Published : 20 May 2026, 03:34 PM
একটু যেন ছন্নছাড়া, একটু যেন শঙ্কিত। বাংলাদেশ দল ক্রমে মিইয়ে যাচ্ছিল সময়ের সঙ্গে। মোহাম্মাদ রিজওয়ান ও সাজিদ খানের জুটি যখন জমে উঠেছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষায় ছিল যেন ভয়ের ছাপ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ জয় আদায় করে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাচের পর পেছন ফিরে তাকিয়ে সেই মুহূর্তগুলোর গল্প শোনালেন অধিনায়ক। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার জয়কে তিনি বললেন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য।
পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই সিলেট টেস্টের শেষ দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল তাদের স্রেফ তিন উইকেট, পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২১ রান।
কিন্তু রিজওয়ান ও সাজিদের দারুণ ব্যাটিংয়ে দিনের প্রথম ৯ ওভারে ৪২ রান তুলে ফেলে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বোলিং গোছানো হচ্ছিল না, ফিল্ডিংও ছিল না ধারাল। তবে পানি পানের বিরতির পরই তাইজুল ইসলামের হাত ধরে প্রথম ব্রেক থ্রু আসে। এরপর আর সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। পরের দুটি উইকেটও পড়ে যায় কোনো রান যোগ না করেই।
৭৮ রানের জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বললেন, প্রথম ঘণ্টায় একটু দুর্ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলেন তারা।
“ওই এক ঘণ্টার আবেগ ব্যাখ্যা করা মুশকিল। সত্যি বলতে, ওরা ভালো ব্যাটিং করছিল। আমরা একটু চাপেও ছিলাম। তবে একটা ব্যাপার বলব যে, আগের টেস্ট ম্যাচগুলো থেকে আস্তে আস্তে এখন ওই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, প্যানিক না করা, এসব আরও ভালো হয়েছে। যদিও ওখানে আরও উন্নতির জায়গা আছে, বড় দলগুলি এখানে আরও ধীরস্থির থাকে। তবে আগের চেয়ে আরও উন্নতি হওয়ায় অধিনায়ক হিসেবে আমি খুশি।”
এই সিরিজের দুটি টেস্টই গড়িয়েছে শেষ দিনে। মিরপুরে ১০৪ রানে জিতলেও শেষ দিনে শেষ সেশনে নাটকীয়তার পর জিতেছিল বাংলাদেশ। সিলেটেও শেষ দিনে জয়টা এলো রোমাঞ্চ ছড়িয়ে। ১০ দিনের লড়াইয়ে জিতে গর্বের ছোঁয়া পাচ্ছেন অধিনায়ক।
“১০ দিন ধরে টেস্ট সিরিজ খেলতে পেরেছি। এটা অবশ্যই গর্বের ব্যাপার। সাধারণত আমরা ওভাবে পাঁচ দিন, পাঁচ দিন করে ক্রিকেট খুব একটা খেলিনি অতীতে। এটাও উন্নতির জায়গা। পুরো সিরিজে দল হিসেবে খেলতে পেরেছি।”
“প্রত্যেক ক্রিকেটার যেভাবে পরিশ্রম করেছে, প্রতিটি ব্যাটসম্যান, বোলার, এমনকি যারা ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি, কোচিং স্টাফ, দলে সহায়তা করার জন্য যারা থাকে, সবারই অবদান ছিল। সবাই চাচ্ছিল যে আরেকবার আমরা এরকম একটা ভালো ফল করতে পারি। সব মিলিয়ে আমি খুব গর্ব অনুভব করছি প্রত্যেকটি ক্রিকেটারের ওয়ার্ক এথিক দেখে।”
শেষ দিনে বৃষ্টিময় সকালে যে দর্শকেরা মাঠে এসেছিলেন, তাদেরর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন অধিনায়ক।
“গ্যালারিতে যে কয়েকজন দর্শকই ছিলেন, তারা যেভাবে সাপোর্ট করেছেন, অবশ্যই তাদেরকে ধন্যবাদ। তারা টেস্ট ম্যাচে যেভাবে সাপোর্ট করেছেস…আজকে একটা সময় দেখছিলাম যে, যখন উইকেট পড়ছিল না, গ্যালারি থেকে সাপোর্টটা আমরা পাচ্ছিলাম। একটা নতুন ব্যাপার যে, টেস্ট ক্রিকেটে দর্শকরা কম-বেশি যা আসছে, তারা খেলার মোমেন্টামটা বুঝতে পেরে আমাদেরকে ওই সাপোর্টটা দিয়েছেন।”
২০২৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে তাদেরকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এবার দেশের মাঠে একরকম বয়ে-কয়েই তাদেরকে হারাল একই ব্যবধানে। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ২৬ বছরের পথচলায় এটিকেই সেরা সাফল্য মনে করেন শান্ত।
“এখন পর্যন্ত (সেরা)… এখন পর্যন্ত। তবে আমি মনে করি যে, সামনে আরও অনেক টেস্ট ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে। ওখানে আরও ভালো অর্জন হবে, এটাই আশা থাকবে। সব মিলিয়ে বলব যে, এই চারটা ম্যাচ অনেক স্পেশাল। আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি।”
তবে এখানেই তৃপ্তির ঢেকুর তোলার অবকাশ দেখছেন শান্ত। নিজেদের মানদণ্ড তুলে নিতে চান তারা আরও অনেক ওপরে।
“যেটা সবসময় বলি, আমাদের টেস্ট টিম আস্তে আস্তে গড়ে তুলতে হবে। আরও অনেক জায়গা আছে উন্নতির। ওই জায়গাগুলো ঠিকঠাক করতে হবে। ওসব ঠিকঠাক করে যখন আমরা দেশে এবং দেশের বাইরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলব, তখন বলব যে আমাদের দলটা আগের থেকে ভালো অবস্থানে যাচ্ছে।”
“গত দুই-তিন বছর ধরে বলব যে উন্নতি হচ্ছে, এগোচ্ছি আমরা। তবে গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা যখন আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ব, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের খেলা আছে, ওসব জায়গায় আমরা কত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারছি, এসব গুরুত্বপূর্ণ।”