Published : 20 Jan 2026, 01:01 AM
কীর্তি এতটাই অবিশ্বাস্য যে, এখনও সত্যি বলে বিশ্বাস হচ্ছে না পাকিস্তান টিভির অভাবনীয় জয়ের দুই নায়ক আমাদ বাট ও উসমান আলির। ২৩২ বছর পুরোনো রেকর্ড ভাঙার পেছনের গল্প শুনিয়েছেন এই দুই বোলার। প্রতিটি রান, প্রতিটি উইকেট কীভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছিল, করেছেন এর স্মৃতি চারণ।
গত শনিবার সুই নর্দার্নের (এসএনজিপিএল) বিপক্ষে মাত্র ৩৯ রানের পুঁজি নিয়ে ৩ রানের নাটকীয় জয় পায় পাকিস্তান টিভি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এতে কম রানের পুঁজি নিয়ে এর আগে জিততে পারেনি কোনো দলই।
পিসিবির নিজস্ব মিডিয়া চ্যানেলে সোমবার বিস্ময় জাগানো ওই জয়ের পেছনের গল্প শোনান বাট, উসমানরা। মাঠে নামার সময় তাদের মনে হচ্ছিল না যে, এই রান নিয়ে জয় পাওয়া সম্ভব। ৪ উইকেট নেওয়া পেসার বাটের কথায় উঠে এলো সেটা।
“মাঠে নামার সময় আমরা ভেবেছিলাম, সবকিছুতেই প্রথম বলে একটা কথা থাকে। আর রেকর্ড তো হয়ই ভাঙার জন্য। তবে এটা কেবলই একটা চিন্তা ছিল, তেমন কোনো আশা ছিল না। আমরা বিশেষ কিছু করিনি, স্রেফ নেমেছি এবং নিজেদের সেরাটা করেছি।”
শেষ পর্যন্ত ছোট্ট ওই পুঁজিই যথেষ্ট বলে প্রমাণিত হয়। এক প্রান্তে বাট ভোগাচ্ছিলেন সুইং দিয়ে, আরেক প্রান্তে বাঁহাতি স্পিনে ফাঁদ পেতেছিলেন উসমান। প্রায় অসম্ভব কাজকে সম্ভব করার পথে তিনি ৯.৪ ওভারে স্রেফ ৯ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট।
সুই নর্দার্নকে ৩৭ রানে থামিয়ে ভাঙেন ১৭৯৪ সাল থেকে টিকে থাকা রেকর্ড। বাটের সঙ্গে সুর মেলালেন উসমানও।
“আমাদ যেমন বলেছে, আমরা ৪০ রান নিয়ে জেতার কথা ভাবিনি। কিন্তু গোল হয়ে নিজেরা কথা বলার সময় আমরা বলেছিলাম, আমরা নিজেদের সেরা চেষ্টাটা করব। আমরা জয়ের কথা বলিনি, স্রেফ সেরা চেষ্টার কথা বলেছি।”
“যখন আমরা পাঁচ উইকেট নিলাম, তখন আমি অনুভব করতে শুরু করলাম যে, আমরা হয়তো জিততে পারি। আমরা আরও পাঁচ উইকেট নিতে পারি। যখন ওদের ষষ্ঠ উইকেট হিসেবে সাজিদ আউট হলো এবং আমি যেভাবে বোলিং করছিলাম, আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, যদি অল্প কিছু রানও বাকি থাকে ওদের কাজটা কঠিন হবে।”
সুই নর্দার্নের ইনিংসে টেকে ২০ ওভারেরও কম। এই সময়টায় আবেগের নানা ঢেউ খেলে যায় পাকিস্তান টিভির ক্রিকেটারদের মধ্যে। নতুন বলে প্রতিপক্ষের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের কাবু করতে সহজাত ইনসুইংয়ের শরণ নিচ্ছিলেন বাট, তবে তার নিজের বোলিং নয়, অন্য প্রান্তে উসমানের বোলিং তাকে জোগাচ্ছিল আশা।
উসমানের বলে বেরিয়ে এসে মাথার ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ দেন শান মাসুদ। এই উইকেটের কথা আলাদাভাবে বললেন বাট।
“এই সময়ে আমরা আশাবাদী হতে থাকি। তবে এরপরই ছোট্ট একটা জুটিতে ফের আশা মিলিয়ে যেতে থাকে। আশা-নিরাশায় এভাবেই চলতে থাকে ম্যাচ। আমরা বলতে পারব না কোনো পর্যায়ে আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল।”
২২ রানে ৭ উইকেট হারানো সুই নর্দার্ন ১১ রানের ছোট্ট জুটিতে জাগিয়েছিল আশা। তখন কেবল ৭ রান প্রয়োজন ছিল তাদের, হাতে ছিল ৩ উইকেট। কিন্তু স্লিপে বাটের বলে দুর্দান্ত ক্যাচে ফের পাল্টায় ম্যাচের চিত্র। চার রান পর আরকটি উইকেট পড়লে জয়ের কাছে পৌঁছে যায় পাকিস্তান টিভি। সেই সময়ের কথা বললেন দলটির অধিনায়ক শামিল হুসাইন।
“আমার জন্য এটা ছিল মোমেন্টাম। যেভাবে প্রতিটা উইকেট পড়েছে এবং চাপ বেড়েছে। শুরুতে যেটা মনে হচ্ছিল অসম্ভব তখন সেটাকে সম্ভব মনে হতে লাগল। যখন সাইফ বাঙ্গাশ (নবম উইকেট) আউট হলো তখন আমি আত্মবিশ্বাস পেলাম যে, ওরা আউট হবে, কারণ তীব্র চাপে পড়ে গেছে।”
প্রতিপক্ষের শেষ উইকেটে জড়িয়ে আছে উসমান ও বাটের নাম। বাঁহাতি স্পিনারকে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করতে চেয়েছিলেন শেহজাদ গুল। ডিপ মিডউইকেটে তার ক্যাচ নেন বাট। এই জয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয় পাকিস্তান টিভি।
এই মুহূর্ত কখনও ভুলবেন না উসমান।
“আমি সবকিছু সহজ রেখেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম, ওরা প্রতিটা রান কষ্ট করে নিক। ওদের কোনো সহজ সিঙ্গল কিংবা বাউন্ডারি বল দিতে চাইনি। চমৎকার লাইনে উইকেট টু উইকেট বোলিং করতে চেয়েছিলাম এবং ওদের প্রতিটা রানের জন্য ফোর্স করতে আর আমাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছিলাম।”
“আমার জন্য এটা বিশেষ কিছু। আমি ছয় উইকেট নিয়েছি এবং ৪০ রানের লক্ষ্য দিয়ে জিতেছি, যেটা অভাবনীয়। আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না, আমরা এটা করেছি।