলোর মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পেনাল্টি শুটআউটে হারও অন্তর্ভুক্ত।
মূল ম্যাচে আলবিসেলেস্তাদের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সবশেষ হার ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই বিতর্কিত কোয়ার্টার-ফাইনালে, ২-১ গোলে।
ওই ম্যাচে দিয়েগো মারাদোনার কুখ্যাত ও বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল আর ‘গোল অব দা সেঞ্চুরি’ ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
দুই দলের সবশেষ দুটি ম্যাচেই জিতেছে ইংল্যান্ড। সবশেষটি ছিল ২০০৫ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে ৩-২ গোলে, যেখানে মাইকেল ওয়েন দুটি ও ওয়েইন রুনি একটি গোল করেন।
বিশ্বকাপে এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। এই প্রতিযোগিতায় তারা কেবল জার্মানির বিপক্ষেই এর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে (নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও ছয়বার খেলেছে)।
আগের পাঁচ ম্যাচের মধ্যে আর্জেন্টিনার জয় দুটি (১৯৯৮ সালে পেনাল্টি শুটআউটে জয়সহ)।
সেমি-ফাইনালে অপরাজেয়
বিশ্বকাপে এটি হবে আর্জেন্টিনার ষষ্ঠ সেমি-ফাইনাল, আগের পাঁচবারের প্রতিটিতেই তারা ফাইনালে উঠেছে।
• ১৯৩০: ৬-১ বনাম যুক্তরাষ্ট্র
• ১৯৮৬: ২-০ বনাম বেলজিয়াম
• ১৯৯০: ১-১ (টাইব্রেকারে ৪-৩) বনাম ইতালি
• ২০১৪: ০-০ (টাইব্রেকারে ৪-২) বনাম নেদারল্যান্ডস
• ২০২২: ৩-০ বনাম ক্রোয়েশিয়া
জয়ের মালা
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের ছয় ম্যাচের সবকটি জিতেছে আর্জেন্টিনা। এই প্রতিযোগিতায় তাদের টানা জয়ের দীর্ঘতম ধারা এটি।
গোলের রাজা
এই বছরের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ১৭টি গোল করেছে, যেকোনো দলের সর্বোচ্চ। এক বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড থেকে কেবল একটি দূরে আছে তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে তারা করেছিল ১৮ গোল, সেবার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল তারা।
আর্জেন্টিনা তাদের সবশেষ চার ম্যাচের প্রতিটিতে তিনটি করে গোল করেছে। দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে তিন বা এর বেশি গোল করার হাতছানি তাদের সামনে। ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ মিলিয়ে এই কীর্তি গড়ে ফ্রান্স।
আসরে আর্জেন্টিনার ১৭ গোলের আটটিই করেছেন চিরসবুজ লিওনেল মেসি, যা ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে আসরের সর্বোচ্চ।
কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেই শুধু গোল করতে পারেননি মেসি। থেমে যায় বিশ্বকাপে তার টানা ৯ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড যাত্রা। তবে আলেক্সিস মাক আলিস্তেরের করা প্রথম গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন ৩৯ বছর বয়সী তারকা।
২১ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি, যিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন প্রথমবার। ২০ গোল নিয়ে তালিকায় দুইয়ে আছেন এমবাপে, তার দলের শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান শেষ হয়ে গেছে সেমি-ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হেরে।
ওরা দুজন
আসরে ইংল্যান্ডের ১৩ গোলের মধ্যে জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইন করেছেন ছয়টি করে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো দলের দুজন খেলোয়াড়ের একই আসরে ছয় বা ততোধিক গোল করার নজির এটি।
রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার বেলিংহ্যাম সবশেষ দুটি ম্যাচেই করেছেন জোড়া গোল। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে তার চেয়ে বেশি ম্যাচে দুই বা ততোধিক গোল করার রেকর্ড আছে কেবল কেইন (৪) ও গ্যারি লিনেকারের (৩)।
আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেলিংহ্যামের চেয়ে বেশি ম্যাচে দুই বা ততোধিক গোল করা একমাত্র মিডফিল্ডার হলেন পেরুর তেওফিলো কুবিয়াস (৩)।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামলে এটি হবে ইংল্যান্ডের হয়ে কেইনের ১২১তম ম্যাচ, যা হবে দলটির কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। ইংল্যান্ডের হয়ে তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন শুধু গোলরক্ষক পিটার শিলটন (১২৫)।