Published : 13 Jan 2024, 09:55 AM
ভারত সফরে যাওয়ার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্যাম্প করছে ইংল্যান্ড দল। ভারতের যাওয়ার পর কিছু অনুশীলন সেশন তো আছেই। তবু বেন স্টোকসের দলের প্রস্তুতিতে বড় ফাঁক দেখছেন মার্ক বুচার। এই ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংলিশ ব্যাটসম্যানের মতে, প্রস্তুতির সেই ঘাটতির গত অ্যাশেজের মতো এবারও ইংল্যান্ডের জন্য দুর্ভাবনার কারণ হতে পারে।
ভারত সবশেষ দেশের মাঠে টেস্ট সিরিজ হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছেই, সেই ২০১২ সালে। ইংলিশদের সফর ঘিরে তাই বাড়তি আগ্রহ থাকারই কথা। তবে এবারের সফরে কৌতূহল আরও বেশি অন্য আরেকটি কারণে। ‘বাজবল’ দিয়ে টেস্ট দুনিয়ায় আলোড়ন তোলার পর এবারই প্রথম ভারত সফরে আসছে ইংল্যান্ড।
আগামী ২৫ জানুয়ারি হায়দরাবাদ টেস্ট দিয়ে শুরু হবে বহুল আলোচিত পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজ। উপমহাদেশের কন্ডিশনের কাছাকাছি বলে এখন আবু ধাবিতে ১১ দিনের ক্যাম্পে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন ইংলিশরা। প্রথম টেস্টের তিন দিন আগে তারা পা রাখবেন হায়দরাবাদে।
অনুশীলন তাই যথেষ্টই হচ্ছে তাদের। কিন্তু সফরে রাখা হয়নি কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ! একসময় কোনো দলের টেস্ট সফরে প্রস্তুতি ম্যাচ না থাকার কথা কল্পনাই করা যেত না। দুই বা তিন ম্যাচের সফরেও প্রস্তুতি ম্যাচ থাকত। পাঁচ ম্যাচের সফরে তো একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ থাকত। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটের বদলে যাওয়া নানা পেক্ষাপটে গা গরমের ম্যাচ এখন অনেক কমে এসেছে। তার পরও পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ না থাকাটা বিস্ময়করই।
উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্ট-এ সেটিই তুলে ধরলেন মার্ক বুচার।
“সত্যি বলতে, আমি যদি এই দলে থাকতাম, তাহলে কিছুটা আতঙ্কিতই হতাম। দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই গত জুলাইয়ের পর দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে খেলেনি। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ হয়েছে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে, কিন্তু এই দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই সেখানে খুব একটা ম্যাচ খেলেনি।”

“অনুশীলন তো জরুরিই। তবে মাঠে নামা, ক্রিজে গিয়ে গার্ড নেওয়া ও রান করা, নিজের উইকেটকে মূল্যবান করে তোলা, লম্বা সময় ধরে সেই প্রতিযোগিতার মধ্যে না থাকার ব্যাপারটি নিয়ে দুর্ভাবনা আছে আমার।”
গত জুলাইয়ে দেশের মাঠে অ্যাশেজের পর আর কোনো টেস্ট খেলেনি ইংল্যান্ড। ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি তাই প্রবল ভাবেই থাকার কথা তাদের। ভারত মাত্রই টেস্ট সিরিজ খেলে এলো দক্ষিণ আফ্রিকায়।
ওই অ্যাশেজের আগেও ইংল্যান্ডের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে বেশ কথা হয়েছিল। ফেভারিট হিসেবে শুরু করেও এক পর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ইংলিশরা এবং শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ ড্র করলেও অ্যাশেজ জিততে পারেনি। সেটিই তুলে ধরে বুচার বললেন, প্রস্তুতিতে ঘাটতি রেখে দিলে কোনো যুক্তিই গ্রহণযোগ্য নয়।
“দেশের মাঠে গত গ্রীষ্মে অ্যাশেজের আগেও একই কাজ তারা করেছিল এবং ২-০তে পিছিয়ে পড়েছিল। এরপর নিজেদের ফিরে পেয়েছিল। এই ভারত সফরের ইংল্যান্ড দলে অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে, স্পিন বোলিংয়ে অসাধারণ কেউ নেই। কাজেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০তে পিছিয়ে পরে ঘুরে দাঁড়াতে পারলেও ভারতের বিপক্ষে তেমন কিছু করতে পারবে, বলার উপায় নেই। বিশেষ করে ভারতীয় দল যখন দেশের মাঠে হারেই না।”
“ভারতে গিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড জিতবে, এটা হয়তো কেউই বিশ্বাস করে না। কিন্তু প্রস্তুতির জন্য যা যা করা দরকার, তা না করেই যদি সেখানে যাওয়া হয় এবং এরপর হেরে আসে, তাহলে তো লোকে তা মেনে নেবে না। তখন সেখানে অজুহাত দেওয়ার কিছু থাকবে না।”