বিগ ব্যাশ
Published : 14 Jan 2026, 08:00 PM
দুর্দান্ত বোলিং করা রিশাদ হোসেনের সামনে সুযোগ এলো ব্যাট হাতে দলকে জেতানোর। তিনি যখন ক্রিজে গেলেন, হোবার্ট হারিকেন্সের প্রয়োজন এক বলে পাঁচ রান। কিন্তু এক রানের বেশি নিতে পারলেন না বাংলাদেশের লেগ স্পিনার। শেষ দিকের ব্যাটিং বিপর্যয়ে অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গেল হারিকেন্স।
ঘরের মাঠে বুধবার ব্রিজবেন হিটের বিপক্ষে বিগ ব্যাশের ম্যাচটি ৩ রানে হেরে যায় হোবার্ট হারিকেন্স। ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৮ উইকেটে ১৫৭ রান করতে পারে তারা।
অথচ ম্যাচটি ছিল হারিকেন্সের হাতের মুঠোয়। বাউ ওয়েবস্টার ও বেন ম্যাকডারমটের ফিফটিতে জয়ের পথেই ছিল তারা। ৮ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ৬ ওভারে ৩৭ রান দরকার ছিল দলটির।
পরপর দুই ওভারে ওয়েবস্টার ও ম্যাকডারমটের বিদায়ের পরও ম্যাচের লাগাম হোবার্ট হারিকেন্সের হাতেই ছিল। শেষ ১৩ বলে ১১ রান প্রয়োজন ছিল তাদের। এমনকি শেষ ওভারে ৬ রানের সমীকরণও মেলাতে পারেনি দলটি ৩ উইকেট হাতে নিয়ে।
রান তাড়ায় হারিকেন্সকে ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি দুই ওপেনার টিম ওয়ার্ড ও মিচেল ওয়েন। দুইজনের কেউ যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। এরপর ওয়েবস্টার ও ম্যাকডারমটের ব্যাটে শুরুর ধাক্কা সামলে জয়ের দিকে ছুটতে থাকে স্বাগতিকরা।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২৫ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ম্যাকডারমট। তার তুলনায় কিছুটা মন্থর ছিলেন ওয়েবস্টার। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের ফিফটি আসে ৪০ বলে।
দলের রান যখন ১২৪, মার্নাস লাবুশেনকে ছক্কার চেষ্টায় ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওয়েবস্টার। এক ছক্কা ও পাঁচটি চারে ৫১ রান করেন তিনি। তাতে ভাঙে ৬৬ বল স্থায়ী ৯৮ রানের জুটি।
পরের ওভারে ম্যাকডারমটের স্টাম্প ভেঙে দেন ম্যাথু কুনেমান। তিনটি করে ছক্কা-চারে ৩৬ বলে ৫৯ রান করেন ম্যাকডারমট।
১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে মাইকেল নিসারকে ছক্কা মেরে সমীকরণ সহজ করেন ম্যাথু ওয়েড। কিন্তু পরের বলে আরেকটি ছক্কায় বান্ডারিতে ধরা পড়েন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। পরের ওভারে তিন বলের মধ্যে রেহান আহমেদ ও ক্রিস জর্ডানকে ফিরিয়ে দেন জাভিয়ের বার্টলেট।
শেষ ওভার করতে আসেন প্রথম তিন ওভারে ২৭ রান দেওয়া পাকিস্তানি পেসার জামান খান। প্রথম বলে কোনো রান নিতে পারেননি ন্যাথান এলিস। দ্বিতীয় বলে সিঙ্গল নিয়ে নিখিল চৌধুরিকে স্ট্রাইক দেন হারিকেন্সের অধিনায়ক।
কিন্তু জামানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পরের দুই ডেলিভারিতে কোনো রানই করতে পারেননি নিখিল। সমীকরণ হয়ে ওঠে কঠিন। শেষ ২ বলে ৫ রানের সমীকরণে পঞ্চম ডেলিভারিটি ছক্কার চেষ্টায় উড়িয়ে মারেন নিখিল। কিন্তু সীমানা পার করতে পারেননি, ধরা পড়েন লং-অনে। আর শেষ বলে এক রান নিতে পারেন রিশাদ।
কঠিন সময়ে অসাধারণ বোলিংয়ে স্রেফ ২ রান দিয়ে দলকে অকল্পনীয় এক জয় এনে দেন জামান খান।
এদিন দুর্দান্ত বোলিং করেন রিশাদও। লেগ স্পিনে ৪ ওভারে স্রেফ ২৭ রান দিয়ে ২ শিকার ধরেন তিনি। দুটি উইকেটই নেন নিজের শেষ দুই ওভারে, তাও কেবল ৬ রান দিয়ে।
কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় এবারের বিগ ব্যাশের লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাটি জিততে পারল না হোবার্ট হারিকেন্স। অবশ্য আগেই প্লে-অফে খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছিল দলটি। ১০ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত শীর্ষে আছে তারা।
৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়া ব্রিজবেন হিটের বাঁহাতি স্পিনার কুনেমান জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।