Published : 19 Jun 2026, 12:38 AM
ওভাল টেস্টে দারুণ একটি দিন কাটল নিউ জিল্যান্ডের। সকালের সেশনে অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে দলকে চারশর কাছে পৌঁছে দিলেন গ্লেন ফিলিপস। পরের দুই সেশনে বল হাতে তারা তুলে নিল ছয়টি উইকেট। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত হলো কিউইদের।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২২ রান। এখনও ১৬৯ রানে পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা।
দিনের শুরুটা হয় ফিলিপস ও কাইল জেমিসনের আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়ে। নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস থামে ৩৯১ রান।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে প্রথম দিন সফরকারীদের রান ছিল একপর্যায়ে ৪ উইকেটে ১০৭ ও ৭ উইকেটে ২৮০। অষ্টম উইকেটে ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৭ রানের জুটিতে দলকে চারশর কাছে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব ফিলিপস ও জেমিসনের।
সাত নম্বরে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ১৮ চারে ১৩৫ বলে ১০০ রান করেন ফিলিপস। নিউ জিল্যান্ডের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েন তিনি।
৯ নম্বরে জেমিসন ৭ চারে ৪৮ বলে করেন ৪১ রান।
৭ উইকেটে ২৯১ রান নিয়ে বৃহস্পতিবারের খেলা শুরু করে নিউ জিল্যান্ড। দিনের প্রথম বলে বাই থেকে আসে চার রান। পরের বলে বাউন্ডারি মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন ফিলিপস।
প্রথম ঘন্টায় ১৩ ওভারে ফিলিপস ও জেমিসন মিলে যোগ করেন ৭৪ রান। পানি পানের বিরতির পর জেমিসনকে ফিরিয়ে তৃতীয় শিকার ধরেন জ্যাকব বেথেল।
তখন ৮৩ রানে খেলা ফিলিপস সেঞ্চুরির ঠিকানায় পৌঁছে যান ম্যাট হেনরিকে সঙ্গী করে। ১৩৩ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তিনি। পরের বলে বিদায় নেন হেনরি। পরের ওভারে ফিলিপসকে ফিরিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন ম্যাথু ফিশার।
২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার পার্টটাইমার বেথেল।

জবাবে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় আশা জাগানিয়া। কিন্তু রান আউটে বিদায় নেন বেন ডাকেট (২৫ বলে ৩৬)। থামে ৪৫ রানের শুরুর জুটি।
বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বেথেল। ন্যাথান স্মিথের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি।
লর্ডসে প্রথম টেস্টে অভিষেকে ফিফটি করা এমিলিও গে এবারও বেশ ভালো ব্যাটিং করেন। জো রুটের সঙ্গে জমে ওঠে তার জুটি। টানা দ্বিতীয় ফিফটি করেন তিনি, ১১২ বলে। এরপর আর ইনিংস টেনে নিতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার (১১৪ বলে ৫৩)। তাকে ফিরিয়ে ৭৪ রানের জুটি ভাঙেন উইল ও’রোক।
ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রুট ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়ে ফেরেন ৪৬ রান করে। তিনি এলবিডব্লিউ হন হেনরির বলে। ১৪ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষাও বাড়ল রুটের, প্রয়োজন আর কেবল ২ রান।
হেনরির পরের ওভারে এলবিডব্লিউ হন ব্রুকও (৩২ বলে ২৪)।
১৭৭ রানে ৫ উইকেপ হারানো দলের স্কোর দুইশ পার করেন দুই অভিষিক্ত জর্ডান কক্স ও জেমস রু। ২৩ রানে রু জীবন পান রাচিন রাভিন্দ্রা ক্যাচ ফেলায়।
কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি রু (৫১ বলে ২৪)। তাকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় শিকার ধরেন ও’রোক।
জফ্রা আর্চারকে নিয়ে দিনের বাকিটুকু কাটিয়ে দেন কক্স।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯৬.২ ওভারে ৩৯১ (আগের দিন ২৯১/৭) (ফিলিপস ১০০, জেমিসন ৪১, হেনরি ৫, ও’রোক ০*; আর্চার ২০-৪-৬১-২, ফিশার ২৩.২-৬-৬২-২, টাং ২১-১-৯৭-১, বেকার ১৯-২-৯৪-২, ব্রুক ৩-০-৯-০, বেথেল ১০-১-২৬-৩)
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৫৯ ওভারে ২২২/৬ (ডাকেট ৩৬, গে ৫৩, বেথেল ৯, রুট ৪৬, ব্রুক ২৪, রু ২৪, কক্স ২২*, আর্চার ০*; হেনরি ১৬.৩-০-৫৭-২, জেমিসন ১২-২-৬৩-০, ও’রোক ১৭-২-৬১-২, স্মিথ ১৪-৫-৩৬-১)