১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মায়ের ভালোবাসার পরশে মায়ের দেশের বিশ্বকাপ লড়াইয়ে টেইলর

মায়ের দেশ সামোয়াকে বিশ্বকাপে নিতে ৪১ বছর বয়সে অবসর ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে চাওয়ার পেছনের গল্প শোনালেন নিউ জিল্যান্ডের গ্রেট রস টেইলর।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Sep 2025, 02:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:18 PM

কিছুদিন আগের কথা। মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাচ্ছিলেন রস টেইলর। যেতে যেতে ফোনে কথা বলছিলেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার মার্ফি সু’য়ার সঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পর সু’য়া খেলেছেন সামোয়ার হয়ে, দলটির কোচও ছিলেন পরে। সামোয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন টেইলর। তখন তিনি একটি অদ্ভুত প্রস্তাব পেলেন সু’য়ার কাছ থেকে “বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলবে…?”

শুরুতেই উড়িয়েই দিয়েছিলেন টেইলর। কথা বলতে বলতে তিনি একটু ভাবলেন। ফোন রাখার পর গাড়ী থেকে নেমে মেয়ের ক্লাসরুম পর্যন্ত যেতে যেতে নিজের ভেতরে তাগিদ অনুভব করলেন। ফোন করে সু’য়াকে তা জানালেন। তার পরও মনের কোণে সংশয় যতটুকু ছিল, দূর হয়ে গেল মায়ের সঙ্গে কথা বলে। 

তার মা লোটে টেইলরের দেশ সামোয়া। ছেলেকে উৎসাহ জোগালেন তিনি। সেই মা এখন আর বেঁচে নেই। কিডনি রোগে অনেক দিন লড়াই করে এই তো কদিন আগেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে মায়ের কথাকে হৃদয়ে ধারণ করে টেইলর তৈরি হচ্ছেন তার ক্যারিয়ার ও জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের জন্য। মায়ের দেশের হয়ে ফিরতে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

নিউ জিল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন, ২০২২ সালে যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন কিউইদের ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান হিসেবে, সাড়ে তিন বছর পর আবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নামবেন তিনি সামোয়ার হয়ে। 

নিউ জিল্যান্ডের হয়ে চারটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা ব্যাটসম্যান এবার খেলবেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে। আগামী মাসে ওমানে অনুষ্ঠেয় পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাছাইয়ের সামোয়া স্কোয়াডে রাখা হয়েছে ৪১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানকে।

দিন দশেক আগে সামাজিক মাধ্যমে খেলার খবরটি জানিয়েছেন টেইলর। এবার আইসিসি ডিজিটালকে শোনালেন তিনি পেছনের গল্প। 

“মার্ফ (মার্ফি সু’য়া) বলেছিল, ‘ফোন করার জন্য ধন্যবাদ। তবে তোমাকে আরও কিছু বলার আছে আমার। অগাস্টে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে সামোয়া, তুমি কি খেলতে আগ্রহী?’ আমার প্রাথমিক ভাবনা ছিল, ‘থ্যাংকস, বাট নো থ্যাংকস! যদি সত্যি বলি, আমার সময় শেষ।”

“তখন আমি মেয়েকে (স্কুল থেকে) নিতে যাচ্ছিলাম। তাকে (সু’য়া) বললাম, আমার হয়তো পাঁচ শতাংশ সম্ভাবনা আছে খেলার। গাড়ি থেকে নেমে মেয়ের ক্লাসরুম পর্যন্ত যেতে সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়াল ২৫ শতাংশে। আমি ওকে আবার ফোন করে বললাম, ‘২৫ শতাংশ রাজি।”

নিউ জিল্যান্ডের হয়ে খেলা প্রথম সামোয়ান বংশোদ্ভুত ক্রিকেটার এই সু’য়া। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ১৩ টেস্ট ও ১২ ওয়ানডে খেলেছেন বাঁহাতি এই পেসার। পরে তিনি পাড়ি জমান বাবা-মায়ের দেশ সামোয়ায়। দেশটির হয়ে খেলে গেছেন প্রায় ৪৬ বছর বয়স পর্যন্ত। পরে কোচিং করিয়েছেন সেখানে। সামোয়া-পাপুয়া নিউ গিনির মতো দেশগুলোতে ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে কাজ করেছেন অনেক।

সু’য়ার সঙ্গে কথোপকথনের কদিন পর মায়ের সঙ্গেও আলোচনা করেন টেইলর। এরপরই মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। 

“আমার মা তখন অসুস্থ ছিল। তার কিডনি কাজ করছিল না। মারা যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলতে পেরেছিলাম। তিনি স্রেফ বলেছিলেন, ‘এটা তোমার ওপর বাবা… করে ফেলো।”

সামোয়ার প্রতি অনুরাগ টেইলরের সবসময়ই ছিল। তার পুরো নামেও আছে সামোয়ার ছোঁয়া- লুটেরু রস পোটোয়া লোটে টেইলর। মায়ের কারণেই তার হৃদয়ে আলাদা জায়গা ছিল দেশটির জন্য। 

