Published : 17 Jan 2026, 09:47 PM
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের টসের সময় দুই অধিনায়কের করমর্দন না করার ঘটনা অনিচ্ছাকৃত বলে জানিয়েছেন বিসিবি। প্রতিপক্ষকে অসম্মান করার কোনো ইচ্ছে সেখানে ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়েছে বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
যুব বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শনিবার বুলাওয়ায়োতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। ম্যাচ শুরুর আগে টসের সময় হাত মেলাননি ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে ও বাংলাদেশের হয়ে টস করতে নামা সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার।
টসের সময় জাওয়াদের এক হাতে ছিল মাইক্রোফোন, আরেক হাত ছিল ট্রাউজারের পকেটে। মুদ্রা নিক্ষেপ করেন ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুশ। টসে জেতে বাংলাদেশ। জাওয়াদ এরপর পকেট থেকে হাত বের করলেও দুই অধিনায়কের কেউ হাত বাড়াননি করমর্দন করতে। এগিয়ে গিয়ে সঞ্চালকের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন জাওয়াদ।
এরপর দুই দেশেরই বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের অধিনায়ক হাত মেলাননি।
গত এশিয়া কাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক ও গোটা দলের সঙ্গে ভারতীয় অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ ও তার দলের ক্রিকেটারদের হাত না মেলানো নিয়ে তুমুল তোলপাড় হয়েছে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। সম্প্রতি মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া ও এরপর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ না খেলতে বিসিবির সিদ্ধান্তের জের ধরে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কও এখন শীতল।
আয়ুশ ও জাওয়াদের হাত না মেলানোর সঙ্গে সবকিছুর যোগসূত্র টানা হচ্ছিল দুই দেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে। তবে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়েতে থাকা বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক এহসানুল হক ঘটনার পরপরই বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে জানান, হাত না মেলানোর ঘটনা ইচ্ছাকৃত নয়, বরং ভুল করেই হয়ে গেছে। খেলা শেষে দুই দলের সবাই হাত মেলাবেন বলেও জানান তিনি।
এই ঘটনা নিয়ে তবু সামাজিক মাধ্যমে নানা কিছু ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা দেয় বিসিবি।
“অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম টসে যোগ দিতে পারেননি, দলের প্রতিনিধিত্ব করেন সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। বিসিবি এটা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চায় যে, প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন না করার ব্যাপারটি ছিল পুরোপুরি অনিচ্ছকৃত এবং তাৎক্ষনিক মনোযোগোর ঘাটতির ফলাফল। প্রতিপক্ষের প্রতি অসৌজন্যতা বা অসম্মান প্রদর্শনের কোনো ইচ্ছে সেখানে ছিল না।”
“ক্রিকেটীয় চেতনা তুলে ধরা প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মানকে যে কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মৌলিক পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হয় বলেই ব্যাপারটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছে বিসিবি এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে তাৎক্ষনিকাভাবে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে যে কোনো ক্ষেত্রে স্পোর্টসম্যানশিপের সর্বোচ্চ মান, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ধরে রাখতেক্রিকেটারদেরকেও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের দায়িত্ব।”
মাঠের ভেতরে-বাইরে ক্রিকেটীয় মূল্যবোধের প্রতি বোর্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে।