Published : 16 Apr 2026, 05:34 PM
অনুশীলন শুরুর আগে এক দফায় উইকেট দেখলেন নিউ জিল্যান্ডের কয়েকজন ক্রিকেটার। শেষ দিকে দলবেঁধে উইকেট পর্যবেক্ষণ করলেন তারা লম্বা সময় ধরে। হয়তো কিছুটা অবাকও হলেন তারা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এমন উইকেট নিশ্চয়ই আশা করেননি তারা!
সেই কালচে উইকেট উধাও। বরং উইকেটে সবুজ ঘাসের ছোঁয়া। মিরপুরের চেয়ে বরং ওয়েলিংটন, ক্রাইস্টচার্চ, ডানেডিনের উইকেট হিসেবেই চালিয়ে দেওয়া যায় এটিকে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুসারীদের জন্য এটি বিস্ময়কর নয়। সবশেষ সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষেও এরকম উইকেটে খেলেই সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এবার প্রতিপক্ষ যখন নিউ জিল্যান্ড, কৌতূহল ছিল যে ভিন্ন কিছু হবে কি না। তবে তেমন কিছু হয়নি। উইকেট আছে আগের সিরিজের রূপেই।
বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য বুধবারই সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এবারও একইরকম উইকেটের আশা করছেন তারা। ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কণ্ঠেও সেই কথারই প্রতিধ্বনি। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে স্পিন সহায়ক উইকেটের পথে না হেঁটে স্পোর্টিং উইকেটে খেলার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন তারা।
“পাকিস্তান সিরিজে আমরা খুব ভালো উইকেটে খেলেছি এবং আমরা চেষ্টা করব এই সিরিজটাও ভালো উইকেটে খেলার জন্য। পুরো ব্যাপারটাই আসলে পারফরম্যান্সের ওপর। পাকিস্তান সিরিজে দ্বিতীয় ম্যাচে কিন্তু আমরা দ্রুত অলআউট হয়ে গেছি (১১৪ রানে), কিন্তু উইকেট তো ‘ট্রু’ ছিল। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ১১৪ রানে অল আউট হয়ে গেছে, কিন্তু ‘ট্রু’ উইকেটই ছিল।”
“ক্রিকেটাররা যদি সবাই পারফর্ম করতে পারে, উইকেটে অনেক সময় ম্যানেজ করে খেলতে হয়। কাজেই আমার কাছে মনে হয়, এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানসিকতার ওপর এবং কে কীভাবে অনুশীলন করছে, সেটার ওপর।”
দেশ ছাড়ার আগে টম ল্যাথাম বলে এসেছেন, বাংলাদেশের স্পিন চ্যালেঞ্জ সামলানোর প্রস্তুতি নিয়েই তারা আসছেন। উইকেট দেখার পর নিউ জিল্যান্ড অধিনায়কের স্বস্তিই পাওয়ার কথা। তবে অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, এখানে স্পিনারদের ভূমিকা কিছুটা হলেও থাকবে।
“উইকেটে তাকিয়ে মনে হচ্ছে, বেশ ভালো উইকেট এটি। তবে আমরা এটাও জানি, এই কন্ডিশনে স্পিনের ভূমিকা সবসময়ই থাকে। বাংলাদেশ এই মুহূর্তে দারুণ ক্রিকেট খেলছে এবং আমাদেরকে প্রবলভাবেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।”
উইকেটের চেয়েও ল্যাথামকে বেশি ভাবাচ্ছে অবশ্য আবহাওয়া। প্রচণ্ড গরমে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে তাদেরকে। এটা নিয়ে মজাও করলেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক।
“অবশ্যই এখানে গরম অনেক বেশি এবং নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এখানকার কন্ডিশন অনেক ভিন্ন। এর সঙ্গে যথাসম্ভব মানিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা আগামীকালের জন্য যতটা সম্ভব সতেজ ও প্রস্তুত থাকার চেষ্টা করছি। আমাদের সমস্ত প্রাণশক্তি আগামীকালের একশ ওভারের জন্য নিবদ্ধ থাকবে। স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকটি বেশি পানি পানের বিরতিও নিতে হতে পারে!”