১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ডেঙ্গু ঠেকাতে মাঠে টাস্ক ফোর্স, অভিযানে প্রতিমন্ত্রী

এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় কয়েকটি ভবনকে জরিমানাও করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Jun 2026, 11:40 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:29 PM

সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ ঠেকাতে গঠিত টাস্ক ফোর্সের উদ্যোগে ঢাকার গুলশানে ‘মশক নিধন অভিযানে’ নেমেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। 

এই অভিযানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় বেশ কিছু ভবনকে জরিমানাও করা হয়।

বুধবার সকাল ৯টার পর থেকে ঢাকার গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের (শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক নামে পরিচিত) আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হয়। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ বলছে, বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে গঠিত টাস্ক ফোর্সের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই বিশেষ অভিযান ও পরিদর্শন করা হয়েছে।

মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে মঙ্গলবার। 

তিনি  বলেন, “শুধুমাত্র ঢাকা মহানগরে অভিযান পরিচালনার জন্য আমার নেতৃত্বে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজকের অভিযানটি ওই টাস্কফোর্সের প্রথম কার্যক্রম।”

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি জাতীয় কমিটি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই কমিটির সভায় প্রায় ২০টি মন্ত্রণালয়ের সচিব অংশ নেন। 

“সেখানে সারাদেশে কীভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়, এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা যায় এবং লার্ভার বিস্তার রোধ করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভায় সিটি করপোনেশস, পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

অভিযানের প্রথম দিনে গুলশানের সাত নম্বর রোডের 'চয়েস রেস্টুরেন্টে’ এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিদর্শন করা ৬টি বাড়ির মধ্যে ৩টিতেই লার্ভা মেলায় জরিমানা করা হয়।

মশার বংশবৃদ্ধি রোধে লার্ভা ধ্বংসকারী দীর্ঘমেয়াদি 'নোভা লিউরোন' ট্যাবলেট বিতরণ ও প্রয়োগ করা হচ্ছে। নিজস্ব নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে নাগরিকদের ফুলের টব, গাড়ির টায়ার ও পরিত্যক্ত বালতির জমে থাকা পানি পরিষ্কারে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত বছর ডেঙ্গুর দাপট দেখা গেলেও চলতি বছরের এ পর্যন্ত মশাবাহিত এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কম। গত মার্চ ও এপ্রিলে ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। তার আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দু্জন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে নভেম্বর মাসে। সেই মাসে ১০৪ জনের প্রাণ যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।

ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকনগুনিয়াও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত