Published : 06 Dec 2025, 09:27 PM
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে নিজের ছাপ রাখলেও, ওয়ানডেতে সবকিছু ঠিকঠাক হচ্ছিল না ইয়াশাসভি জয়সওয়ালের। যদিও এখানেও বেশি দিন সময় লাগল না তার। চতুর্থ ম্যাচেই রান তাড়ায় উপহার দিলেন দারুণ সেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে অনায়াসে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল ভারত।
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে পাত্তাই পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯ উইকেটের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে ভারত।
ভিসাখাপাত্নামে শনিবার কুইন্টন ডি ককের সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ২৭০ রান। ভারত লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৬১ বল হাতে রেখেই।
এই সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে জয়সওয়াল করেছিলেন ১৮ ও ২২। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়ানডে অভিষেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার রান ছিল ১৫। ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার এবার ১২১ বলে করেছেন অপরাজিত ১১৬। ১২ চার ও ২ ছক্কায় গড়া ইনিংসে ম্যাচ-সেরা তিনিই।
ষষ্ঠ ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন জয়সওয়াল। টেস্ট ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরি আছে সাতটি, টি-টোয়েন্টিতে একটি।
এখন শুধু ওয়ানডেতে খেলা দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রোহিত শার্মা ও ভিরাট কোহলি করেছেন ফিফটি। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় রোহিত করেছেন ৭৩ বলে ৭৫, ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ বলে অপরাজিত ৬৫ কোহলি।
সাত মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে গত অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন কোহলি। তৃতীয় ম্যাচে অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংস খেলে স্বরূপে ফেরার আভাস দেন তিনি। এই সিরিজে যেন নিজের সেরা সময়ে ফিরে গেলেন ৩৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। তিন ম্যাচে তার রান ১৩৫, ১০২ ও অপরাজিত ৬৫। সিরিজ-সেরা তিনি ছাড়া আর কে!

জয়সওয়াল-কোহলিদের ব্যাটের দাপটে আড়ালে পড়ে গেছে ডি ককের ৬ ছক্কা ও ৮ চারে ৮৯ বলে ১০৬ রানের দারুণ ইনিংস।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৌনে তিনশর নিচে আটকে রাখতে ভারতের হয়ে বল হাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন পেসার প্রাসিধ কৃষ্ণা ও স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভ, দুজনেরই শিকার ৪টি করে উইকেট।
আগের ম্যাচে ৩৫৮ রানের পুঁজি গড়েও হেরেছিল ভারত। এবার লক্ষ্য তাড়ায় সতর্ক শুরু করেন রোহিত ও জয়সওয়াল। প্রথম ৭ ওভারে আসে ৩১ রান, ১০ ওভারে ৪৮।
২৭ রানে পৌঁছে চতুর্থ ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন রোহিত। আগের তিন জন সাচিন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড় ও কোহলি।
৫৪ বলে ফিফটি করেন রোহিত, পঞ্চাশ ছুঁতে জয়সওয়ালের লাগে ৭৫ বল। স্পিনার কেশাভ মহারাজকে স্লগ সুইপের চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন রোহিত। শুরুর জুটিতে আসে ১৫৫ বলে ১৫৫ রান।
জয়সওয়াল ও কোহলি এরপর জয়ের পথে এগিয়ে নেন দলকে। কর্বিন বশকে ‘নো লুক’ শটে ওয়াইড লং অন দিয়ে চোখধাঁধানো ছক্কা মারেন কোহলি। এই পেসারকে পরে তিনি আরেকটি ছক্কা মারেন ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে।
জয়সওয়াল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১১১ বলে। ফিফটি ছুঁতে কোহলির লাগে ৪০ বল। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরের বলে তিনি আরেকটি ছক্কা মারেন ওটনিয়েল বার্টমানকে। পরের ওভারে টানা দুই চারে ম্যাচের ইতি টেনে দেন তিনিই।
শেষের মতো ভারতের শুরুটাও হয় কাঙ্ক্ষিত এক জয় দিয়ে। ওয়ানডেতে রেকর্ড টানা ২০ ম্যাচে টস হারের পর অবশেষে এদিন জিততে পারে তারা।
বোলিংয়ে সাফল্য পেয়ে যায় তারা প্রথম ওভারেই। এক ম্যাচ পর একাদশে ফিরে আবার শূন্য রানে আউট হন রায়ান রিকেলটন। বাঁহাতি পেসার আর্শদিপ সিংয়ের আউট-সুইঙ্গারে কিপারের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে ১১৩ রানের জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে এগিয়ে নেন ডি কক ও অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। সিরিজে আরেকবার ফিফটির কাছে গিয়ে বিদায় নেন বাভুমা (৬৭ বলে ৪৮)। তাকে ফিরিয়ে সিরিজে প্রথম উইকেটের দেখা পান রাভিন্দ্রা জাদেজা।
ডি কক এগিয়ে যান দারুণ সব শট খেলে। তিলাক ভার্মাকে পরপর দুই ছক্কায় পৌঁছে যান নব্বইয়ের ঘরে।
২৯তম ওভারে জোড়া ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাথু ব্রিটস্কি (২৩ বলে ২৪) ও এইডেন মার্করামকে ফিরিয়ে দেন প্রাসিধ। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মার্করাম এবার ফেরেন শূন্য রানে।
পরের ওভারে হার্শিত রানাকে ছক্কায় উড়িয়ে ডি কক ২৩তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৮০ বলে। এই সংস্করণে ভারতের বিপক্ষে তার সপ্তম সেঞ্চুরি এটি। কোনো নির্দিষ্ট একটি দলের বিপক্ষে স্বীকৃত উইকেটকিপার হিসেবে যা সর্বোচ্চ। ভারতের বিপক্ষে ৬টি আছে কুমার সাঙ্গাকারার, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬টি অ্যাডাম গিলক্রিস্টের।
স্বীকৃত উইকেটকিপার হিসেবে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডে সাঙ্গাকারার পাশেও বসলেন ডি কক।
সেঞ্চুরির পর বেশিদূর যেতে পারেননি বাঁহাতি ওপেনার। তাকেও ফেরান প্রাসিধ। এরপর নিয়মিত উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সংগ্রহটাও তাই বড় হয়নি।
শিশিরের প্রভাবের কারণে পরে ব্যাটিং করা হয়ে যায় অনেকটা সহজ। ২৭০ রানের পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে তাই দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৭.৫ ওভারে ২৭০ (ডি কক ১০৬, রিকেলটন ০, বাভুমা ৪৮, ব্রিটস্কি ২৪, মার্করাম ১, ব্রেভিস ২৯, ইয়ানসেন ১৭, বশ ৯, মহারাজ ২০*, এনগিডি ১, বার্টমান ৩; আর্শদিপ ৮-১-৩৬-১, হার্শিত ৮-২-৪৪-০, প্রাসিধ ৯.৫-১-৬৬-৪, জাদেজা ৯-০-৫০-১, কুলদিপ ১০-১-৪১-৪, তিলাক ৩-০-২৯-০)
ভারত: ৩৯.৫ ওভারে ২৭১/১ (জয়সওয়াল ১১৬*, রোহিত ৭৫, কোহলি ৬৫*; ইয়ানসেন ৮-১-৩৯-০, এনগিডি ৬.৫-১-৫৬-০, মহারাজ ১০-০-৪৪-১, বার্টমান ৭-০-৬০-০, বশ ৬-০-৫৩-০, মার্করাম ২-০-১৭-০)
ফল: ভারত ৯ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ভারত ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ইয়াশাসভি জয়সওয়াল
ম্যান অব দা সিরিজ: ভিরাট কোহলি