Published : 17 May 2026, 08:48 PM
দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সেনসেশন এই সময়ে নিঃসন্দেহে নাহিদ রানা। গতির প্রবাহে তিনি ভাসিয়ে নিয়ে চলেছেন সবাইকে। আলাদা করে নজর কেড়েছেন তিনি গোটা ক্রিকেট বিশ্বেই। উঠতি তরুণ থেকে ক্রমেই হয়ে উঠছেন বড় তারকা। তবে সেই হাতছানি তাকে আকর্ষণ করছে না একটুও। বরং তার ভাবনাজুড়ে আছে কেবল মাঠের ভেতরে-বাইরে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন গড়ে উন্নতির পথে থাকার তাড়না।
গতি আর বাউন্স দিয়ে দেশের ক্রিকেটকে তিনি নাড়া দিয়েছিলেন আগেই। সময়ের সঙ্গে তার পারফরম্যান্স ভালো থেকে ক্রমে হয়ে উঠছে আরও ভালো। তাকে নিয়ে চারপাশে চলছে তোলপাড়। সঙ্গে বাড়ছে তাকে নিয়ে প্রত্যাশাও। যখন বল হাতে নামেন, রান আপে যখন ছুটতে থাকে, প্রতিবারই তার কাছে চাওয়া থাকে, বল হাতে তিনি গুঁড়িয়ে দেবেন প্রতিপক্ষকে।
তবে সেই শোরগোল তার কানে এলেও মনে ঢুকতে দিচ্ছেন না বলেই জানালেন নাহিদ। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তিন উইকেট নেওয়ার পর বললেন, প্রত্যাশার দুয়ার তিনি নিজের কাছেই বন্ধ করে রেখেছেন।
“আসলে আশেপাশে কী কথা হচ্ছে, এই জিনিসগুলো আমি দেখছি না। কারণ নিজের প্রতি প্রত্যাশা সেরকম নেই। প্রত্যাশা কখনও ভালো কিছু নিয়ে আসে না। আমি শুধু আমার স্কিল যেটা, সেই জিনিসটা মাঠে গিয়ে করে দেখানোর চেষ্টা করি এবং চেষ্টা করি যে, আমার দল আমার কাছ থেকে কী চায়, আমার অধিনায়ক আমাকে কী পরিকল্পনা দেয়।”
“এই ব্যাপারগুলো ঠিকঠাক করতে পারছি কি না, এসবের ওপরে আমার সবসময় মনোযোগ থাকে। আমার এই মনোযোগ এটা থাকে না যে বাইরের থেকে আমার প্রতি কতটা প্রত্যাশা রাখা হচ্ছে। কারণ, প্রত্যাশা যখন নিজের প্রতি নিজে রাখব, তখন সেটা বাড়তি চাপ। এই জিনিসটা (প্রত্যাশা) নিজের প্রতি নিজে রাখছি না। চেষ্টা করছি যতটুক পারা যায়, নিজের স্কিল অনুযায়ী দলকে সহায়তা করার।”
এভাবে যদি পারফর্ম করতে থাকেন, তাকে নিয়ে তোলপাড়ও বাড়তে থাকবে। তারকাখ্যাতিও ক্রমবে বাড়বে, হাতছানি খাকবে আরও অনেক কিছুর। তবে নাহিদকে সেই আলোচনায় খুব একটা আগ্রহী মনে হলো না।

“আসলে আগে থেকে চিন্তা বেশি কিছু চিন্তা করছি না। শুধু একটা ব্যাপারই চিন্তা করছি, সময়টা ভালো যাচ্ছে, উপভোগ করছি এবং চেষ্টা করছি যাতে দেশের জন্য কিছু ভালো কিছু করতে পারি।”
তিনি নিজে যেমন বলছেন, তাকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত অবশ্য দারুণ আশার কথাই বলেছেন তার সতীর্থ ও কোচরা। নানা সময়েই নানা জনে বলেছেন, নাহিদের ফিটনেস দুর্দান্ত, তার ওয়ার্ক এথিকস চমৎকার, বয়সের তুলনায় তার মানসিকতা পরিপক্ক এবং তার শেখার আগ্রহ তীব্র।
ফিটনেসের প্রসঙ্গে যেমন তার শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের কথা বলে থাকেন অনেকেই। একজন ফাস্ট বোলার বা এমন গতিময় তরুণ ফাস্ট বোলারের ক্ষেত্রে নিয়মিত ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, শরীরকে রিকভারির সময় দেওয়া, সবসময় সুশৃঙ্খল থাকা, সবকিছুই জরুরি।
নাহিদ জানালেন, নিজের জীবন তিনি ওইরকম ছকেই সাজিয়ে নিয়েছেন।
“ট্রেনার যারা আছে বিসিবিতে, তাদের সঙ্গে কথা বলি এবং চেষ্টা করি কীভাবে ভালো ট্রেনিং করা যায়, ভালো খাওয়া-দাওয়া এবং ভালো ঘুম। এই জিনিসগুলোয় সবসময় মনোযোগ দিয়ে থাকি যে, কীভাবে নিজের ফিটনেস আরও ভালো ওপরের লেভেলে নেওয়া যায়, সঙ্গে ভালো খাওয়া ও ভালো ঘুম, এই তিনটা চেষ্টা করছি ভালো করার। প্রক্রিয়ায় আছি, ভালো হচ্ছে।”
এই পথচলায় অনেকের সঙ্গে তিনি পাশে পাচ্ছেন তাসকিন আহমদকে। দেশের ক্রিকেটে তাসকিনের আবির্ভাবও গতির ঝড় তুলে। পরে চোটাঘাতে জর্জর হয়ে তার ক্যারিয়ার বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
নিজের জীবন থেকেই তাসকিন নানা সময়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানালেন নাহিদ।
“আমার সাথে উনার সম্পর্ক অনেক ভালো। একদম ছোট থেকে উনার খেলা দেখছি এবং যখন থেকে কাছ থেকে দেখছি… উনাকে একজন বড় ভাইয়ের নজরে দেখি এবং উনিও আমাকে সবসময় ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করেন।”
“আমার যে ভুলগুলা, সেগুলো তিনি আমাকে সবসময় বলেন যে, ‘রানা, এই এই জিনিসটা করলে তোমার জন্য ভালো।’ কারণ, উনি আমার বয়সটা পার করে গেছেন। উনি সবসময় আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করেন এবং আমি উনাকে সবসময় বড় ভাইয়ের মতোই দেখি। আমাদের সম্পর্কটা এরকম।”