Published : 11 Jan 2026, 03:37 PM
জিমি নিশাম বলটি করলেন ফুল লেংথ। তাওহিদ হৃদয় চেষ্টা করলেন সোজা ব্যাটে চালিয়ে দিতে। কিন্তু বলের নিচে ঠিকঠাক যেতে পারলেন না। টাইমিংও ভালো হলো। বল গেল সোজা বোলারের হাতেই। রাগে-হতাশায় ব্যাট দিয়ে মাঠে আঘাত করার ভঙ্গি করলেন তিনি। ফিফটির পর টর্নেডোর গতিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি শতরানের কাছাকাছি। কিন্তু হলো না একটুর জন্য।
ইনিংসের শেষ বলে হৃদয়ের প্রয়োজন ছিল তিন রান। পারেননি তিনি কোনো রান নিতেই।
বিপিএলে রোববার রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৫৬ বলে ৯৭ রানের অপরাজিক ইনিংসটি খেলেন হৃদয়। ৮টি চারের সঙ্গে তার ইনিংসে ছিল আধ ডজন ছক্কা।
টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা ইনিংস এটি। একমাত্র সেঞ্চুরিটি করেছিলেন ২০২৪ বিপিএলে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে অপরাজিত ছিলেন ৫৭ বলে ১০৮ রানে।
সেঞ্চুরি না হলেও হৃদয়ের রানে ফেরা রংপুরের জন্য তো বটেই, বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্যও সুখবর। আগের ছয় ম্যাচে তার ফিফটি ছিল একটি। এই রাজশাহীর সঙ্গেই করেছিলেন ৫৩। এরপর কিছুটা বাজে সময় কাটিয়ে অবশেষে তাকে দেখা গেল প্রত্যাশিত চেহারায়।
জাতীয় দলের কথা ভাবলে অবশ্য রানে ফেরার অস্বস্তির পাশাপাশি খানিকটা অস্বস্তির একটি জায়গাও আছে। হৃদয় এই ইনিংসটি খেলেছেন যে ওপেন করে!
জাতীয় দলে তিনি খেলেন মূলত মিডল অর্ডারে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে সত্যিকার অর্থে যথাযথ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান কেবল তিনিই। কিন্তু রংপুরের হয়ে আগের ম্যাচগুলোয় তিন-চারে খেলে ভালো করতে পারছিলেন না ততটা। জ্বলে উঠলেন তিনি ওপেনিংয়ে ফিরে।

ওপেনিংয়ে তার ক্যারিয়ার রেকর্ডও দারুণ। এমনিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সামগ্রিকভাবে তার গড় ২৯.৮৮, স্ট্রাইক রেট ১২৭.২৬। কিন্তু ওপেনিংয়ে ১৪ ইনিংস খেলে গড় ৪৪.৭২, স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৫৩।
রাজশাহীর বিপক্ষে হৃদয়ের ইনিংসটিকে ভাগ করা যায় পরিষ্কার তিনটি ধাপে। শুরুতেই তার ব্যাটে ছিল ঝড়। ম্যাচের প্রথম তিন বলেই বাউন্ডারিতে শুরু করেন। প্রথম পাঁচ ওভারে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় রান করেন তিনি ১৮ বলে ৩৪।
এরপর তার ব্যাট ছিল অবিশ্বাস্যরকমের ম্রিয়মান। পরের ১০ ওভারে আর কোনো বাউন্ডারি আসেনি তার ব্যাট থেকে।
পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ৩৯ বলে। পঞ্চম ওভারের পর থেকে ফিফটি পর্যন্ত ২১ বল খেলে রান করেন মাত্র ১৬।
এরপরই আবার আবির্ভুত হন রুদ্ররূপে। ফিফটি ছোঁয়ার পরের বলেই ছক্কায় উড়িয়ে দেন রিপন মন্ডলকে। এরপর আব্দুল গাফঘার সাকলাইনের স্লোয়ারে নান্দনিক ছক্কা মারেন এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে, তানজিম আহাসকে উড়িয়ে দেন পয়েন্টর ওপর দিয়ে। রিপনের আরেক ওভারে মারেন টানা দুটি ছক্কা। চোখের পলকে পৌঁছে যান শতকের দুয়ারে।
শেষ ওভারটি শুরুর সময় তার রান ছিল ৯২। জিমি নিশামের ওভারের প্রথম বলেই চার মারেন তিনি। পরেরবলে নেন সিঙ্গল। স্ট্রাইক পেয়ে খুশদিল শাহ মারেন বাউন্ডারি। পরের বলে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় আউট হয়ে যান পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যান।
ওভারের পঞ্চম বলে নতুন ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান ক্রিজে গিয়ে আলতো করে ব্যাট ছুঁইয়ে একটি রান নিয়ে হৃদয়ে সুযোগ করে দেন তিন অঙ্ক ছোঁয়ার। নিশাম ফুল লেংথ ডেলিভারি করবেন, অনুমিতও ছিল সেটা। কিন্তু হৃদয় পারলেন না কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক ছুঁতে। শেষটা হলো তার আক্ষেপ নিয়ে।
তবে পেছনে ফিরে তাকালে হৃদয় হয়তো এটাও অনুভব করবেন, মাঝের সময়টায় এতটা থমকে না গেলে হয়তো শেষের চ্যালেঞ্জে পড়তে হতো না। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৫৬ বল খেললে সেঞ্চুরি হয়ে যাওয়াই উচিত!