Published : 13 Jan 2026, 06:02 PM
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে চোট পাওয়ার পরও ওয়াশিংটন সুন্দারকে ব্যাটিংয়ে নামানোয় ভারতের প্রধান কোচ গৌতাম গাম্ভির ও টিম ম্যানেজমেন্টের তীব্র সমালোচনা করেছেন মোহাম্মাদ কাইফ। টেস্ট ম্যাচে চোট পাওয়ার পর শুবমান গিল ব্যাটিংয়ে না নামলেও ওয়াশিংটনকে কেন নামানো হলো, সেই প্রশ্নও তুলেছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান।
ভাদোদারায় গত রোববারের ম্যাচে বোলিংয়ের সময় বাঁ পাশের পাঁজরে চোট পান ওয়াশিংটন। পাঁচ ওভার বোলিং করতে পারেন তিনি। ২৭ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসের মাঝপথে তিনি মাঠ ছেড়ে যান। এরপর আর নামেননি।
৩০১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন ওয়াশিংটন। ভারতের ৪ উইকেটে জয়ের ম্যাচে ৭ বলে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই স্পিনিং অলরাউন্ডার।
পরে সিরিজের বাকি দুই ওয়ানডে থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তার খেলা নিয়ে জেগেছে শঙ্কা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতেও আর বেশি দিন বাকি নেই। বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দলে আছেন তিনি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কাইফ বললেন, ওয়াশিংটনকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কলকাতা টেস্টে ঘাড়ে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর গিলের আর ব্যাটিংয়ে না নামার প্রসঙ্গও তুলে ধরলেন তিনি।
“আপনাদের মনে থাকবে, যখন শুবমান গিল চোট পেয়েছিল, তখন সেই টেস্ট ম্যাচে, অর্থাৎ কলকাতা টেস্টে ব্যাট করতে নামেনি সে। ম্যাচটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, লোকজন ভেবেছিল তার ২০-৩০ রানও ভারতকে জিততে সাহায্য করতে পারে, তবু সে ব্যাট করতে নামেনি। খেলোয়াড়কে পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এটি করা হয়েছিল, যাতে চোট আরও বাজে আকার ধারণ না করে। কিন্তু সুন্দারের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি।”
“এজন্যই আমার মনে হয়েছে, এটি ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। যদিও ভারত ম্যাচ জিতেছে, তবে আমার মনে হয় ম্যাচে চোট আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল।”
ওয়াশিংটন যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ২২ বলে ২২ রান। ব্যাটিংয়ের সময় তার অস্বস্তি স্পষ্ট দেখা যায়। কাইফের মতে, ওই সময়ে অন্য কাউকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো উচিত ছিল।
“যদি সে চোটাক্রান্ত হয় এবং দলের বলপ্রতি রান করার প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রথমে অন্য কাউকে চেষ্টা করা উচিত। যখন একজন খেলোয়াড় চোট পায় এবং তাকে চাপের মুখে পাঠান, তখন চোট আরও খারাপ হতে পারে।”
“বল ডিপ পয়েন্ট বা স্কয়ার লেগে যাওয়ার পরও সে ডাবল নিতে পারছিল না এবং শুধু সিঙ্গেল নিয়ে খেলছিল সে। যদিও প্রয়োজনীয় নেট রানরেট প্রতি বলের কাছাকাছি ছিল এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে ছিল, তাই আমার মনে হয়েছে, একজন চোটাক্রান্ত খেলোয়াড়কে পাঠানোটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এক সপ্তাহ বা ১০ দিনের চোট ২০, ২৫, এমনকি ৩০ দিন পর্যন্তও দীর্ঘ হতে পারে।”