Published : 05 Jul 2026, 02:03 PM
কয়েক দশকের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ প্রাঙ্গণে শেষবারের মত নেওয়া হলো সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহেদ কামালকে।
রোববার বেলা ১২টায় ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে তার কফিন আনা হয়।
সেখানে ফুল দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানান সহকর্মী এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। বিভাগের পাশাপাশি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, বাংলাদেশ সংবাদসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তরফে বিদায় জানানো হয় কবি সুফিয়া কামালের ছেলেকে।
শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানস্থলে গণযোগাযোগ ও বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিনি একজন চলন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া ছিলেন। রাজনীতি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান—এমন কোনো বিষয় ছিল না, উনি জানতেন না। তার সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে তিনি সবসময় সঠিক ও তথ্যনির্ভর কথা বলতেন।
“আর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আমৃত্যু খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন; যেটা একজন শিক্ষক হিসেবে বড় পাওয়া।”
সাংবাদিক মুন্নী সাহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেন, “শাহেদ কামাল ছিলেন আমার স্প্রিচুয়াল ফাদার। যারা তার সাবেক শিক্ষার্থী, আজ একজন তাদের মাথা গোজার ঠাঁই হারিয়েছে। আমার সাথে স্যারের নিয়মিত যোগাযোগ হত। স্যার রেগুলার নিউজ পড়তেন।”

শাহেদ কামালের শেষ বিদায়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রহমান, অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, অধ্যাপক আবুল মনসুর আহমেদ, অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, অধ্যাপক মফিজুর রহমান, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল হক, সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার, সহযোগী অধ্যাপক শবনম আজীম, সাংবাদিক মুন্নী সাহা, অধিকার কর্মী খুশী কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শারমিন রিমি।
বিভাগে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শাহেদ কামালের কফিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নেওয়া হয়। বাদ জোহর সেখানে শাহেদ কামালের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সেখান থেকে বেলা আড়াইটায় জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে নিয়ে নেওয়া হবে শাহেদ কামালকে। শ্রদ্ধা শেষে বেলা ৪টায় আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
১৯৫৭ সাল থেকে সাংবাদিকতা শুরু করা শাহেদ কামাল দীর্ঘদিন সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতাও করেছেন।