১০ বছর পর ফিরে ম্যাডিনসনের ৩৩ বলে শূন্য
অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের একাধিক পাতায় নাম উঠে গেছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারের।
লম্বা বিরতির পর জাতীয় দলে ফেরার দিনটি নিক ম্যাডিনসনের জন্য ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। লম্বা সময় ক্রিজে থেকেও যে রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। তাতে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের একাধিক পাতায়ও নাম উঠে গেছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারের।
ডারবানে শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়ে প্রায় ১০ বছর পর অস্ট্রেলিয়া দলে ফেরেন ম্যাডিনসন। ইনিংস শুরু করতে নেমে ৩৩ বল খেলে শূন্য রানে আউট হন তিনি। একাদশ ওভারে মার্কো ইয়ানসেনের করা অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল খেলে বোল্ড হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে শূন্য রানে আউট হওয়ার আগে এত বেশি বল খেলার নজির নেই আর কোনো ওপেনারের। সব দেশ মিলিয়ে এই তালিকায় ম্যাডিনসন আছেন তৃতীয় স্থানে। আর একবিংশ শতাব্দীর ওপেনারদের মধ্যে সবার উপরে তিনি।
ম্যাডিনসনের টেস্ট দলে ডাক পাওয়াই একরকম চমক ছিল। ক্যামেরন গ্রিন ও জশ ইংলিস চোট পাওয়ার পর কাভার হিসেবে তাকে ও স্যাম হার্পারকে দলে যোগ করে অস্ট্রেলিয়া। হার্পার গত মাসেও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন এবং সেঞ্চুরি করেন।
কিন্তু অণ্ডকোষের ক্যান্সার কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় গত ১৯ মাসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেননি ৩৪ বছর বয়সী ম্যাডিনসন। ক্যান্সারের আগে সবশেষ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে তার গড় ছিল স্রেফ ১৭.৮০।
এমন একজনকে হুট করে টেস্ট দলে ফেরানোয় তোলপাড় পড়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে। সাধারণত, প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য অস্ট্রেলিয়ার আলাদা কদর আছে ক্রিকেটবিশ্বে। কিন্তু ম্যাডিনসনের ক্ষেত্রে সেখানে দেখা গেছে চরম ব্যতিক্রম। এনিয়ে অস্ট্রেলিয়ান নির্বাচকদের কদিন আগে ধুয়ে দেন দলটির সাবেক ওপেনার ম্যাথু হেইডেন।
শুধু দলে নিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি অস্ট্রেলিয়া, প্রোটিয়াদের বিপক্ষে একাদশেও ম্যাডিনসনকে রাখে তারা। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ম্যাডিনসনের আগের টেস্ট ছিল ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে, পাকিস্তানের বিপক্ষে। তার দুই টেস্টের মাঝে বিরতি ৯ বছর ২৮৬ দিনের।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার চেয়ে বেশি বিরতি দিয়ে টেস্ট খেলার নজির আছে কেবল একজনের। দলটির সাবেক স্পিনিং অলরাউন্ডার বব সিম্পসনের দুই টেস্টের মাঝে বিরতি ছিল ৯ বছর ৩০৫ দিন।
