Published : 23 Nov 2025, 11:04 AM
মিরপুর টেস্টের প্রতিটি দিন যেন তাইজুল ইসলামের জন্য নতুন উচ্চতায় ওঠার পালা। সাকিব আল হাসানকে ছুঁয়ে, তাকে ছাড়িয়ে দেশের ক্রিকেটের সেরা হওয়ার পর এবার বিশ্ব ক্রিকেটেও একটি জায়গায় তিনি এখন সবার ওপরে। বাঁহাতি স্পিনে ২৫০ উইকেটের মাইলফলকে তিনি পৌঁছে গেলেন টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততায়।
এই রেকর্ডে অবশ্য তিনি একা নন। স্পর্শ করেছেন তিনি বাঁহাতি স্পিনের গ্রেট এবং বাংলাদেশের সাবেক স্পিন বোলিং কোচ রাঙ্গানা হেরাথকে। টেস্ট ইতিহাসে বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে কম টেস্টে ২৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এখন যৌথভাবে এই দুজনের।
৫৭ টেস্টে এই ঠিকানা ছুঁলেন তাইজুল। হেরাথেরও লেগেছিল ৫৭ টেস্ট।
এমনকি ইনিংসের দিক থেকেও দুজন এখন পাশাপাশি। ২৫০ উইকেট পর্যন্ত যেতে ১০২ ইনিংস লেগেছিল হেরাথের। তাইজুলেরও লাগল ঠিক ১০২ ইনিংসই।
হেরাথের আগে রেকর্ডটি ছিল বিষেন সিং বেদির। সর্বকালের সেরা বাঁহাতি স্পিনারদের একজন বলে বিবেচিত এই ভারতীয় ৬০ টেস্টে ছুঁয়েছিলেন ২৫০। ৬২ টেস্ট লেগেছিল রাভিন্দ্রা জাদেজার।
এই টেস্টে একের পর এক মাইলফলকের পথ ধরেই ছুটছেন তাইজুল। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নিয়ে স্পর্শ করেন তিনি সাকিব আল হাসানের উইকেট সংখ্যা। দ্বিতীয় ইনিংসে শনিবার সাকিবকে টপকে হয়ে যান দেশের সফলতম টেস্ট বোলার। সাকিবের কাছ থেকে পেয়েছেন অভিনন্দনও।
ম্যাচের পঞ্চম দিনটি শুরু করেন তাইজুল ২৪৯ উইকেট নিয়ে। দিনের প্রথম উইকেটটি পেতে বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। অবশেষে দিনের চতুর্ধশ ওভারে তাইজুলের হাত ধরেই আসে উইকেট। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার পাশাপাশি নিজে পৌঁছে যান আরেকটি চূড়ায়।
২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্ট দিয়ে তাইজুলের টেস্ট অভিষেক। ক্যারিয়ারের প্রথম ইনিংসেই নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। সাকিব যতদিন ছিলেন, দেশের বাইরে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি কমই। দেশের মাঠে টেস্টেও তার ভূমিকা ছিল মূলত সাপোর্ট বোলারের। পরে মেহেদী হাসান মিরাজের উত্থানেও সীমিত হয়ে আসে তার সুযোগ। এখন সাকিবহীন বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের কান্ডারি এই তাইজুলই। তবে দেশের মাঠে বরাবর তিনি বড় ভরসা।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে ৫৪ টেস্ট খেলে দুইশ উইকেট পূর্ণ করেছিলেন সাকিব আল হাসান, ৪৮ টেস্ট খেলে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম।