‘জানি না ওর মাইন্ডসেট কী কাজ করে’, নাঈম শেখকে নিয়ে খালেদ মাহমুদ

ছোট ছোট ভুলগুলি মোহাম্মদ নাঈম শেখের ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি মনে করেন দুর্দান্ত ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Feb 2024, 01:09 PM
Updated : 4 Feb 2024, 01:09 PM

সিলেট স্ট্রাইকার্সের ১৪২ রান তাড়ায় তখন মাত্রই একটি উইকেট হারিয়েছে দুর্দান্ত ঢাকা। রিচার্ড এনগারাভার স্টাম্প সোজা লেংথ বল তেড়েফুঁড়ে ক্রস ব্যাটে খেললেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। যেন ওই শটে চার-ছক্কা না হলে ম্যাচই শেষ! ব্যাটে-বলে হলো না, পাওয়া গেল স্টাম্প ভাঙার আওয়াজ। সিলেটে ওই ম্যাচটির পর দুদিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও শটটি মানতেই পারছেন না নাঈমের কোচ খালেদ মাহমুদ।

গত শুক্রবারের ওই ম্যাচেই কেবল নয়, পারিপার্শ্বিকতার তোয়াক্কা না করে দৃষ্টিকটূ শটে নিজের উইকেট বিলিয়ে এসেছেন তিনি আগেও। এই বিপিএলেও আছে নমুনা। খালেদ মাহমুদ আঙুল তুলছেন সেদিকেই। জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়া এই ব্যাটসম্যানের সম্ভাবনা নিয়ে কোনো সংশয় নেই তার। কিন্তু শট নির্বাচনের দুর্বলতা ও ছোট ছোট কিছু ভুল তার ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন দুর্দান্ত ঢাকার কোচ।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৪০ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে এবারের বিপিএল শুরু করেন নাঈম। চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে প্রথম ম্যাচেই চমক উপহার দেয় নবীন দলটি। পরের দুই ম্যাচে নাঈম আউট হন ৮ ও ৯ রানে। এরপর খুলনার বিপক্ষে ঝড়ো শুরু করেও আউট হয়ে যান ২১ বলে ৪২ করে। সবশেষ ম্যাচে এনগারাভার বলে ওই ক্রস ব্যাটের শটে আউট হন ২ রান করে।

অধারাবাহিকতার ব্যাপারটি তো আছেই। তবে খালেদ মাহমুদ বিরক্ত নাঈমের শট নির্বাচনের দুর্বলতায়। বিসিবির এই পরিচালকের মতে, এখানে উন্নতি করতে না পারলে ২৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের ক্যারিয়ার এগোবে না।

“নাঈম শেখের ব্যাপারটি… সত্যি কথা বলতে এই ছেলেটির এত সামর্থ্য, ও নিজেও সেটা বোঝে কি না, আমি জানি না। যে ছেলে ২১ বলে ৪২ করতে পারে, পরের ম্যাচে আবার সোজা বলে ক্রস খেলে বোল্ড হয়ে যায়,… আমি জানি না, ও কোথায় বা মাইন্ডসেট কী কাজ করে। খেলা শেষে ও বুঝে যে, ওই শট খেলা উচিত হয়নি, ওই বোঝাটা… (মাঠে আসে না)…।”

“নাঈম শেখ এখন আর তরুণ ক্রিকেটার নয়। অনেক দিন ধরে বাংলাদেশ দলে খেলছে। এই ছোট ছোট ভুলগুলি ওদের নিজের ক্যারিয়ারের জন্যই হুমকি, সত্যি কথা বলতে।”

খালেদ মাহমুদের মতে, মোটামুটি কিছু সময় উইকেটে টিকে থাকতে পারলেই ব্যাট হাতে যথেষ্ট পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন নাঈম। তবে রানের ক্ষুধা তীব্র না থাকা ও শট নির্বাচনের ব্যর্থতার কারণেই তিনি প্রত্যাশিত জায়গায় নিজেকে নিতে পারছেন না।

