১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সুস্পষ্ট লঘুচাপ পরিণত নিম্নচাপে

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jul 2026, 02:04 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:35 PM

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে, যার প্রভাবে বৃষ্টি বাড়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

ঘূর্ণিবায়ুর ওই চক্র রোববার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ২৮৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

সে সময় নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার; যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল। 

নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরগুলো এবং উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এর ফলে বৃষ্টি বাড়বে৷ আজ থেকেই দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি বেড়ে যাচ্ছে। আগামী ১২ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টি থাকবে।”

বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়। এটি শক্তি সঞ্চয় করে আরও ঘনীভূত হয়ে শনিবার সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নেয়। এরপর রোববার দুপুরে এটি নিম্নচাপের রূপ নিল।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার সকাল ৯ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, খুলনা বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ, খুলনা বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

রংপুর বিভাগসহ রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, সিলেট, মৌলভীবাজার, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, ফেনী, কক্সবাজার ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।

এই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এদিকে সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি কয়েকটি নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অফিস।

এই সময়ে রাঙামাটিতে দেশের সর্বোচ্চ ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলে ৩১, নরসিংদীতে ২৯, কক্সবাজারে ২৮, খুলনার কয়রায় ২৪ ও ঢাকায় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।