Published : 09 May 2026, 07:25 PM
দিনের খেলা শেষ হওয়ার পরপরই সংবাদ সম্মেলনে চলে এলেন সহকারী কোচ মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন। তখনও পর্যন্ত গোটা দিনের খেলা নিয়ে ড্রেসিং রুমে পর্যালোচনা হয়নি নিশ্চিতভাবেই। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের প্রথম প্রশ্নের উত্তরেই তিনি যা বললেন, তাতেই ফুটে উঠল সবটুকু চিত্র। ব্যাটিংয়ের ঘাটতি, বোলিংয়ের দুর্বলতা আর ঘুরে দাঁড়ানোর আশা, সবই শোনা গেল তার কণ্ঠে।
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় দিনটি পাকিস্তানের। ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনে অলআউট হয় ৪১৩ রানে। পাকিস্তান দিন শেষ করে ১ উইকেটে ১৭৯ রানে।
৯১ রান করা মুমিনুল হক প্রথম দিনের খেলা শেষে বলেছিলেন, দ্বিতীয় সকালে প্রথম ঘণ্টা নিরাপদে কাটিয়ে দিতে পারলে ৪০০ তো বটেই, ৫০০ রানও করতে পারে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস দিনের শুরুটা করেছিলেন প্রত্যাশামতোই। কিন্তু তার পরও ৫০০ বা ৪৫০ রানে যেতে পারেনি দল।
ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ওপর ভরসা ছিল প্রবল। তিন হতাশ করেছেন তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও নাহিদ রানা।
সহকারী কোচ দিন শেষে মেনে নিলেন দুই বিভাগেরই ঘাটতি।
“সকাল বেলা পাকিস্তান আসলে ভালো বোলিং করছে। আমাদের গড়াটা খুব কষ্ট ছিল। সেখান থেকে আমি মনে করি, আরেকটি ভালো জুটি হতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হতো। তবে দিন শেষে আমরা তো ৪০০ রান ছাড়িয়েছি! যদিও আমার মনে হয়, আরও ৫০-৬০ রান করলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো। বোলিংটা আমি মনে করি যে আমরা একটু এলোমেলো করেছি আজকে।”
যে উইকেটে বাংলাদেশের পেসত্রয়ী ধারহীন বোলিংয়ে রান বিলিয়েছেন, সেখানেই দিনের প্রথম ভাগে দারুণ বোলিং করেছেন মোহাম্মাদ আব্বাস। আগের দিন একটি উইকেট নিতে পারা পেসার এ দিন আরও চারটি শিকার ধরেন।
আব্বাসের বোলিংয়ের গতি বাংলাদেশের পেসারদের তুলনায় অনেক কম। ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার তিনি ছাড়াতে পারেন না বললেই চলে। কিন্তু কোন জায়গায় তিনি এগিয়ে ছিলেন, তুলে ধরলেন সহকারী কোচ সালাউদ্দিন।
“ও (আব্বাস) আসলে জায়গা ছাড়ে না। একটা ধারাবাহিকভাবে একই জায়গায় বল করতে পারে। এটা তার একটা শক্তির জায়গা। এই উইকেটে যেহেতু একটু মুভমেন্ট ছিল, ও সেটা খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। কালকে আমরা ভালোভাবে সামলাতে পেরেছিলাম।”

“আমার মনে হয় যে আজকে ব্যাটিং অর্ডারে (গভীরতা) একটু কম ছিল, মানে ব্যাটসম্যান কম ছিল, এই কারণে হয়তো ওরা সহজে পেরেছে। মুশফিক যদি আরেকটু লম্বা খেলতে পারত, তাহলে হয়তো বেশি হতাশ হতে হতো না।”
৪৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা মুশফিক আউট হয়েছেন ৭১ রানে। বেশ মন্থর ব্যাটিংও করেছেন তিনি। পাকিস্তানের অভিষিক্ত ওপেনার আজান আওয়াইস দিন শেষে অপরাজিত ৮৫ রানে। আরেক অভিষিক্ত আব্দু্লাহ ফাজাল দিন শেষ করেন ৩৭ রানে।
এমন অনভিজ্ঞ দুই তরুণের সামনেও কেন খাবি খেল বাংলাদেশের পেস বোলিং? সালাউদ্দিন একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারলেন।
“হতে পারে আসলে পুরোটাই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার। কারণ যখন দেখবেন উইকেটে ঘাস আছে, তখন বোলারদের রোমাঞ্চিত হওয়ার চান্স থাকে। আমার মনে হয় ওখানেই আমরা ভুলটা করেছি। আমাদের ভালো জায়গা ধরে রাখার খুব বেশি জরুরি ছিল, সেখানে হয়তো আমরা সেই ভুলটা করেছি।”
“যখন বল মুভ করছে, যখন জোরে যাচ্ছে, তখন যে কোনো বোলারই চিন্তা করে যে হয়তো আমি গতি দিয়ে তাকে পরাস্ত করে ফেলব। আমার মনে হয় পাকিস্তানের থেকে আমাদের গতি বা পেস একটু বেশি হয়ে গেছে। আমাদের ভালো জায়গায় বল করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে দিনটি হতাশার গেছে মানেই আশার শেষ দেখছেন না সালাউদ্দিন। টেস্টের তো মোটে দুটি দিন গেল। সহকারী কোচ বলছেন, দারুণভাবেই ম্যাচে ফিরবে দল।
“যেহেতু এটা টেস্ট ক্রিকেট, ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক সুযোগ আছে। আজকে আমরা এটা পুনরায় মূল্যায়ন করব, আসলে কোথায় বল করতে হবে এই উইকেটে, কোন জায়গায় করলে ব্যাটসম্যানকে আরও বেশি সমস্যায় ফেলা যাবে। আমি মনে করি, হয়তো আমরা কালকে আবার ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”