“৫০ বল তো অনেক বেশি, নাঈম ৩০-৪০ বল খেললেই আমি খুশি। বলছি না যে নাঈম খারাপ ব্যাটিং করছে। আগ্রাসী ব্যাট করছে, ব্যাটে-বলে লাগছে ভালো, কুমিল্লা ও খুলনার সঙ্গে ম্যাচটাতে দারুণ ব্যাট করেছে। তবে আমার কথা হচ্ছে, একটা ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান প্রতি ম্যাচেই রান করতে চাইবে, তাই না? কিন্তু শট নির্বাচনের কথা বললাম। উইকেটে বল থেমে আসছে, তাহলে যদি আমি মারি (শট), তাহলে সোজা মারব, ক্রস কেন মারব? এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলি..।”

“নিজের দিনে নাঈম দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান। কিন্তু এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলি করে বলেই সে পিছিয়ে আছে জাতীয় দল থেকে।”

এখানে অবশ্য শুধু নাঈম নয়, দেশের অন্য অনেক ব্যাটসম্যানের ঘাটতির কথাও বললেন খালেদ মাহমুদ। দেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ সচেতনতার অভাব, পরিস্থিতি পড়তে পারার ব্যর্থতা, এসব নিয়ে বরাবরই উচ্চকিত ঘরোয়া ক্রিকেটে আরেক সফল কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। একই কথা খালেদ মাহমুদের কণ্ঠেও।

“যেটা আমি বললাম, যে পরিপক্কতা, আমাদের ব্যাটসম্যানদের উইকেট পড়তে পারার ক্ষমতা… বোলিং শক্তি অনুযায়ী, কত রান করলে আমরা নিরাপদ, লড়াই করতে পারি বা জিততে পারি কিংবা এই উইকেটে কীভাবে ব্যাট করলে আমরা ১৪০ তাড়া করতে পারি, কোনটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, নতুন বল খেলাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ…এই ব্যাপারগুলি যত তাড়াতাড়ি ওরা ধরতে পারবে, ততটা ওদের জন্য মঙ্গল। অনেক সময় চলে গেছে ওদের জন্য।”

“ব্যাটসম্যানদের আমি বলি যে, কিছু তো ‘আনপ্লেয়েবল’ ছিল বা কন্ডিশন কঠিন ছিল। তবে কিছু আমি মনে করি, ‘কেয়ারলেস’, দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং এবং বল নির্বাচনের ভুল। শীর্ষ পর্যায়ে এসে এগুলোকে আর অজুহাত বলতে পারবেন না। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সেভাবেই ব্যাট করতে হবে।”

শীতের সময়টায় স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া, উইকেট ব্যাটিং সহায়ক না থাকা, এসব অভিযোগ প্রায়ই তোলেন দেশের ব্যাটসম্যানরা। খালেদ মাহমুদ এখানে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলেন বিদেশি ব্যাটসম্যানদের। উইকেট-কন্ডিশনকে দায় দেওয়ার জায়গা খুব একটা দেখেন না এই বিসিবি পরিচালক।

“বিদেশি ক্রিকেটাররা তো এই কন্ডিশনে নিয়মিত খেলে না। ওরা তো করে দেখাচ্ছে। আমাদের স্থানীয় ছেলেরা বা দেশের ব্যাটসম্যানরা পারবে না, এটা আমাকে মাঝেমধ্যে চিন্তায় ফেলে। আসলে খেলার বোধ বা সবসময় যেটা বলি, ‘গেম সেন্স’… আমরা একই গতিতে ব্যাট করতে থাকি, যেটা কোনোদিনই হওয়া উচিত নয়। কোনোদিন হয়তো ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করবেন, কোনোদিন ২০০ হতে পারে, আবার কোনোদিন প্রাথমিকভাবে ৯০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে হবে। সেরকম চিন্তা বা মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।”