“একদম ছোট্ট থেকেই আমাদের ভেতরে এটা (সামোয়ান সংস্কৃতি) বুনে দিয়েছিলেন মা। বেড়ে ওঠার সময় আমরা সামোয়ান ভাষায় কথা বলতাম। বেশ সাবলীল বলতে পারতাম। তবে বোর্ডিং স্কুলে যাওয়ার পর কিছুটা হারিয়ে ফেলি তা।”

“আমার মা সবসময়ই গর্বিত সামোয়ান ছিলেন। কিউই পরিচয়েও গর্বিত ছিলেন।”

সামোয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজতর হয়েছে দলটির কোচের জন্যও। টেইলরের একসময়ের সতীর্থ, নিউ জিল্যান্ডের সাবেক লেগ স্পিনার তারুন নেথুলা এখন সামোয়ার কোচ। তার সঙ্গে আলোচনার পর ঘনিষ্ঠজনদের উৎসাহে মাঠে নেমে পড়েন টেইলর। 

“গত মে মাস থেকে আমাদের নিয়মিত আলোচনা চলছিল (তারুন নেথুলার সঙ্গে)। এরপর ড্র অনুষ্ঠিত হলো। আমি খুঁটিনাটি নানা দিক ভাবতে থাকলাম। আমার পরিবার ও বন্ধু-স্বজনদের সবাই উৎসাহিত করল।”

“এরপর আমার স্রেফ শারীরিকভাবে দলে অবদান রাখার অবস্থায় আসার ব্যাপার ছিল এবং যখন নিজের কাছে নিশ্চিত হলাম, এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ছিল খুবই সহজ। সবার কাছেই মনে হয়েছে, আমি ঠিক করছি।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পরও খেলাটায় অবদান রাখার তাড়না তার ভেতর সবসময়ই ছিল। সেই তাগিদ অনুযায়ী কিছু কাজও করছিলেন তিনি। কিন্তু সাবেক নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক ভাবতেও পারেনি, এভাবে তিনি আবার ফিরবেন ক্রিকেটে।

“আমি সবসময়ই চেয়েছি, যে খেলা আমাকে এত ভালো কিছু দিয়েছে, সেই খেলাকে কিছু ফিরিয়ে দিতে এবং সবসময়ই মনে হয়েছে, সেটা হয়তো কোচিংয়ের মাধ্যমে হবে… বিভিন্ন কোচিং ক্লিনিক করা, যা আমি করেছি এর মধ্যেই। তবে কখনোই ভাবিনি, এভাবে ফিরব।”

গত মাসে পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক উপ-আঞ্চলিক বাছাইয়ে ‘এ’ গ্রুপে কুক আইল্যান্ড, ফিজি ও ভানুয়াতুর সঙ্গে লড়াইয়ে গ্রুপের সেরা হয়ে বিশ্বকাপের মূল বাছাইয়ে জায়গা করে নেয় সামোয়া। অন্য গ্রুপে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপের সেরা হয়ে বাছাইপর্বে উঠেছে জাপান।

এই বাছাই পর্বে জায়গা করে নেওয়াই সামোয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য। প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে ২ হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার আয়তন ও দুই লাখ অধিবাসীর ছোট্ট পলিনেশিয়ান দেশটির এগিয়ে চলার সঙ্গী হতে রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় টেইলর। 

“সামোয়ান ক্রিকেটের জন্য, এখনও পর্যন্ত তাদের অংশ নিতে যাওয়া সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে এটি। ক্রিকেটার, প্রশাসকদের জন্য এবং দেশ হিসেবেও তাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার এটি। আশা করি, সেখানে সামান্য অবদান রাখতে পারব আমি।”

“লাখ দুয়েক লোকের দ্বীপ দেশটি বৈশ্বিক পর্যায়ে যাওয়ার লড়াই করছে। রসদ তেমন নেই সেখানে। তবে গর্ব ও তাড়নার কথা বললে, আমার মনে হয় না লক্ষ্য অর্জনে আমাদের কোনো কমতি থাকবে। গর্ব ও তাড়নায় ভরপুর থাকব আমরা।”

ইউরোপিয়ান অঞ্চল থেকে এবার এর মধ্যেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে ইতালি। ফুটবলের চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলটি ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে খেলবে প্রথমবার। এই দলগুলির উত্থানকে ক্রিকেটের বিশ্বায়নের পথে দারুণ ইতিবাচক মনে করেন ৪৫০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যান টেইলর। 

“ক্রিকেট খেলাটিকে এভাবে ছড়িয়ে পড়তে দেখা দারুণ। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপ খেলার সময় ভাবতেও পারিনি এত বছর পরও এই পর্যায়ে ক্রিকেট খেলব এবং আরেকটি বিশ্বকাপের আশায় থাকব। এরপর সময়ের স্রোত বয়ে গেছে অনেক। ক্রিকেটকে সত্যিকার অর্থেই বৈশ্বিক খেলায় রূপ দিতে হলে সামোয়া ও ইতালির মতো দেশগুলিকে প্রয়োজন ও এই দেশগুলোতে ক্রিকেটকে প্রকৃতভাবে বেড়ে তুলতে হবে।”

