Published : 12 Jan 2026, 08:16 AM
এই সময়ের ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয় সূক্ষ্মভাবে। প্রতিপক্ষের সব ব্যাটসম্যান ও বোলারকে নিয়ে থাকে আলাদা পরিকল্পনা। কিন্তু হাসান ইসাখিলকে নিয়ে তেমন কোনো প্রস্তুতি ছিল না ঢাকা ক্যাপিটালসের। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন অকপটেই বললেন, তাদের ধারণাও ছিল না যে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের একাদশে রাখা হবে এই ব্যাটসম্যানকে।
ইসাখিলের মূল পরিচয় এখনও বাবার নামে। আফগান কিংবদন্তি মোহাম্মাদ নাবির ছেলে তিনি। তবে বিপিএল অভিষেকেই ১৯ বছর বয়সী ওপেনার জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের নামে পরিচয় গড়তেও সময় খুব বেশি লাগবে না।
সিলেটে শনিবার ৬০ বলে ৯২ রান করে নোয়াখালীর জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন ইসাখিল। ইনিংসের পথে অর্ধশত রানের জুটি গড়েছেন বাবার সঙ্গে।
বাবা-ছেলের দলের বিপক্ষে ১৮৫ রান তাড়ায় ঢাকা হেরে যায় ৪১ রানে। ম্যাচের পর ঢাকার অধিনায়ক মিঠুন স্বীকার করে নিলেন, তাদের জন্য বিস্ময় হয়েই এসেছেন ইসাখিল।
“ওকে নিয়ে আমাদের আসলেই কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ও যে খেলতে পারে, এটা আমাদের কারও আইডিয়া ছিল না। ও আসরে খুব বেশি ক্রিকেট খেলেওনি যে, ওর ভিডিও ফুটেজ বের করব বা দুর্বল জায়গা নিয়ে কথা বলব। এটা আসলেই আমাদের জন্য চমক।”
আফগানিস্তানে এখনও পর্যন্ত চারটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছে ইসাখিল। সেঞ্চুরি করেছেন দুটি। পাঁচটি একদিনের ম্যাচ খেলে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করেছেন একটি করে। এই ম্যাচের আগে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৩০টি, ফিফটি ছিল ৬টি। আফগানদের ঘরোয়া ক্রিকেটের সেসব ম্যাচের ভিডিও পাওয়া প্রায় অসম্ভব। দেশের বাইরে লিগে অবশ্য তিনি খেলেছেন গত বছর নেপালের লিগে। তবে সেসব স্বীকৃত ম্যাচ নয়, ফুটেজ পাওয়াও কঠিন। এই বিপিএলের ম্যাচগুলিই আপাতত বিভিন্ন দলের জন্য কাজে দেবে তাকে নিয়ে বিশ্লেষণ করতে।
নোয়াখালীর বিদেশি ক্রিকেটার যেখানে ম্যাচ জিতিয়েছেন, ঢাকার বিদেশিদের চিত্র উল্টো। শুধু এই ম্যাচে নয়, ম্যাচের পর ম্যাচ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না তারা। বিদেশিদের নিয়ে হতাশাটা লুকালেন না মিঠুন।
“বিদেশি ক্রিকেটারদের প্রতি প্রত্যাশা বেশি থাকে। তারা খেলা বদলে দেয়। অন্যান্য দলের বিদেশিরা ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে। আমাদের দিকে এটার ঘাটতি আছে।”
“মানের কথা বললে, অবশ্যই ওরা অনেক মানসম্পন্ন ক্রিকেটার। গোটা বিশ্বেই ক্রিকেট খেলে বেড়ায় ওরা। এখানে ক্লিক করছে না। কারও তো কিছু করার নেই।”