Published : 04 Jan 2026, 06:52 PM
মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে অবিশ্বাস্য উন্নতি করেছেন ডেমিয়েন মার্টিন। অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটিং গ্রেটকে দ্রুত আইসিইউ থেকে বের করে আনতে আশাবাদী চিকিৎসকরা।
৫৪ বছর বয়সী মার্টিনের শারীরিক অবস্থার এই অভাবনীয় অগ্রগতির কথা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানিয়েছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, যিনি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে মার্টিনের দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও বন্ধু।
গত ২৬ ডিসেম্বর বক্সিং ডেতে অসুস্থ হয়ে পড়লে মার্টিনকে গোল্ড কোস্টের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে তার অসুস্থতার খবর তখন খুব বেশি প্রচার করেনি পরিবার।
পরে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক রুলস ফুটবল তারকা ব্র্যাড হার্ডি পার্থের ৬পিএআর রেডিওতে প্রথম সামনে আনেন মার্টিনের অসুস্থতা খবর।
অবস্থা ভীষণ গুরুতর হওয়ায় মার্টিনকে তখন ‘ইনডিউসড কোমায় রাখা হয়।’ এটার মানে প্ররোচিত কোমা বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ওষুধের মাধ্যমে অচেতন রাখা। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে কোমা থেকে বের করে আনার কথা জানান গিলক্রিস্ট।
“গত ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতির অবিশ্বাস্য পরিবর্তন ঘটেছে। সে এখন কথা বলতে এবং চিকিৎসায় সাড়া দিতে পারছে। কোমা থেকে ফেরার পর সে অসাধারণভাবে সাড়া দিয়েছে, তার পরিবারের কাছে এটাকে অলৌকিক মনে হচ্ছে।”
“এটা খুবই ইতিবাচক যে, তারা (চিকিৎসকরা) তাকে আইসিইউ থেকে হাসপাতালের অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে আশাবাদী। আর এটা তার দুর্দান্তভাবে সেরে ওঠার ও পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ার প্রতিফলন। সে ভালো মানসিক অবস্থায় আছে এবং সবার সমর্থন পেয়ে অভিভূত। এখনও কিছু চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণ বাকি আছে, তবে এটা ইতিবাচক দেখাচ্ছে।”
মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক বা সুষুম্নাকাণ্ডের আবরণীর প্রদাহ বা মস্তিষ্ক-ঝিল্লীর প্রদাহ। খুবই গুরুতর রোগ এটি, যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা পরজীবীর সংক্রমণের কারণে ঘটে। এটি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে মার্টিনের।
“সে হাসপাতালেই থাকবে এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাবে। তবে যেভাবে তার অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে তা অলৌকিক।”
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৭ টেস্ট খেলে ৪৬.২৭ গড়ে ৪ হাজার ৪০৬ রান করেছেন মার্টিন। সেঞ্চুরি করেছেন ১৩টি, ফিফটি ২৪টি। ২০৮ ওয়ানডে খেলে ৪০.৮০ গড়ে করেছেন ৫ হাজার ৩৪৬ রান। এই সংস্করণে শতরান ৫টি, অর্ধশত ৩৭টি।
ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটও কিছুটা পেয়েছেন। ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাদিক টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন। চারটি ম্যাচ খেলেছেন এই সংস্করণে। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৬ বলে ৯৬ রানের একটি ইনিংস আছে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মার্টিন জিতেছেন ১৯৯৯ ও ২০০৩ বিশ্বকাপ। ১৯৯৯ আসরে তেমন কিছু করতে না পারলেও ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা জয়ের নায়কদের একজন ছিলেন তিনি।
এসব পরিসংখ্যান বা সংখ্যায় অবশ্য মার্টিনকে ফুটিয়ে তোলা যাবে সামান্যই। দারুণ স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি, যার মায়াঞ্জন বুলিয়ে দিত চোখে, দোলা দিত হৃদয়ে। তার কাভার ড্রাইভ, তার ফ্লিক, কাট শট, তার ব্যাটিংয়ে যেন নান্দনিকতার ফুল ফুটত। তার টেকনিক ছিল ধ্রুপদি ঘরানার, সব ধরনের শট ছিল হাতে।
ব্যাট হাতে ২২ গজে অনেক লড়াইয়ে জেতা মার্টিন এখন লড়ছেন জীবন বাঁচানোর জন্য। সেখানেও ঘুরে দাঁড়ানোর পথে আছেন তিনি।