উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপ
Published : 02 Oct 2025, 06:22 PM
দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে অল্প রানে থামিয়ে অর্ধেক কাজ সেরে রাখেন বোলাররা। ২৮ বছর বয়সে ওয়ানডে অভিষেকে স্ট্রোকসমৃদ্ধ ব্যাটিংয়ে ফিফটি করে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দিলেন রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক। দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল বাংলাদেশ।
২০২৫ উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই দুই দলের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৭ উইকেটে। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ১৩০ রানের লক্ষ্য ১১৩ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে নিগার সুলতানার দল।
২০২২ সালে প্রথমবার উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ একমাত্র জয়টি পেয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেই পাকিস্তানকে পরের বিশ্বকাপে আবার হারালেন নিগার, নাহিদারা।
ম্যাচের প্রথম ওভারে চমৎকার দুটি ডেলিভারিতে পরপর দুই উইকেট নিয়ে সুর বেঁধে দেন মারুফা আক্তার। পরে দারুণ বোলিং করেন অন্যরাও। ফিল্ডিংও হয় বেশ ভালো। ৬৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তান কোনোমতে করতে পারে ১২৯।
বাংলাদেশের হয়ে ছয় জন হাত ঘুরিয়ে অন্তত একটি উইকেট পান সবাই। ৩.৩ ওভারে ৩ মেডেনে স্রেফ ৫ রানে পাকিস্তানের শেষ ৩ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তার।
নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৩১ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান পেসার মারুফা। বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তারও নেন ২টি উইকেট, ১৯ রান দিয়ে।
ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে বিশ্বকাপে আসা পাকিস্তানের হয়ে ত্রিশ ছুঁতে পারেননি কেউই।
ম্যাচের একমাত্র ফিফটি আসে রুবাইয়ার ব্যাট থেকে। এরই মধ্যে ছয়টি টি-টোয়েন্টি খেলা বাঁহাতি ওপেনার ৭৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংসে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন।

বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে উইমেন’স ওয়ানডে অভিষেকে ফিফটি করলেন তিনি। ২০১১ সালে একই ম্যাচে এই স্বাদ পেয়েছিলেন দুই ওপেনার আয়েশা রহমান ও শারমিন আক্তার।
গত এপ্রিলে লাহোরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার পর মাঝে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের একটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর আরেকটি শ্রীলঙ্কাকে ১ রানে হারান নিগাররা। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে তারা কেমন করতে পারেন, সেটি নিয়ে ছিল বড় কৌতূহল। তবে বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতে সব দিক থেকেই উজ্জীবিত পারফরম্যান্স উপহার দিল বাংলাদেশ।
কলম্বোর উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া ছিল কিছুটা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ভেতরে ঢোকানো দারুণ ডেলিভারিতে ওমাইমা সোহেলকে বোল্ড করে দেন মারুফা। পরের বলে আরেকটি চমৎকার ডেলিভারিতে ব্যাটে লেগে বোল্ড হন দারুণ ছন্দে থাকা ব্যাটার সিদরা আমিন।
এই ম্যাচে নামার আগে ২০২৫ সালে ওয়ানডেতে সিদরার ব্যাটিং গড় ছিল ৮৬.৩৩, সবশেষ ছয় ওয়ানডেতে দুটি সেঞ্চুরির পাশে ফিফটি তিনটি। সেই তিনি এই সংস্করণে শূন্য রানে ফিরলেন সাড়ে ছয় বছর পর, প্রথম বলে আউট হলেন প্রথমবার।
মারুফার হ্যাটট্রিক বল ঠেকিয়ে দেন মুনিবা আলি। শুরুর জোড়া ধাক্কা তিনি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন রামিন শামিমের সঙ্গে জুটিতে। ৪২ রানের জুটি গড়েন তারা। এটিই হয়ে থাকে শেষ পর্যন্ত ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি।
মুনিবাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাহিদা। দারুণ নিচু ক্যাচ নেন ফিল্ডার নিশিতা আক্তার। নাহিদার পরের ওভারে বোলারকে সহজ ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রামিন। তার ২৩ রানই ইনিংসের সর্বোচ্চ।
এরপর নিয়মিত উইকেট হারায় পাকিস্তান। স্বর্ণা বোলিং পান ৩৩তম ওভারে। পরপর দুই ওভারে কোনো রান না দিয়ে দুই উইকেট শিকার করেন তিনি। রান দেননি নিজের তৃতীয় ওভারেও। তার চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে চার মারার পর সিঙ্গল নেন ডায়ানা বেগ। পরের বলেই সাদিয়া ইকবালের আউটে ইনিংসের সমাপ্তি।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। চতুর্থ ওভারে ফারজানা হক এলবিডব্লিউ হয়ে বিদায় নেন ১৭ বলে ২ রান করে। তিন নম্বরে নেমে শারমিন আক্তার করেন ৩০ বলে ১০ রান। তিনিও হন এলবিডব্লিউ।

দ্বাদশ ওভারে ৩৫ রানে ২ উইকেট হারানোর পর দলকে এগিয়ে নেন রুবাইয়া ও নিগার। তৃতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৭৭ বলে ৬২ রানের জুটি।
৫টি চারে ৪৪ বলে ২৩ রান করে যখন ফেরেন নিগার, জয় থেকে তখন আর ৩৩ রান দূরে বাংলাদেশ।
পরের ওভারে রুবাইয়া চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন ৬৪ বলে। এরপর তাকে এক প্রান্তে দর্শক বানিয়ে রেখে ৬টি চারে ১৯ বলে ২৪ রান করে ম্যাচ শেষ করে দেন সোবহানা মোস্তারি।
প্রাথমিক পর্বে বাংলাদেশ তাদের বাকি ছয়টি ম্যাচ খেলবে এখন ভারতে। আগামী মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে নিগারদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৩৮.৩ ওভারে ১২৯ (মুনিবা ১৭, ওমাইমা ০, সিদরা আমিন ০, রামিন ২৩, রিয়াজ ১৩, সিদরা নাওয়াজ ১৫, ফাতিমা ২২, নাতালিয়া ৯, ডায়ানা ১৬*, নাশরা ১, সাদিয়া ৪; মারুফা ৭-০-৩১-২, নিশিতা ৬-০-২৮-১, নাহিদা ৮-১-১৯-২, ফাহিমা ৭-১-৩২-১, রাবেয়া ৭-২-১৩-১, স্বর্ণা ৩.৩-৩-৫-৩)
বাংলাদেশ: ৩১.১ ওভারে ১৩১/৩ (ফারজানা ২, রুবাইয়া ৫৪*, শারমিন ১০, নিগার ২৩, সোবহানা ২৪*; ফাতিমা ৮-১-৩০-১, ডায়ানা ৮-৩-১৪-১, সাদিয়া ৬-০-২১-০, রামিন ৫-০-২৫-১, নাশরা ৩.১-১-২৭-০, ওমাইমা ১-০-৯-০)
ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: মারুফা আক্তার