ইতালি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলেও সামোয়ার জন্য কাজটি আপাতত ভীষণ কঠিন। পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক বাছাইপর্বে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপে পড়েছে তারাই। ৯ দল তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। ‘সি’ গ্রুপে সামোয়ার সঙ্গী পাপুয়া নিউ গিনি ও স্বাগতিক ওমান। এই দুই দলই আগে বিশ্বকাপে খেলেছে এবং এবারও সেই প্রত্যাশাতেই থাকবে।

প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল যাবে সুপার সিক্স পর্বে। সেখানে সব দল পরস্পরের সঙ্গে খেলার পর শীর্ষ তিন দল জায়গা করে নেবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় আগামী বছরের বিশ্বকাপে। 

বাছাইয়ের ‘এ’ গ্রুপে ফেভারিট সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আছে মালেয়েশিয়া ও কাতার, ‘বি’ গ্রুপে ফেভারিট নেপালের সঙ্গী জাপান ও কুয়েত। এই দুই গ্রুপের একটিতে থাকলে হয়তো কাজ কিছুটা হলেও সহজ হতো সামোয়ার।

টেইলর নিজেও সেই বাস্তবতা জানেন। আকাশচুম্বি স্বপ্ন তাই দেখছেন না তিনি। মূলত পরের বিশ্বকাপের বাছাইয়ের জন্য দলকে পোক্ত করে তুলতে চান তিনি। তাই বলে এবারই বিশ্বকাপ খেলার আশা পুরোপুরি ছাড়ছেন না। 

“ক্যারিয়ারজুড়েই আমি খুব বেশি কিছু ভাবিনি এবং এখনও তা বদলাবে না। প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই হবে গ্রুপ পর্ব উতরানো। আমি নিশ্চিত, তারা দুই দলই আমাদের হারাতে মুখিয়ে থাকবে এবং চাইবে না তাদের পথচলায় আমরা বাগড়া দেই। তবে আমরা যদি সেই বাধা টপকাতে পারি, নিশ্চিতভাবেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ আসবে আমাদের।”

“এমন নয় যে বিশ্বকাপ ভাবনায় বুঁদ থাকব। অবশ্যই সেটিই চূড়ান্ত লক্ষ্য, সেখানে যেতে চাই। তবে মূল ব্যাপারটি হলো এই ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা দেওয়া। পরের বিশ্বকাপ ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে। এখানে ব্যাপারটি হলো আরও ভালো হয়ে উঠতে, শিখতে এবং ওই টুর্নামেন্টের জন্য আরও শ্রেয়তর হয়ে উঠতে ছেলেদেরকে অভিজ্ঞতা জোগানো। তবে তার মানে এই নয় যে এবারই বিশ্বকাপ খেলার চেষ্টা আমরা করব না।”

টেইলরের আন্তর্জাতিক অভিষেক সেই ২০০৬ সালে। প্রথমবার বিশ্বকাপের স্বাদ পেয়েছেন তিনি ২০০৭ সালে। সামোয়া দলে এমন ক্রিকেটারদের সতীর্থ হিসেবে পাবেন তিনি, যাদের তখনও জন্মই হয়নি। এতেও বেশ মজা পাচ্ছেন নিউ জিল্যান্ডকে ৪৭টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া ক্রিকেটার। 

“দলে বেশ কিছু তরুণ উঠে আসছে ১৭-১৮ বছর বয়সী, নিউ জিল্যান্ডের হয়ে আমার অভিষেকের সময় তাদের জন্মও হয়নি। আমার মনে হয়, ব্যাপারটি দারুণ ও পুরো গল্পে এটা ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে।”

এই বয়সে মাঠে ফিরে পারফর্ম করা অবশ্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে তার জন্য। তবে তিনি প্রেরণা নিচ্ছেন ফাফ দু প্লেসি, সামিত প্যাটেল, রাভি বোপারার মতো ক্রিকেটারদের দেখে, ৪০ পেরিয়েও যারা খেলে চলেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে।  

“সেদিন সামিত প্যাটেলের কাছ থেকে ম্যাসেজ পেয়েছি একটা। তাকে বলেছিলাম, সে ও রাভি বোপারা যেভাবে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলছে, তা আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। তাদের দেখে উজ্জীবিত হচ্ছি। আরও অনেক ক্রিকেটারই ৪০ পেরিয়ে ভালো করছে। ফাফ দু প্লেসি ও আরও বেশ কজন। ওরা শীর্ষ পর্যায়েই খেলে চলেছে।”

“আমি হয়তো আগের মতো শক্তিশালী ও গতিময় নই, তবে অবশ্যই আগের চেয়ে পরিণত ও কাজটা করতে পারি। গত মাস দুয়েক ধরে যতটা সম্ভব ট্রেনিং করছি, জিমে যাচ্ছি। আশা করি, সবকিছু ঠিকঠাক হবে।”

সব কি থাকলে আগামী ৮ অক্টোবর ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যাবে টেইলরকে। পরদিনই তাদের প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউ গিনি।