Published : 06 Feb 2026, 11:20 PM
৪০ ওভারের লড়াইয়ে ভাগ্য গড়া হয়ে গেল যেন এক ওভারেই। বিপর্যয়ের মধ্যে লড়াই করে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। তার পরও জয় ছিল অনেকটা দূরে। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৩ রানের। উইকেট বাকি মোটে ৩টি। ১৯তম ওভারে শরিফুল ইসমলাকে চারটি ছক্কা মেরে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন সোহান। শেষ ওভারে যদিও তার রান আউটে নাটকীয়তা ছড়াল কিছুটা। কিন্তু হাসান মাহমুদের বাউন্ডারিতে জিতে গেল তারা তিন বল বাকি রেখেই।
অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের রোমাঞ্চকর ম্যাচে জাতীয় দলের মোড়কে থাকা ধূমকেতু একাদশকে ২ উইকেটে হারাল দুর্বার একাদশ। তাতে ফাইনালের ফয়সালা জিইয়ে থাকল প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত।
১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় পাওয়ার প্লেতেই তিন উইকেট হারানোর পর ক্রিজে যান সোহান। এক পর্যায়ে ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে দল। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত ৪টি চার ও ৬ ছক্কায় ৪৪ বলে ৭৬ রান করে তিনিই নাটকীয় জয়ের নায়ক।

তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আড়ালে পড়ে যায় শেখ মেহেদি হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ৩১ রানের পর ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ১১ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই নিয়ে ষষ্ঠবার পেলেন তিনি ম্যাচে ৪ উইকেট। স্পর্শ করলেন নিজের সেরা বোলিং কীর্তিও।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ধূমকেতু হোঁচট খায় প্রথম ওভারে। হাসান মাহমুদের বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তানজিদ হাসান (০)।
হাসানের পরের ওভারে চোখধাঁধানো একটি ‘নো লুক’ ফ্লিকে ছক্কা মারেন সাইফ হাসান। টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন তিনি তানভির ইসলামকে। তবে আগের দিন ঝড়ো ফিফটি করা ব্যাটসম্যান এবার ইনিংস টানতে পারেনি অতটা। ২০ বলে ২৮ করে সাইফ উদ্দিনের বলে ধরা পড়েন তিনি কিপারের হাতে।
পারভেজ হোসেন ইমন ক্রিজে যাওয়ার পরপর দুটি চার মারলেও পরে স্বস্তিতে খেলতে পারেননি। আলিস আল ইসলামের দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান তিনি (১৫ বলে ১৩)। তাওহিদ হৃদয় ব্যর্থ আবার (৬ বলে ৭)।

আগের ম্যাচের মতো এক প্রান্ত থেকে ইনিংস টেনে নেন লিটন কুমার দাস। তবে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করতে পারেননি ধূমকেতু অধিনায়ক (৩৭ বলে ৪৩)। নিজের বলে রিফ্লেক্স ক্যাচ নিয়ে তাকে ফেরান তানভির ইসলাম।
দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে নেন তখন শেখ মেহেদি। দুটি ছক্কায় অপরাজিত থাকেন তিনি ২৭ বলে ৩১ রান করে।
আরেক প্রান্তে ছোট্ট ক্যামিও খেলেন শামীম হোসেন। দারুণ পুল শটে হাসানকে ছক্কা মারার পর এই পেসারের নিখুঁত এক ইয়র্কারেই ভূপাতিত হয়ে স্টাম্প হারান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান (৮ বলে ১৭)। শেষ ওভারে নাসুম আহমেদের ছক্কায় দেড়শ স্পর্শ করে ধূমকেতু।
দুর্বার একাদশের রান তাড়া শুরু হয় প্রথম ওভারে হাবিবুর রহমান সোহানের তিন বাউন্ডারিতে। তবে তার ঝড় খুব স্থায়ী হয়নি। ৯ বলে ১৭ করে এলবিডব্লিউ হয়ে যান তিনি নাসুম আহমেদের বলে। আরেক ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত আগেই বিদায় নেন ৭ বলে ২ রান করে।
শান্তর পর আফিফ হোসেনকেও দ্রুত ফেরান শেখ মেহেদি। পরে তার শিকার মাহমুদুল হাসান জয়ও।
একটি ছক্কা মারলেও বাকি পুরোটা সময় ধুঁকে শেষ পর্যন্ত ২০ বলে ১৩ রানে ফেরেন জয়।
নুরুল হাসান সোহান ও জাকের আলি সেখান থেকে চেষ্টা করেন জুটি গড়ার। শেখ মেহেদি শেষ স্পেলে ফিরে জাকেরকে (১২ বলে ১১) বিদায় করে থামিয়ে দেন জুটি। রিশাদ হোসেনের শিকার হন মেহেদী হাসান মিরাজ।
চতুর্দশ ওভারে দুর্বারের রান তখন উইকেটে ৮১। চোখ রাঙাচ্ছিল বড় পরাজয়। সাইফ উদ্দিনকে নিয়ে সেখান থেকেই দলকে টেনে নেন সোহান। ৪১ রানের জুটির পর সাইফ বিদায় নেন ১৩ বলে ১৯ রান করে।
তখনও ধূমকেতুর জয়টাই মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু গোটা বিপিএলে ঘুমিয়ে থাকা সোহান জেগে উঠলেন অবশেষে। টি-টোয়েন্টিতে ফিফটির দেখা পেলেন ৩৩ ইনিংস পর। পরে বিপিএলের টুর্নামেন্ট সেরা বোলারকেই তুলাধুনা করে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে গেলেন তিনি।
শেষ ওভারে রান আউট হওয়ায় জয়টা সঙ্গে নিয়ে ফিরতে পারেননি। তবে ম্যাচ শেষে সেই আক্ষেপ তার থাকার কথা নয়।
শনিবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুর্বার ও দুরন্ত একাদশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ধূমকেতু একাদশ: ২০ ওভারে ১৫৬/৮ (সাইফ ২৮, তানজিদ ০, লিটন ৪৩, পারভেজ ১৩, হৃদয় ৭, শেখ মেহেদি ৩১*, শামীম ১৭, রিশাদ ০, নাসুম ৯, শরিফুল ১*; হাসান ৪-০-৩৫-২, আলিস ৪-০-২০-১, তানভির ৪-০-৩৫-২, সাইফ উদ্দিন ৪-০-২৩-১, খালেদ ২-০-২২-০, মিরাজ ১-০-৫-০, মেহেদি রানা ১-০-১৪-০)।
দুর্বার একাদশ: ১৯.৩ ওভারে ১৫৭/৮ (হাবিবুর ১৭, শান্ত ২, জয় ১৩, আফিফ ১, সোহান ৭৬, জাকের ১১, মিরাজ ১, সাইফ উদ্দিন ১৯, খালেদ ০, হাসান ৪*; শরিফুল ৩-০-৫২-০, নাসুম ৪-০-১৩-১, শেখ মেহেদি ৪-০-১১-৪, মুকিদুল ১.৩-০-১৬-০, রিশাদ ৪-০-৩২-১, মুস্তাফিজ ২-০-২০-১, শামীম ১-০-১২-০)।
ফল: দুর্বার একাদশ ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: নুরুল হাসান সোহান।