Published : 06 Feb 2026, 01:12 PM
ম্যাসিভ ফ্লু। গায়ে অনেক জ্বর। প্রচণ্ড অসুস্থ। ম্যাচ শেষে স্মৃতি মান্ধানাকে নিয়ে এই কথাগুলিই বললেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কোচ মালোলান রাঙ্গোরাজান। খেলা যারা দেখেছেন, তাদের এবার ধন্দে পড়ার কথা। মান্ধানাকে দেখে তো এমন কিছু বোঝার উপায় ছিল না!
দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। মাঠে যথারীতি ছিলেন প্রাণবন্ত। তবে বড় রান তাড়ায় তার ব্যাটেও তাকিয়ে ছিল দল। সেই দাবিও তিনি মেটালেন দারুণভাবে। আসরে নিজের সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্স উপহার দিলেন এ দিনই। কে বলবে, তিনি অসুস্থ!
নারী আইপিএল বলে পরিচিত উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে শিরোপা এনে দেন মান্ধানা। লড়াইটি ছিল তার প্রিয় বন্ধু জেমিমা রদ্রিগ্সের দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে। ভাদোদরায় বৃহস্পতিবার ফাইনালে জেমিমা খেলেন ৩৭ বলে ৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। শেষ দিকে ১৫ বলে ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন শিনেল হেনরি। দিল্লি তোলে ২০ ওভারে ২০৩ রান।
রেকর্ড রান তাড়ার চ্যালেঞ্জে গ্রেস হ্যারিসকে দ্রুত হারালেও স্মৃতি মান্ধানা ও জর্জিয়া ভলের ১৬৫ রানের রেকর্ড জুটিতে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। ১২ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ বলে ৮৭ রানের ইনিংস খেলেন মান্ধানা। ভল ফেরেন ৫৪ বলে ৭৯ রানে। শেষ ওভারে রাধা ইয়াদাভের দুই বাউন্ডারিতে দুই বল বাকি থাকতে জিতে যায় বেঙ্গালুরু।
মান্ধানার ব্যাটিং, জয়ের পর তার বাঁধনহারা উল্লাস দেখে বোঝার উপায় ছিল না তার শরীরের অবস্থা। ম্যাচের পর আড়ালের খবর শোনালেন কোচ মালোলান রাঙ্গারাজান।
“ম্যাসিভ, ম্যাসিভ ফ্লু…। প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে গুরুতর অসুস্থ ছিল ও। তবু মাঠে নামা এবং সেটি বুঝতে না দেওয়া… দলের কেউ একটুও বুঝতে পারেনি… এক সেকেন্ডের জন্যও সে বুঝতে দেয়নি। স্মৃতি এমনই…।”
“আজকে বিকেলে যখন ওর সঙ্গে কথা বলেছি, ও বলেছে, ‘নাহ মালো, কোনো সমস্যা নেই, আমি আছি।’ এটিই হলো স্মৃতি, এমনই ওর ওয়ার্ক এথিকস।”

ফাইনালের ইনিংসে হারমানপ্রিত কৌরকে (৩৪২) পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান স্কোরার মান্ধানাই (৩৭৭)। তবে সত্যি বলতে, তার নিজের মান বিবেচনায় পারফরম্যান্স ফাইনালের আগে ততটা ভালো ছিল না। আট ইনিংসে ফিফটি ছিল দুটি।
তবে ফাইনালে তার ব্যাটিং দেখে প্রশংসার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না কোচ।
“আমার মনে হয়, সেরা ইনিংসটি ফাইনালের জন্যই জমিয়ে রেখেছিল ও। যেভাবে ব্যাট করেছে… ‘ইনহিউম্যান।’ জানি না আসলে কী বলা যায়! এতটা চমৎকার, এটা নান্দনিক… ওকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছিল যে, যা কিছু করতে চায়, সব ওর নিয়ন্ত্রণে। দারুণ টাইমিং করছিল, ফাঁকা জায়গাগুলো বের করে সেখানে আক্রমণ করছিল।”
উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগের চার আসরে দুটিতেই শিরোপা জিতে নিল বেঙ্গালুরু, দুবারই মান্ধানার নেতৃত্বে। চার আসরের সবকটিতে ফাইনালে খেলে দিল্লি অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গেল প্রতিটিই।