১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রোহিত-রিকেলটনের বিস্ফোরক জুটিতে ১৩ মৌসুমের খরা কাটিয়ে মুম্বাইয়ের শুভসূচনা

২২০ রানের পুঁজি নিয়েও পাত্তা পেল না কলকাতা, ২০১২ আইপিএলের পর প্রথমবার আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতল মুম্বাই।

রোহিত-রিকেলটনের বিস্ফোরক জুটিতে ১৩ মৌসুমের খরা কাটিয়ে মুম্বাইয়ের শুভসূচনা
৭২ বলে ১৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জয়ের ভিত গড়ে দেন রোহিত শার্মা ও রায়ান রিকেলটন। ছবি: আইপিএল ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Mar 2026, 12:45 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:16 PM

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তখনও কোনো আইপিএল শিরোপা জেতেনি। সাচিন টেন্ডুলকার তখন দলটিতে খেলতেন, অধিনায়ক ছিলেন হারভাজান সিং। ২০১২ সালের আইপিএলে উদ্বোধনী ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে শুরু করেছিল মুম্বাই। তারপর থেকে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিততে ভুলে গিয়েছিল তারা। অবশেষে ১৩ মৌসুম পর ফুরাল তাদের সেই অপেক্ষা।

আইপিএলের ১৯তম আসরের দ্বিতীয় দিন কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রোববার ২০ ওভারে কলকাতা করে ৪ উইকেটে ২২০ রান। কিন্তু লড়াই জমাতেই পারেনি তারা। মুম্বাই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে পাঁচ বল বাকি থাকতে। 

আইপিএলে মুম্বাইয়ের সর্বোচ্চ রান তাড়ার নজির এটি। ২০২১ আসরে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জয় ছিল আগের সর্বোচ্চ। 

১৪৮ রানের বিস্ফোরক উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের ভিত গড়ে দেন রোহিত শার্মা ও রায়ান রিকেলটন।

প্রায় ১০ মাস পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে ৩৮ বলে ৭৮ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন রোহিত। ছয়টি করে চার ও ছক্কায় গড়া ৩৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের ইনিংসটি।

আট ছক্কা ও চারটি চারে ৪৩ বলে ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রিকেলটন।

ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি অবশ্য তারা কেউ পাননি। রান উৎসবের ম্যাচে চার ওভারে ৩৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পুরস্কারটি জেতেন মুম্বাইয়ের পেসার শার্দুল ঠাকুর।

এবারের আসরের প্রথম দুই ম্যাচেই দুইশ ছাড়ানো রান তাড়ায় জয়ের সাক্ষী হলো আইপিএল। আগের দিন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ২০১ রান রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু পেরিয়ে যায় ৬ উইকেট ও ২৬ বল হাতে রেখে। 

বড় রান তাড়ায় রোহিত ও রিকেলটনের ব্যাটে উড়ন্ত শুরু পায় মুম্বাই। পাওয়ার প্লেতে তারা করে বিনা উইকেটে ৮০ রান। এর মধ্যেই পাঁচ ছক্কা ও তিন চারে রোহিত ফিফটি পূর্ণ করেন স্রেফ ২৩ বলে।

আইপিএলে তার দ্রুততম ফিফটি এটি। ২০১৫ আসরের ফাইনালে ইডেন গার্ডেন্সে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ২৫ বলে ফিফটি ছিল আগের দ্রুততম।

ছয় ছক্কা ও দুই চারে রিকেলটন ফিফটি পূর্ণ করেন ২৪ বলে।

আনুকুল রয়ের দারুণ ক্যাচে রোহিতের বিদায়ে ভাঙে ৭২ বলে ১৪৮ রানের শুরুর জুটি। আইপিএলে যেকোনো উইকেটে মুম্বাইয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি এটি।

‘ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে নেমে প্রথম বলে চার মেরে শুরু করলেও টিকতে পারেননি সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ (৮ বলে ১৬)। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে রান আউটে বিদায় নেন রিকেলটন।

১৪ বলে ২০ রান করে জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে ফেরেন তিলাক ভার্মা। বাকিটা সারেন অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া (১১ বলে ১৮*) ও নামান ধির (২ বলে ৫*)।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে ও ফিন অ্যালেনের ব্যাটে ভালো শুরু করে কলকাতা। অ্যালেনের (১৭ বলে ৩৭) উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে তারা করে ৭৮ রান।

আট ওভার শেষে কলকাতার রান ছিল ১ উইকেটে ১০১। সেখান থেকে আড়াইশর কাছাকাছি রানেই হয়তো নজর ছিল তাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি।

পাঁচ ছক্কা ও তিন চারে ৪০ বলে ৬৭ রান করেন রাহানে। চার নম্বরে নেমে ২৯ বলে ৫১ রান করেন আঙ্করিশ রাঘুভানশি। ২১ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ক্যামিও আসে রিঙ্কু সিংয়ের ব্যাট থেকে।

কোনো উইকেট না পেলেও ভালো বোলিং করেন জাসপ্রিত বুমরাহ। চার ওভারে তিনি দেন ৩৫ রান।