Published : 16 Jan 2026, 12:37 AM
দিনভর টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে প্রায় মাঝ রাতে স্বস্তির খবর এলো দেশের ক্রিকেটে। অচলাবস্থার আপাতত অবসান। এক দিন বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হচ্ছে বিপিএল।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, শুক্রবার থেকেই আবার শুরু হচ্ছে খেলা। বিসিবির এই পরিচালকের পাশে ছিলেন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন, বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
দিনভর নানা ঘটনা ও উত্তেজনার পর জটিলতা কাটিয়ে ওঠার আভাস মেলে রাত ৮টার পর, যখন আগের অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা ছাড় দেওয়ার কথা জানান ক্রিকেটাররা। এর পরপরই গুলশানের নাভানা টাওয়ারে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের অফিসে ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিসিবি। পরে রাত সাড়ে ১০টা পরপর সেখানে যান মিঠুন, শান্ত, মিরাজ, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম, নুরুল হাসান সোহান, ইয়াসির আলি চৌধুরি, শেখ মেহেদি হাসানরা। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামসহ বেশ কজন বোর্ড পরিচালক ছিলেন সেই আলোচনায়।
ওই বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব বলেন, "আমরা সবাই, আমাদের ছোট ভাইরা যারা ক্রিকেট খেলে দেশকে যে লেভেলে নিয়ে গেছে...আমাদের ক্রিকেটাররা ক্রিকেটের বাইরে নয়... সেজন্য আমরা সবাই একমত হয়েছি, আমরা ক্রিকেটকে আবার শুরু করতে চাই।"
বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম বুধবার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্রিকেটারদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করার পর তিন দফায় বিসিবির বিবৃতিতে ক্রিকেটারদের প্রতি পূর্ন সমর্থন ব্যক্ত করা হয়। সেটিই আবার ফুঠে উঠল ইফতেখারের কণ্ঠে।
“আপনারা জানেন, গত দুই দিনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যে কারণে আজকে বিপিএল খেলা আয়োজন করা যায়নি। ক্রিকেট বোর্ডের একজন পরিচালক যে মন্তব্য করেছিলেন, আমরা মনে করি তা অনাকাঙ্ক্ষিত। উনার এটা করা উচিত হয়নি। আমাদের ছোট ভাই ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমরা একমত।”
“আমরা মনে করি, ক্রিকেটারদের ছাড়া আমরা কেউই কোথাও নেই। ক্রিকেটাররা খেলছে বলেই আইসিসি পয়সা দিচ্ছে, টিভি রেভিনিউ পাচ্ছি, গ্রাউন্ডস রেভিনিউ পাচ্ছি।”
যে পরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে এত তোলপাড়, সেই নাজমুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলেও জানান ইফতেখার।
“আজকে যা হওয়ার হয়েছে। আমরা বসেছিলাম ওদের সঙ্গে বৈঠকে। আমরা আমাদের মনোভাব বুঝিয়েছি। ওরাও একটা চিঠি দিয়েছে। যে পরিচালক ওসব মন্তব্য করেছিল, তাকে তার কমিটি (অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান) থেকে অপসারণ করা হয়েছে। আমরা তো গঠনতন্ত্রের অধীনে চলি। তাকে প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে শোকজ করা হয়েছে। তাকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। ১৭ তারিখ দুপুরে শেষ হবে (সময়), তার জবাব পেতে।”
“এরপর এটা ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে যাবে। একদম গঠনতন্ত্রে লেখা আছে। ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে যাবে এবং এই প্রক্রিয়াটি থাকবে।"
আলোচিত বিসিবি পরিচালক নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে বিস্ময়কর এক দাবি করলেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।
“এর মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি উনার সঙ্গে সারাদিন যোগাযোগ করতে। আমরা চেয়েছিলাম (তাকে) আজকে এখানে আনার জন্য। কিন্তু উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারা যায়নি।”
ক্রিকেটারদের আগের একমাত্র দাবি ছিল নাজমুলের পদত্যাগ। বৃহস্পতিবার দুপুরেও সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে তারা সন্তুষ্ট হবেন না।
বিকেলে বিসিবি জানায়, অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নাজমুলকে এবং তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরে রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা উল্লেখ করে কোয়াব জানায়, নাজমুল প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলে ও তার পরিচালক পদ বাদ দেওয়া নিয়ে প্রক্রিয়া চলমান থাকলে তারা শুক্রবার থেকেই খেলায় ফিরতে প্রস্তুত।
সমঝোতার বৈঠকের পর কোয়াব সভাপতি মিঠুন বললেন, তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস বোর্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।
"এখন যে পরিস্থিতি, যেহেতু উনাকে (নাজমুল) পাওয়া যাচ্ছে না, উনারা (বিসিবি) আমাদেরকে কথা দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব উনার সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের যে দাবি, এটা উনারা পূরণ করবেন এবং আমাদের যে চাওয়া, এটা উনাদের প্রক্রিয়া অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব শেষ করবেন।"
"আমাদের অন্য যে বিষয়গুলো ছিল, যেগুলো নিয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, ঢাকা লিগ, মেয়েদের ক্রিকেটের বিষয় বা ফিক্সিং সম্পর্কিত যে বিষয়গুলো আছে, এগুলো নিয়েও কথা হয়েছে। উনারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন, এগুলা কোনো কিছুই উনারা হালকাভাবে নেবেন না। সবকিছুই খুব গুরুত্ব সহকারে যত দ্রুত সম্ভব শুরু করবেন। আমরা কেউই ক্রিকেটের উর্ধ্বে নই। ক্রিকেটের স্বার্থে আমরা কালকে থেকে আবার খেলা শুরু করছি। উনাদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে আমরা একটা জায়গায় পোঁছতে পেরেছি, যেটায় আমি ও কোয়াবের সদস্যদের পক্ষ থেকে যারা এসেছিল, সবাই সেটি গ্রহণ করতে পেরেছে।"
বৃহস্পতিবারের ম্যাচ দুটি এখন হবে শুক্রবারে। শুক্রবারের ম্যাচগুলো শনিবার ও শনিবারের ম্যাচ দুটি হবে রোববার। প্রথম কোয়ালিফায়ার ও এলিমিনেটর ম্যাচ হবে মঙ্গলবার, পরদিন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। ফাইনাল আগের মতোই আগামী শুক্রবার।