Published : 08 Aug 2025, 10:16 PM
৯১ ওভারে ৪২৭ রান, উইকেট স্রেফ দুটি। এতেই পরিষ্কার, দিনটা কতটা দুর্বিষহ কেটেছে জিম্বাবুয়ের বোলারদের। তাদের চোখের জল নাকের জল এক করে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন নিউ জিল্যান্ডের তিন ব্যাটসম্যান। কিউইদের সংগ্রহ ছাড়িয়েছে ছয়শ আর লিড পৌঁছে গেছে পাঁচশর কাছে।
বুলাওয়ায়োতে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে নিউ জিল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ৬০১। প্রথম দিন জিম্বাবুয়েকে ১২৫ রানে গুটিয়ে দেওয়া সফরকারীরা এগিয়ে আছে এখন ৪৭৬ রানে।
এই দুই দলের মধ্যে টেস্টে প্রথম ছয়শ রানের দলীয় স্কোর এটি। ২০১৬ সালে একই মাঠে নিউ জিল্যান্ডের ৪ উইকেটে ৫৮২ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
টেস্ট ক্রিকেটে আড়াই বছরের সেঞ্চুরি খরা কাটিয়ে ১৫৩ রানের ইনিংস খেলেছেন ওপেনার কনওয়ে। তার ২৪৫ বলের ইনিংস গড়া ১৮ চারে।
দুই বছরের বেশি সময় পর সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে ২৪৫ বলে ১৫০ রানে খেলছেন হেনরি নিকোলস। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২১ চার ও ২ ছক্কায় ১৩৯ বলে ১৬৫ রান করে অপরাজিত আছেন রাচিন রাভিন্দ্রা।
এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ২৮৫ বলে ২৫৬।
এক ইনিংসে তিন ব্যাটসম্যানের দেড়শ ছোঁয়ার তৃতীয় নজির এটি। এর আগে ১৯৩৮ সালে ওভাল টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ও ১৯৮৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কানপুর টেস্টে ভারতের তিন জন করে ব্যাটসম্যান পেয়েছিলেন এই স্বাদ।
জিম্বাবুয়ের হয়ে রান দেওয়ার সেঞ্চুরি করেছেন তিন জন বোলার।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ১ উইকেটে ১৭৪ রান নিয়ে শুক্রবারের খেলা শুরু করে নিউ জিল্যান্ড। আগের দিন ৭৯ রানে অপরাজিত কনওয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১৪৩ বলে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচি টেস্টে ১২২ রানের পর এই প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। চলতি সিরিজে প্রথম টেস্টে ৮৮ রানে আউট হয়েছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
অভিষিক্ত জ্যাকব ডাফি বেশিদূর যেতে পারেননি (৫৫ বলে ৩৬)। দেড়শ ছোঁয়ার পরপরই ব্লেসিং মুজারাবানির বলে বোল্ড হয়ে যান কনওয়ে। তৃতীয় উইকেটে নিকোলসের সঙ্গে ১১০ রানের জুটি গড়েন তিনি।
দিনের বাকি সময়টায় রাজত্ব করেন নিকোলস ও রাভিন্দ্রা। শুরু থেকে ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে রাভিন্দ্রা ফিফটি পূর্ণ করেন ৪৮ বলে। ৭৬ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া নিকোলস সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ১৬৬ বলে।
তার দশম টেস্ট সেঞ্চুরি এটি। ২০২৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্টে অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরির পর এই প্রথম তিন অঙ্কের দেখা পেলেন তিনি। জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরেন তিনি দেড় বছর পর।
২৫ বছর বয়সী রাভিন্দ্রা সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১০৪ বল খেলেই। ক্যারিয়ারের প্রথম তিনটি টেস্ট সেঞ্চুরি তিনি করলেন ভিন্ন তিন দেশে।
একশ থেকে রাভিন্দ্রার দেড়শতে পৌঁছাতে লাগে স্রেফ ২৯ বল। নিকোলস দেড়শ পূর্ণ করেন ২৩৯ বলে।
নিউ জিল্যান্ড পাঁচশ থেকে ছয়শতে পৌঁছে যায় ১২ ওভারের মধ্যেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ১২৫
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১৭৪/১) ১৩০ ওভারে ৬০১/৩ (কনওয়ে ১৫৩, ডাফি ৩৬, নিকোলস ১৫০*, রাভিন্দ্রা ১৬৫*; মুজারাবানি ২৪-৫-১০১-১, চিভাঙ্গা ১৭-৩-৯৪-০, গুয়ান্ডু ১৯-০-১৩১-১, উইলিয়ামস ১৪-১-৩৭-০, মাসেকেসা ১৯-০-১০৪-১, রাজা ২৬-৩-৭৩-০, বেনেট ১১-০-৪৩-০)