আইপিএল
Published : 16 Dec 2025, 03:46 PM
আইপিএলের নিলামে যখন নাম উঠল ক্যামেরন গ্রিনের, প্রথম বিডটি করল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। পরে যোগ দিল রাজস্থান রয়্যালস ও কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে দীর্ঘক্ষণ চলল তুমুল লড়াই। রাজস্থান যখন হাল ছাড়ল, কলকাতার সঙ্গে লড়াই শুরু করল চেন্নাই সুপার কিংস। শেষ পর্যন্ত চেন্নাইকেও হার মানতে হলো কলকাতার কাছে। রেকর্ড পারিশ্রমিকে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারকে দলে নিল তারা।
আবু ধাবিতে মঙ্গলবার গ্রিনকে ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনল কলকাতা। ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নিলাম থেকে সবচেয়ে বেশি মূল্যে বিদেশি খেলোয়াড়কে কেনার রেকর্ড এটি।
আকাশচুম্বি দামে বিক্রি হলেও, বিসিসিআইয়ের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিন পাবেন ১৮ কোটি রুপি। তার নিলাম মূল্যের বাকিটা (৭ কোটি ২০ লাখ রুপি) ভারতীয় বোর্ডকে দিতে হবে কলকাতার।
বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে আইপিএলের নিলামে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া রেকর্ডটি এতদিন ছিল মিচেল স্টার্কের। ২০২৪ আইপিএলের নিলামে অস্ট্রেলিয়ান তারকা পেসারকে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে কিনেছিল কলকাতা। সেবারই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে সাড়ে ২০ কোটি রুপিতে দলে টেনেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
আইপিএল নিলামে ২০ কোটি রুপির বেশিতে বিক্রি হওয়া তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান গ্রিন।
আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার রিশাভ পান্ত। গত আইপিএল নিলামে ভারতীয় কিপার-ব্যাটসম্যানকে ২৭ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল লাক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস।
মূলত পেস বোলিং অলরাউন্ডার হলেও ম্যানেজারের ভুলে এবারের আইপিএল নিলামে স্রেফ ‘ব্যাটার’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন গ্রিন। তার ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি রুপি।
গ্রিনকে নিয়ে নিলামে কাড়াকাড়ি হবে, এটা অনুমতিই ছিল। শেষ পর্যন্ত টেবিলের খেলায় জিতে ২৬ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে দলে যোগ করতে পারল আইপিএলের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা।
আইপিএলে রেকর্ড মূল্যে দল পাওয়া অবশ্য গ্রিনের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০২৩ আইপিএলের নিলামে সাড়ে ১৭ কোটি রুপিতে তাকে দলে নিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। আইপিএলের নিলামে অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ড ছিল সেটি। তখনও তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তেমন ছিল না।
অভিষেক আসরে অসাধারণ কিছু না করলেও বেশ ভালো ছিল তার পারফরম্যান্স। ৫০.২২ গড় ও ১৬০.২৮ স্ট্রাইক রেটে ৪৫২ রান করেন তিনি, উইকেট নেন ৬টি। এর মধ্যে ছিল ৪৭ বলে সেঞ্চুরির ইনিংসও।
পরের আসরে ২০২৪ সালে গ্রিনকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে ‘ট্রেড’ করে মুম্বাই। এবার নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। উইকেট ১০টি নিলেও রান করেন ৩১.৮৭ গড় ও ১৪৩.২৫ স্ট্রাইক রেটে ২৫৫।
পিঠের চোট থেকে সেরে ওঠার পথে থাকায় গত আইপিএলে খেলতে পারেননি গ্রিন। এবার তাকে পুরো ফিট অবস্থায় পাওয়ার আশা করতেই পারে কলকাতা।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ৬৩ ম্যাচ খেলেছেন গ্রিন। একটি সেঞ্চুরি ও আট ফিফটিতে রান করেছেন ১ হাজার ৩৩৪, স্ট্রাইক রেট ১৫১.০৭, ব্যাটিং গড় ৩৩.৩৫। বল হাতে নিয়েছেন ২৮ উইকেট।