Published : 28 May 2026, 12:21 AM
রাচিন রাভিন্দ্রার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল গেল দ্বিতীয় স্লিপে, ঝাঁপ দিয়ে হাত ছোঁয়ালেও মুঠোয় নিতে পারলেন না অ্যান্ডি বালবার্নি। ওই ব্যর্থতার চড়া মাশুল দিতে হলো আয়ারল্যান্ডকে। জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি করলেন রাভিন্দ্রা। আরেক সেঞ্চুরিয়ান টম ব্লান্ডেলের সঙ্গে গড়লেন দারুণ জুটি। শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে বড় সংগ্রহের পথে নিউ জিল্যান্ড।
বেলফাস্টে চার দিনের একমাত্র টেস্ট শুরুর দিনে ৯৪ ওভার ব্যাট করে ৫ উইকেটে ৩৬১ রান করেছে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম সেশনে চার উইকেট নিতে পেরেছিল আয়ারল্যান্ড। পরের দুই সেশন মিলিয়ে নিতে পেরেছে কেবল একটি।
২৩৩ বলে দুই ছক্কা ও ১৮ চারে ১৪২ রানে ব্যাট করছেন ব্লান্ডেল। ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের টেস্টে এটাই সর্বোচ্চ। আগের সেরা ছিল ২০২৩ সালে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৮। তার সঙ্গে ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে অভিষিক্ত ডিন ফক্সক্রফটের অবদান ৫৩ বলে ৩৮ রান।
৫৬ রানে জীবন পেয়ে ১৯৪ বলে চার ছক্কা ও ১১ চারে ১২১ রানে থেমেছেন রাভিন্দ্রা। পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া বাঁহাতি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান এই নিয়ে টেস্টে সবশেষ তিন ইনিংসের মধ্যে প্রথমবার আউট হলেন। তার বিদায়ে ভাঙে ৩৩২ বল স্থায়ী ২১৭ রানের জুটি।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে নিউ জিল্যান্ড। মার্ক অ্যাডায়ারের ছোবলে ২১ রানের মধ্যে হারায় দুই ওপেনারকে।
প্রথম বলে বাই চারে শুরু হয় ম্যাচ। পরের বলেই ভাঙে নিউ জিল্যান্ডের শুরুর জুটি! অ্যাডায়ারের চমৎকার ডেলিভারিতে অফ স্টাম্প হারান অধিনায়ক টম ল্যাথাম। ওভারের শেষ বলে ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারি পান কেন উইলিয়ামসন।
সপ্তম ওভারে আপাত সাদামাটা বলে বাজে শটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার ডেভন কনওয়ে।
উইলিয়ামসনের মতো চার দিয়ে রানের খাতা খোলেন রাভিন্দ্রাও। তাদের জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন ব্যারি ম্যাককার্থি। টেস্ট ক্রিকেটে এই পেসারের প্রথম উইকেট উইলিয়ামসন। স্টাম্পে থাকা ডেলিভারির লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হয়ে যান নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক। পাঁচ চারে ৭০ বলে তিনি করেন ৩৬ রান।
পরের ওভারে ড্যারিল মিচেলকে হারায় নিউ জিল্যান্ড। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে কট বিহাইন্ড করে নিজের তৃতীয় উইকেট নেন অ্যাডায়ার। ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে নিউ জিল্যান্ড তখন কাঁপছিল।
প্রথম সেশনে সফরকারীদের নাড়িয়ে দেওয়া আয়ারল্যান্ড পরে ধরে রাখতে পারেনি চাপ। এতে বাজে ফিল্ডিংয়ের দায় কম নয়। রান আউটের কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ৩৮তম ওভারে দ্বিতীয় স্লিপে রাভিন্দ্রার ক্যাচ নিতে পারেননি বালবার্নি।
সে সময় নিউ জিল্যান্ডের রান ছিল ৪ উইকেটে ১২৮। রাভিন্দ্রা ব্যাট করছিলেন ৫৬ রানে। জুটির রান তখন ছিল কেবল ৪২। জীবন পেয়ে ব্লান্ডেলের সঙ্গে জুটি গড়ে তোলেন রাভিন্দ্রা। সেটাই কিউইদের নিয়ে যায় রান-পাহাড়ের দিকে।
কয়েকবার অল্পের জন্য কানা নেয়নি বল। আবার কানা নিলেও ফিল্ডারের হাতে যায়নি বল। রাভিন্দ্রা ও ব্লান্ডেলের জুটি ধীরে ধীরে যায়। পরে রানের গতিও বাড়ান তারা। তাদের জুটিতে ১০০ আসে ১৬৫ বলে, ২০০ হয় ৩১১ বলে।
ছক্কায় ১৭৫ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন রাভিন্দ্রা। ১৭৩ বলে দেড় বছর পর সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়া পান ব্লান্ডেল।
হ্যারি টেক্টরের বলে ছক্কার চেষ্টায় ডিপ মিডউইকেটে রাভিন্দ্রা ধরা পড়লে ভাঙে জুটি। ৮০ ওভার হতেই দ্বিতীয় নতুন বল নেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক বালবার্নি। কিন্তু আর সাফল্য পায়নি স্বাগতিকরা।
ক্যারিয়ারের প্রথম দেড়শ রানের অপেক্ষায় ব্লান্ডেল। অভিষেকে পঞ্চাশ ছোঁয়ার খুব কাছে ফক্সপোর্ট। পাঁচশ বা এর আশেপাশে যেতে তাদের দিকেই তাকিয়ে নিউ জিল্যান্ড।
৬৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের সফলতম বোলার অ্যাডায়ার। একটি করে উইকেট নিয়েছেন টেক্টর ও ম্যাককার্থি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯৪ ওভারে ৩৬১/৫ (ল্যাথাম ০, কনওয়ে ৪, উইলিয়ামসন ৩৬, রাভিন্দ্রা ১২১, মিচেল ১, ব্লান্ডেল ১৪২*, ফক্সক্রফট ৩৮*; অ্যাডায়ার ২০-৬-৬৬-৩, মায়েস ১৭-৮-৩৯-০, উইলসন ১৮-২-৫৪-০, ম্যাককার্থি ২০-২-৯৬-১, ম্যাকব্রিন ১৫-২-৬৫-০, টেক্টর ৪-০-২৭-১)