Published : 09 Dec 2025, 02:05 PM
ইনজেকশন, পুনবার্সন, প্রচেষ্টা, সবকিছুর সমাপ্তি হতাশায়। এবারের অ্যাশেজে আর মাঠ নামতে পারবেন না মার্ক উড। হাঁটুর সেই পুরোনো চোট আবার প্রবলভাবে মাথাচাড়া দিয়ে সিরিজ থেকেই ছিটকে দিল ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলারকে।
উডের বদলি হিসেবে দলে যোগ দিচ্ছেন ম্যাথু ফিশার। ২৮ বছর বয়সী পেসার একটি টেস্ট খেলেছেন ২০২২ সালের মার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাঁ হাঁটুর এই চোটে পড়েন উড। অস্ত্রোপচার করাতে হয় তার হাঁটুতে। এরপর দফায় দফায় পেছায় তার মাঠে ফেরার সময়। চোট-জর্জর অতীতের কারণেই অতি সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া হয় তাকে নিয়ে। মূলত এই অ্যাশেজে তাকে পুরোপুরি ফিট পেতেই অনেকটা অপেক্ষা করে তৈরি করা হয় তাকে।
সেই পথ ধরেই অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট দিয়ে তিনি মাঠে ফেরেন। ১৫ মাসের মধ্যে সেটি ছিল তার প্রথম টেস্ট। দুই দিনে শেষ হওয়া ম্যাচে ১১ ওভার বোলিং করে উইকেট পাননি কোনো। ম্যাচের পর আবার হাঁটুর ব্যথায় বিশেষজ্ঞ দেখাতে হয় তাকে। পরে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে তিনি ছিটকে পড়েন। অ্যাডিলেইডে তৃতীয় টেস্টেও তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল আগে থেকেই।
দল আশা করছিল, শেষ দুই টেস্টে মেলবোর্ন ও সিডনিতে তাকে পাওয়া যেতে পারে। এবার সেই আশাও শেষ হয়ে গেল।
স্বাভাবিকভাবেই উড চরম হতাশ। তবে সামাজিক মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠল ফিরে আসার প্রতিজ্ঞাও। পাশাপাশি শুভ কামনা জানালেন অ্যাশেজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা দলকে।
"অ্যাশেজের বাকিটা থেকে ছিটকে পড়ে আমি হতাশ। বড় একটি অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সাত মাসের পরিশ্রম ও পুনবার্সন শেষে টেস্ট আঙিনায় ফিরেছিলাম। কিন্তু আমার হাঁটু স্রেফ টিকতে পারল না। আমাদের কারও প্রত্যাশা ছিল না এমন কিছুর। অনেক বড় প্রভাব রাখার প্রত্যাশা নিয়ে এখানে এসেছিলাম। আমি ভয়ানক হতাশ যে, এত এত ইনজেকশন ও নিবিড় চিকিৎসা নেওয়ার পরও আমার হাঁটুর অবস্থা ভাবনার চেয়ে খারাপ।"
"আমি খুবই দুঃখিত যে, প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। তবে এটা আসলে চেষ্টা করার ব্যাপারও নয়। যা কিছুই হোক, আমি সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব আবার ফিরে আসতে। গত কয়েক মাসের পথচলা ছিল খুবই কঠিন। তবে আরেকবার উপযুক্তভাবে চেষ্টা করতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমি এখনও বিশ্বাস করি, আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব। কখনোই হাল ছাড়া যাবে না। কাম অন, ইংল্যান্ড...।"
উড এখন দেশে ফিরে পুনবার্সন শুরু করবেন। তবে তিনি ফেরার লড়াইয়ের কথা বললেও সামনের পথ খুবই কঠিন। আগামী মাসেই তার বয়স পূর্ণ হবে ৩৬। চোট তো পিছু লেগেই আছে। একজন ফাস্ট বোলারের জন্য এত ধকল সামলানো কঠিন। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সামনেই এখন বড় প্রশ্ন।
বদলি হিসেবে জায়গা পাওয়া ফিশার এখন ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়ে অস্ট্রেলিয়াতেই আছেন। তৃতীয় টেস্টের আগে দলে যোগ দেবেন ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার পেসার।