ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
Published : 13 Oct 2025, 06:03 PM
আগের দিন পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করলেন জন ক্যাম্পবেল ও শেই হোপ। শেষ উইকেটে চমৎকার জুটি উপহার দিলেন জাস্টিন গ্রেভস ও জেডেন সিলস। তাদের সৌজন্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারতকে লক্ষ্য দিল ফলো-অনে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ দিনে অবশ্য স্বাগতিকদের সামনেই বড় জয়ের হাতছানি।
আহমেদাবাদের মতো দিল্লি টেস্টেও ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩৯০ রান করে ভারতকে ১২১ রানের লক্ষ্য দেয় তারা।
লক্ষ্য তাড়ায় ইয়াশাসভি জয়সওয়ালকে হারিয়ে ৬৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করেছে ভারত। জিততে শেষ দিনে তাদের চাই ৫৮ রান।
সফরকারীদের ইনিংস ব্যবধানে হার থেকে বাঁচানোর নায়ক ক্যাম্পবেল ও হোপ। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ১১৫ রান করেন ওপেনার ক্যাম্পবেল। তার ১৯৯ বল ও ২৬৫ মিনিট স্থায়ী ইনিংসটি ৩ ছক্কা ও ১২ চারে সাজানো।
ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিতে হোপ করেন ১০৩ রান। ২১৪ বল ও ২৮৬ মিনিট স্থায়ী ইনিংসে মারেন ২ ছক্কা ও ১২ চার।
টেস্টে আট বছর পর সেঞ্চুরি পেলেন হোপ। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে জোড়া শতক করেছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
ক্যাম্পবেল ও হোপের ১৭৭ রানের জুটিতে শক্ত ভিত পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এটি সর্বোচ্চ জুটি।
শেষ উইকেটে গ্রেভস ও সিলস গড়েন ৭৯ রানের যুগলবন্দি। ভারতের দশম উইকেটে যা তাদের সর্বোচ্চ, সব দল মিলিয়ে চতুর্থ।
৩ চারে ঠিক ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন গ্রেভস। একটি করে ছক্কা-চারে সিলসের ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান।
অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ২ উইকেটে ১৭৩ রান নিয়ে সোমবার দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের নবম ওভারে রাভিন্দ্রা জাদেজাকে ছক্কায় উড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন ৮৭ রান নিয়ে খেলতে নামা ক্যাম্পবেল।
টেস্টে ৪৮ ইনিংসে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তিনি। ওপেনারদের মধ্যে এই সংস্করণে প্রথম সেঞ্চুরি পেতে তার চেয়ে বেশি ইনিংস লেগেছে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রেভর গোডার্ডের (৫৮)।
সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি ক্যাম্পবেল। পানি পানের বিরতির পর প্রথম ওভারেই জাদেজাকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি।
এরপর রোস্টন চেইসকে নিয়ে দলকে টানেন ৬৬ রান নিয়ে নতুন দিন শুরু করা হোপ। তাদের ব্যাটে প্রথম সেশন পার করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মেদ সিরাজকে চার মেরে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটান হোপ।
এক ওভার পর বেজে যায় তার বিদায় ঘণ্টা, সিরাজের একটু নিচু হওয়া বলে স্টাম্প হারিয়ে। এরপর বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়ে ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিংয়ে। ১৮ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা।
সেখান থেকে দলের রান চারশর কাছে নিয়ে যান গ্রেভস ও সিলস। তাদের জুটি পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর টানা দুই ওভারে দুটি সুযোগ পায় ভারত। কুলদিপ ইয়াদাভ ও জাদেজার বলে সিলসের ক্যাচ গ্লাভসে জমাতে পারেননি ধ্রুব জুরেল।
৮৫ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন গ্রেভস। ওই ওভারেই সিলসকে বিদায় করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস গুটিয়ে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ। তিনি ও কুলদিপ এই ইনিংসে নিয়েছেন সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারে দুটি চার মারেন জয়সওয়াল। অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন তিনি। পরের ওভারে জোমেল ওয়ারিক্যানকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে খেলে ধরা পড়েন লং-অনে। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান এবার থামেন কেবল ৮ রান করে।
এরপর বাকি দলকে আর উইকেট হারাতে দেননি সাই সুদার্শান ও লোকেশ রাহুল। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৫৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শেষ করেন তারা।
রাহুলের রান ২ চারে ২৫ রান। ৫ চারে ৩০ রানে খেলছেন সুদার্শান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ৫১৮/৫ ডিক্লে.
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৪৮
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: (ফলো-অন) ১১৮.৫ ওভারে ৩৯০ (আগের দিন ১৭৩/২) (ক্যাম্পবেল১১৫, হোপ ১০৩, চেইস ৪০, ইমলাচ ১২, গ্রেভস ৫০*, পিয়ের ০, ওয়ারিক্যান ৩, ফিলিপ ২, সিলস ৩২; সিরাজ ১৫-৩-৪৩-২, জাদেজা ৩৩-১০-১০২-১, ওয়াশিংটন ২৩-৩-৮০-১, কুলদিপ ২৯-৪-১০৪-৩, বুমরাহ ১৭.৫-৫-৪৪-৩, জয়সওয়াল ১-০-৩-০)
ভারত ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১২১) ১৮ ওভারে ৬৩/১ (জয়সওয়াল ৮, রাহুল ২৫, সুদার্শান ৩০; সিলস ৩-০-১৪-০, ওয়ারিক্যান ৭-১-১৫-১, পিয়ের ৬-০-২৪-০, চেইস ২-০-১০-০)