Published : 17 May 2026, 07:43 PM
বাবর আজম তখন বাংলাদেশের মাথাব্যথা হয়ে উঠেছেন। ফিফটি পেরিয়ে আরও সামনে ছুটছিলেন দারুণ গতিতে। বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে অন্য ব্যাটসম্যানরা খাবি খেলেও তিনি ছিলেন সাবলিল। তাকে থামাতে নতুন স্পেলে বোলিংয়ে আনা হলো নাহিদ রানাকে। ব্যস, প্রথম ওভারেই লক্ষ্য পূরণ!
ম্যাচের প্রেক্ষাপটে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তবে নাহিদ রানার জন্য এটি নতুন কিছু নয়। বাবরকে আউট করা ক্রমে অভ্যাসেই পূরণ করছেন তিনি।
২০২৪ সালের সেই সিরিজ থেকে শুরু। রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্টে দুবার পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যানকে আউট করেছিলেন বাংলাদেশের আনকোরা ফাস্ট বোলার। এরপর এবারের সিরিজের প্রথম টেস্টে বাবর খেলতে পারেননি চোটের কারণে। বাবরের আগুনে বোলিংয়ে আঁচ সেখানে লাগেনি। তবে সিলেটে মাঠে নেমে তা আর এড়াতে পারেননি।
৬৮ রানের ইনিংসে অবশ্য দারুণ কয়েকটি শট বাবর খেলেছেন। তবে নাহিদের সামনে তার ব্যাট মিইয়েই ছিল। সব মিলিয়ে তিন টেস্টে নাহিদের ৩৯ বল খেলে বাবর রান করতে পেরেছেন ২২, তিনবার আউট হওয়ায় বাংলাদেশের তরুণের সামনে তার ব্যাটিং গড় ৭.৩৩।
টেস্টে বাবর সবচেয়ে বেশিবার আউট হয়েছেন জশ হেইজেলউডের বলে। অস্ট্রেলিয়ান পেসার ৯ টেস্টে ৭ বার ফিরিয়েছেন পাকিস্তানি তারকাকে। শ্রীলঙ্কান স্পিনার প্রাবাথ জায়াসুরিয়া ৪ টেস্টে আউট করেছেন তাকে ৬ বার। ৫ বার আউট করেছেন ন্যাথান লায়ন, ৪ বার করে কাগিসো রাবাদা ও কেশাভ মহারাজ। নাহিদ রানা যেভাবে ছুটছেন, তাতে এই তালিকায় ওপরের দিকে উঠতে তার সময় বেশি লাগার কথা নয়।
এরকম বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানদের আউট করার রোমাঞ্চটাও এমনিতে বেশি থাকার কথা। তবে নাহিদকে মনে হলো এটা নিয়ে একদমই নির্লিপ্ত।
“আসলে প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে আউট করতেই মজা লাগে। কারণ প্রত্যেকটি উইকেটই আমার জন্য এবং আমার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একটা ব্যাটসম্যানকে বলে বলে আউট করতে পারবেন না যে, এই ব্যাটসম্যানটা ভালো ব্যাটসম্যান কিংবা বিশ্ব ক্রিকেটের বড় নাম… কখনও বলে বলে আউট করতে পারবেন না। আমি শুধু আমার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার চেষ্টা করি এবং চেষ্টা করি যে কীভাবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে দলকে সহায়তা করা যায়।”
বাবরকে আউট করা নিয়ে তার বাড়তি রোমাঞ্চ না থাকলেও ওই ডেলিভারিটি তাকে তৃপ্তি দিয়েছে। আগের ডেলিভারিটির গতি ছিল ১৪৯ কিলোমিটার, আউট করা ডেলিভারির গতি ১৩৯ কিলোমিটার। ফ্লিক করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে মিড অনে ক্যাচ দেন বাবর।
২৩ বছর বয়সী পেসার বললেন, পরিকল্পনা করেই উইকেটটি আদায় করেছেন তিনি।
“কোয়ালিটি ব্যাটসম্যানকে কোয়ালিটি বোলিং করতে হয়… কিংবা যে কোনো ব্যাটসম্যানকে বোলিং করেন, আপনার পেসে কিংবা স্কিলে ভিন্ন কিছু একটু এলে ব্যাটসম্যানরা অস্বস্তিতে পড়ে। আমি শুধু চেষ্টা করছি, কাজে লেগে গেছে।”