Published : 29 May 2026, 11:24 AM
ইনিংসের বয়স তখনও ১০ ওভার হয়নি। ন্যাথান স্মিথের নাম ততক্ষণে খোদাই হয়ে গেছে ইতিহাসে! ৫ ওভারেই নিয়ে ফেলেছেন তিনি ৫ উইকেট। এর মধ্যে ৪ ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে ফিরিয়ে গেছেন টেস্ট ইতিহাসে অনন্য এক কীর্তি। পরে ইনিংস শেষ করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে। তার পরও অবশ্য উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছেন না নিউ জিল্যান্ডের এই পেসার। তবে দলে অবদান রাখতে পেরে তিনি খুশি।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বেলফাস্ট টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি এমন পারফরম্যান্সেই রাঙান স্মিথ। প্রথম ওভানেই জোড়া আঘাতে তার শুরু। নিজের চতুর্থ ওভারে উইকেট নেন আরেকটি, পঞ্চম ওভারে আরও দুটি। তার বোলিং বিশ্লেষণ তখন ৫-২-৯-৫!
২৯ বলের মধ্যে ৫ উইকেট নিউ জিল্যান্ডের হয়ে দ্রুততম ৫ উইকেটের রেকর্ড গড়ে ফেলেন তিনি। এই ৫ শিকারের ৪ জনই আউট হন শূন্য রানে। এখানে তিনি ছাড়িয়ে যান টেস্ট ইতিহাসের সবাইকে। টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় দেড়শ বছরের পথচলায় তিনিই প্রথম বোলার, যিনি প্রতিপক্ষের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের চারজনকেই ফেরালেন শূন্যতে।
৩৮ রানে ৬ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ড পরে ১৭৯ রান করতে পারে প্রথম ইনিংসে। ৪০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে শেষ করেন স্মিথ। টেস্টে প্রথমবার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পান পঞ্চম টেস্টে।
দিনের খেলা শেষে স্মিথ শোনালেন তার পারফরম্যান্সের প্রতিক্রিয়া।
“দলে অবদান রাখতে পারাটা সবসময়ই দারুণ, সেটা উইকেট দিয়ে হোক, ভালো স্পেল দিয়ে হোক, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বা অন্য যা কিছুই হোক না কেন। তবে উইকেট নিতে পারা এবং দলকে সাহায্য করতে পারাটা অবশ্যই আরও বেশি আনন্দের।”
নতুন বলে বিধ্বংসী শুরুর পর বোলিংয়ের ধার কিছুটা কমে যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করলেন স্মিথ।
“নতুন বলে বোলিং করাটা সত্যিই দারুণ ছিল। বল কিছুটা মুভ করছিল এবং কন্ডিশনের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে পেরে ভালো লেগেছে। পুরোনো বল কিছুটা নরম হয়ে যাওয়ার এবং পিচ বেশ ধীরগতির হয়ে পড়ায় কাজ কিছুটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সৌভাগ্যবশত ওদের যা ক্ষতি করার, শুরুতেই আমরা করে ফেলেছিলাম।”
এই টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৪৯০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে ১৭৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে ফলো-অনে পড়া আইরিশরা দিন শেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৬৫ রান নিয়ে। ইনিংস পরাজয় এড়াতে আরও ২৪৬ রান প্রয়োজন তাদের।